2 Answers
‘কোয়ান্টাম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরিমিতি। কারণ সুস্থ, সুন্দর ও সার্থক জীবনের জন্যে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ জীবনদৃষ্টি এবং সবকিছুর মধ্যে একটা পরিমিতি। আমাদের কাছে বর্তমানে কোয়ান্টামের অর্থ হচ্ছে সায়েন্স অফ লিভিং বা জীবন আচরণের বিজ্ঞান যা বলে দেয় জীবনটাকে কীভাবে সুন্দর করা যায়, ভুল থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়, আর ভালো বা কল্যাণ কত বেশি করা যায়। তাই আমরা কোয়ান্টামকে বলি জীবন যাপনের বিজ্ঞান, জীবন আচরণের বিজ্ঞান। জীবন যাপনের বিজ্ঞানের আলোয় আমরা আলোকিত হচ্ছি এবং আলোকিত করছি সাধারণ মানুষকে। পরিবর্তিত করছি নিজেদের এবং পরিচিত জনদের জীবনকে। এক কথায় কোয়ান্টাম মানে হচ্ছে ভালো থাকা। সবসময় ভালো আছি বলতে পারা। ইচ্ছেমতো নিজেকে বদলাতে পারা। নিজের চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করা। আর এর সবটাই সম্ভব, সবটাই বাস্তব। কোয়ান্টামের দুই দশকের ইতিহাস-ই তার প্রমাণ। আসলে জীবনটা খুব সহজ। জীবনে সুখী হওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ হতে হবে এমন কোন কথা নেই। জীবন ঝর্নার মতো গতিময় ও আনন্দোচ্ছল হয়ে উঠতে পারে যদি জীবনদৃষ্টি সঠিক হয়। জীবনদৃষ্টি সঠিক হলে সুপরিকল্পিতভাবে মনের অফুরন্ত শক্তিভান্ডারকে কাজে লাগিয়েই নতুন বাস্তবতা, নতুন সাফল্য নির্মাণ করা যায়।
কোয়ান্টাম শব্দটি নেয়া হয়েছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আগে বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত হতো নিউটনিয়ান মেকানিক্স দিয়ে। বিজ্ঞানী নিউটন এবং ম্যাক্সওয়েলের সূত্র অনুসরণ করে পদার্থবিজ্ঞান ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগে এক সুশৃঙ্খল বিশ্বদৃষ্টি উপস্থাপন করে। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সবকিছুই ছিলো এক নিয়মের অধীন, সবকিছুই হিসেব করে বলে দেয়া যেতো। সেখানে বিজ্ঞানীর কোনো ভূমিকা থাকলো না। বিজ্ঞানী ছিলেন একজন দর্শকমাত্র। আর পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে দর্শক-মন নিরপেক্ষ। অর্থাৎ মনের কোনো ভূমিকা আর থাকলো না। বিজ্ঞান থেকে মন নির্বাসিত হলো এবং বস্তুবাদের বিকাশ ঘটলো। পরমাণু পর্যন্ত নিউটনিয়ান মেকানিক্স ভালোভাবেই সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হচ্ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞান যখন পরমাণুর গভীরে বা সাবএটমিক লেভেলে ঢুকলো, তখন দেখা গেল একটা সাবএটমিক পার্টিকেল- পার্টিকেল ফর্মে আছে, না এনার্জি ফর্মে আছে তা হিসেব করে বলা যাচ্ছে না, দেখে বলতে হচ্ছে। যেকোনো সময় এটা পার্টিকেল ফর্মে থাকতে পারে, যেকোনো সময় এটা এনার্জি ফর্মে থাকতে পারে। এটাই হলো ওয়ার্নার হেইজেনবার্গের আনসারটেইনিটি প্রিন্সিপল। বিজ্ঞানে তখন আবার দর্শকের আগমন ঘটলো। কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিংশ শতাব্দিতে এসে বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে আবার বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করলো। বৈজ্ঞানিক চিন্তায় এই আমূল পরিবর্তন কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানীদের বিস্ময়াবিষ্ট করে তোলে এবং তারা মানব মন ও দর্শন সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়নে নিমগ্ন হন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে কোনো যুগেই নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানীরা এত বিপুল সংখ্যায় তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা- ফলাফলের দার্শনিক ও মানবিক মূল্যায়ন করে নিবন্ধ বা পুস্তক রচনা করেন নি। যেহেতু কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করলো, তাই চেতনার শক্তিকে, মনের অসীম ক্ষমতাকে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের সহজ ও পরীক্ষিত এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটির নামকরণ করা হয়েছে কোয়ান্টাম মেথড।