2 Answers

হজ্ব কিভাবে করতে হয় সেটা আপনি কোনো আলেম বা হজ্ব করা কারো কাছে জেনে নিন। অতটা বিস্তারিত ব্যাপার এখানে লেখা সম্ভবপর নয় আর লিখলেও আপনি সবটা বুঝবেননা। হজ এজেন্সি থেকেও এর ট্রেইনিং দেওয়া হয়। আপনি বিয়ের আগে হজ্ব অবশ্যই করতে পারবেন, হজ্বের শর্ত: ১। হজ্বে যাওয়ার মত আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য থাকতে হবে। ২। মানসিক ভাবে সুস্থ হতে হবে। পরবর্তী শর্তগুলো আপনি হজ্বের নিমের মধ্যেই পাবেন।

4720 views

হ্যাঁ আপনি বিবাহের পুর্বে হজ্জ করতে পারবেন ! হজ্জ (শর্ত ও নিয়ম) মানুষের মধ্য থেকে যে কাবা শরীফ গমন করার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে তার ওপর ওই গৃহের হজ্ব করা অবশ্য কর্তব্য। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘হজ্বের বিনিময় একমাত্র জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।’ ইসলাম ধর্ম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার মধ্যে হজ্ব ইসলামের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যা সক্ষম ব্যক্তির জীবনে একবারই ফরজ। হজ্ব আরবি শব্দ। অর্থ নিয়ত করা, দর্শন করা, সঙ্কল্প করা, এরাদা করা, গমন করা, ইচ্ছা করা, প্রতিজ্ঞা করাসহ ইত্যাদি। পরিভাষায় মাহে জিলহজ্বের ৯ তারিখ ইহরাম বেঁধে আরাফাতের মাঠে অবস্থানসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত কয়েকটি আমল যথাযথভাবে আদায় করে কাবা গৃহ তাওয়াফ করাকে হজ্ব বলে। হজ্বের ফরজ তিনটি-১· ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজ্বের নিয়ত করা। আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ওয়াল উমরাতা ওয়াজ জিয়ারাতা ফাইয়াস সিরহুলি ওয়াতাক্কাব্বালহু মিন্নি- অর্থ ‘ হে আল্লাহ! আমি হজ্ব উমরা এবং কাবাগৃহ তাওয়াফের জন্য নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল কর। ২· জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত্ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।’ ৩· তাওয়াফে জিয়ারাত অর্থাৎ মক্কা শরীফ পৌঁছার পর সর্বপ্রথম কাজটি হলো চারবার কাবাগৃহটি প্রদক্ষিণ করা আবার হজ্বের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরার সময় সর্বশেষ কাজ হলো তিনবার কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ করে রওনা হওয়া। হজ্বের ওয়াজিব কাজ সাতটি-১· সাফা ও মারওয়া উভয় পাহাড় সাতবার প্রদড়্গিণ করা। ২· মুজদালিফায় রাত যাপন করা। ৩· মিনায় তিনটি জামরাতে তিনদিনে প্রত্যেক জামরাতে ৭টি করে ৭*৭=৪৯টি পাথর শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপ করা, ৪· মিনার ময়দানে কোরবানি করা, ৫· মাথা মুণ্ড করা, ৬· ফরজ তাওয়াফ শেষে ৩ চক্কর দেয়া, ৭· বিদায়ী তাওয়াফ করা। ৯ জিলহজ্ব আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে হজ্বের ফরজ কাজ শুরু করা। জিলহজ্ব মাসের ৭ তারিখ বাদ জোহর কাবা শরীফের ইমাম সাহেব হাজী সাহেবদের হজ্ব পালনের নিয়ম-কানুন বিধি-বিধান উল্লেখ করে যে ভাষণ দিয়ে থাকেন। তারপর থেকেই হজ্ব পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়। হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সব হাজী সাহেবেরা ৭ তারিখ থেকে ৮ তারিখ রাতের মধ্যে কাবা শরীফ থেকে মিনার ময়দানে হাজির হতে হয়। ৯ তারিখ বাদ ফজর মিনার ময়দান থেকে জোহরের পূর্বেই আরাফাতের ময়দানে পৌঁছতে হয়। কারণ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজ্বের অন্যতম প্রধান ফরজ। আর বিশেষ করে জোহর এবং আসরের নামাজ মধ্যবর্তী সময়ে একত্রে পড়তে হয় আরাফাতের ময়দানে। প্রকাশ থাকে যে ৯ তারিখ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিফ ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ পাঠ করা ওয়াজিব। তা একাধিক বার পাঠ করা মোস্তাহাব উত্তম, অধিক পাঠে কোনো দোষ গুণাহ হয় না। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে অযু-গোসলের প্রয়োজন হলে তা সেরে নিবে। এরপর ইমাম সাহেব যে খোতবা পেশ করবেন তা ধৈর্য সহকারে শুনতে হবে। খোতবা শেষে নামাজের পর সূর্যাস্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। এর মাঝে তালবিয়া, তাকবির ধ্বনি, কুরআন পাঠ, দরুদ শরিফ পাঠ করে শেষ পর্যায়ে হৃদয় বিদারক, প্রাণকাড়া, অশ্রুঝরা, ভারাক্রান্ত অন্তর নিয়ে দু’হাত তুলে প্রথমে নিজের গুনাহ মাফসহ সারা বিশ্বের সকল মুসলিম জাতির গুনাহ মাফসহ বিশেষ কল্যাণের জন্য দোয়া প্রার্থনা করবে। কোনো প্রকারেই সূর্যাস্তের পূর্বে এখান থেকে বেরিয়ে পড়বে না। যেহেতু সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজ্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। ৯ তারিখ রাত মুজদালিফার মাঠে অবস্থান করা ওয়াজিব। সূর্যাস্তের সাথে সাথে আরাফার ময়দান থেকে বাহির হয়ে মুজদালিফার দিকে চলতে হয়। মুজদালিফার মাঠে পৌঁছার পর অযু-গোসল করে মাগরিব ও এশার নামাজ মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করে তথায় রাত যাপন করতে হয়। এ রাতটি যেহেতু শবে কদর রাত অপেক্ষা উত্তম। সেহেতু মন ভরে সারাটি রাত এবাদত করা অতি উত্তম। পরবর্তী দিনে মিনা ময়দানের জামরাতে নিক্ষেপের জন্য ৫৫-৬০টি পাথর এখান থেকেই সংগ্রহ করে নেয়া ভালো। তবে সাবধান ও বিশেষ সতর্ক এই যে, মিনার ময়দানে নিক্ষিপ্ত স্থান থেকে পাথর সংগ্রহ করে নিক্ষেপ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুজদালিফার ময়দানে খুব ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা এবং বিভিন্ন তাসবিহ তাহলিলের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করে সূর্য উদয়ের কিছু পূর্বে মিনার ময়দানের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়। যেহেতু মুজদালিফায় রাতে অবস্থান করা ওয়াজিব, সেহেতু রাতের অন্ধকারে এ স্থান ত্যাগ করা যাবে না। নচেৎ ওয়াজিব তরফ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত কোরবানি দেয়া ওয়াজিব হবে। ১০ জিলহজ্ব মিনার ময়দানে কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানি করা। ১০ জিলহজ্ব বাদ ফজর মুজদালিফা থেকে মিনার ময়দানের দিকে রওনা দিতে হয়। মিনার ময়দানে পৌঁছার পর জোহর নামাজের পূর্বে বড় জামরাতে ৭টি পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। এখানে পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। পাথর নিক্ষেপের নিয়ম হলো পাথরটি শাহাদাত ও বৃদ্ধা দুই আঙুলিতে ধরে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ‘বিছমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে ঈমানের দৃঢ়তার সাথে নিক্ষেপ করতে হয়। পাথর নিক্ষেপের সময় খুব জোরেও না আবার খুব আস্তেও না, মাঝামাঝি অবস্থায় নিক্ষেপ করতে হবে। যাতে নির্দিষ্ট বৃত্তের ভেতরেই পাথরটি নিক্ষিপ্ত হয়। আর পাথর নিক্ষেপের সময় ঘুরে ঘুরে নিক্ষেপের চেষ্টা করবে। একই স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে নিক্ষেপের চেষ্টা করবে না। নচেৎ মানুষের ভিড়ে পদতলে পিষ্ট হতে হবে। ১০ জিলহজ্ব তারিখ বড় জামরাতে ৭টি পাথর নিক্ষেপ করার পরপরই কোরবানি করতে হয়। কোরবানি করা ওয়াজিব, কোরবানির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। নিজে কোরবানি করাটাই অতি উত্তম। বর্তমানে মিনার ময়দানে কোরবানির জন্য সরকারি পর্যায় ব্যাংকিং অবস্থা চালু হয়েছে। অনেকেই কোরবানির টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে মাথা মুণ্ডন করে হালাল হওয়ার চেষ্টা করে। আসলে এটি ভুল চেষ্টা করা হয়। কারণ হালাল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো কোরবানি করা। এখান যিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিলেন, তিনি কি নিশ্চিত হতে পেরেছেন যে তার কোরবানি পরিপূর্ণ হয়েছে। সেজন্যই আমি হাজী সাহেবদের পরামর্শ দিয়ে থাকি আপনারা কষ্ট হলেও নিজ হাতে কোরবানি দিয়ে হালাল হওয়ার চেষ্টা করবেন। ১০ জিলহজ্ব মুজদালিফা থেকে মিনার ময়দানে পৌঁছার পর প্রথম বড় জামরাতে ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা। এরপর কোরবানি করা, এরপর মাথা মুণ্ডন করা এই তিন কাজ করা ওয়াজিব, অতঃপর তাওয়াফে জিয়ারাত ফরজ কাজটি সম্পাদন করে হজ্বের কাজ শেষ হয়ে যায়। এই তাওয়াফের পরই এহরাম থেকে হালাল হওয়া এবং স্ত্রী সম্ভোগ করা যায়। ১১ জিলহজ্ব মিনায় রাতে অবস্থান-১১ তারিখ মিনার ময়দানে তিনটি জামরাতে ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। প্রথম ছোটটি থেকে শুরু করতে হয়। দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর নিক্ষেপ করা সুন্নাত সময়। দুপুরের পূর্বে নিক্ষেপ করা যাবে না। ১২ জিলহজ্ব মিনার ময়দানে পাথর নিক্ষেপ- ১২ তারিখ দুপুরের পর তিনটি জামরাতে সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে না পারে, তবে ১৩ তারিখ দুপুরের পর পাথর নিক্ষেপ করে সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনার ময়দান ত্যাগ করতে হয়। তবে দুপুরের আগে পাথর নিক্ষেপ করে মিনা ময়দান ত্যাগ করা সঙ্গত নয়। ১৩ জিলহজ্ব হজ্বের অন্য কোনো জরুরী কাজ বাকি থাকে না। এদিন থেকে ইচ্ছা করলে উমরা পালনসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত অধিক পরিমাণে করা ভালো। ১৪ জিলহজ্ব মসজিদে আয়শা (রাঃ) থেকে এহরাম বেঁধে উমরা হজ্ব করা যেতে পারে। বিদায়ী তাওয়াফ- পবিত্র হজ্ব পালনে মক্কা শরীফ গমনে হজ্বের সকল ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও মুস্তাহাব কার্যাবলী সমাধান করার পর দেশে ফিরে আসার সময় কাবা শরীফ থেকে বিদায়ের আগে বিদায়ী সর্বশেষ তাওয়াফ করা ওয়াজিব। কাবাগৃহ থেকে বিদায়ের সময় আবেগের সাথে বিয়োগ- বিরহের বেদনার সঙ্গে কান্না ঝরা কণ্ঠে দোয়া প্রার্থনার মাধ্যমে ফিরে আসা উত্তম। আর ফিরে আসার সময় বিশেষ করে কাবার দিকে বার বার তাকিয়ে প্রেম নিবেদন করে পুনরায় আগামী বছর আসার জন্য আশা পোষণ করতে থাকবে। হজ্বের ত্রুটির জন্য কাফফারা- হজ্ব পালন অবস্থায় যেসব কাজ নিষেধ, বিনা ওজরে কেহ যদি এর কোনো একটিও করে ফেলে তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। আর তার প্রতিকার হলো একটি অতিরিক্ত কোরবানি করা। হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্ত- ১· মুসলমান হওয়া, ২· প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া, ৩· জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া, ৪· আজাদ হওয়া, ৫· সুস্থ হওয়া, ৬· সম্পদশালী হওয়া, ৭· পথ নিরাপদ হওয়াসহ ইত্যাদি। ইহরাম অবস্থায় বর্জনীয়- ১· সুগন্ধি ব্যবহার করা, ২· পুরুষরা সেলাই করা কাপড় পড়া, ৩· পুরুষদের মাথা ও চেহারা ঢেকে রাখা, ৪· মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখা, ৫· শরীরের চুল, পশম, দাঁড়ি, গোঁফ নখ ইত্যাদি কাটা, ৬· স্বামী-স্ত্রীর মিলন, ৭· কোন প্রাণী শিকার করা, ৮· গাছ তরুলতা ছেঁড়া, কাটা ইত্যাদি কাজগুলো করা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ।

4720 views

Related Questions