2898 views

2 Answers

 কাঁকড়া (অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া বা সাগর

কাঁকড়া)  প্রকৃত পক্ষে কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত

সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড। এরা Xiphosura

(গ্রীক, xiphos, তলোয়ার এবং uros, লেজ) বর্গের

অর্ন্তভূক্ত। পৃথিবীব্যাপী ৩টি গনের অধীনে এদের ৪টি

জীবিত প্রজাতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের

গালফ উপকূল ও আটলান্টিক মহাসাগরে বসবাসরত

Limulus polyhemus ; জাপান, চীন এবং দক্ষিণ ছাবাহ

(মালয়শিয়া) অঞ্চলের Tachypleus tridentatus এবং

বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া,

চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বাসকারী

Tachypleus gigas ও সবচেয়ে ছোট প্রজাতি

Carcinoscorpius rotundicauda। প্রাগৈতিহাসিক এই

প্রাণীকে ’’জীবন্ত জীবাশ্ম’’ বলা হয় যা প্রায় ৫৫০

মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে

উৎপত্তি লাভ করেছে। এদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা

উন্নত হওয়ায় অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন ছাড়াই এরা

পৃথিবীতে টিকে আছে। ৪০ কোটি বছরেরও পুরানো রাজ

কাঁকড়ার জীবাশ্ম যেমন Mesolimulus walchii

(জার্মানীতে প্রাপ্ত) ও Austrolimus (অস্ট্রেলিয়ায়

প্রাপ্ত) বর্তমানকালের জীবিত প্রজাতিগুলোর প্রায়

সমরূপ। বর্ম বা শিরোস্ত্রান আকৃতির, বর্শায় ন্যায়

লেজযুক্ত এই চেলিসেরেটদের অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া

বলা হয় কারন এদের পৃষ্ঠীয় পেট (ক্যারাপেস) দেখতে

অশ্বখুরের মতো। এরা ক্যামব্রিয়ান  পিরিয়ড (৫৭ কোটি

বছর পূর্বে) শুরুর দিকে উদ্ভুত প্রাণীদের একটি প্রাচীন

শ্রেণি Merostomata এর অর্ন্তভূক্ত, এবং পারমিয়ান

পিরিয়ড (৩১ কোটি বছর পূর্বে) পর্যন্ত পৃথিবীর সাগর

মহাসাগরগুলোতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।

2898 views

রাজ কাঁকড়া হলো বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্ম!

2898 views