4150 views

1 Answers

নারীদের স্বাভাবিক ঋতুচক্র প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত। এতে এমন কিছুদিন রয়েছে, যাকে নিরাপদ দিন বা সেফ পিরিয়ড বলা হয়। এ দিনগুলোতে সহবাস করলেও গর্ভধারণের ঝুঁকি থাকে না। সেফ পিরিয়ডের দিনগুলোও প্রকৃতিগতভাবে নির্দিষ্ট। এ কারণেই একে প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা বলা যেতেই পারে। চিকিৎসকেরা একে অনেক সময় ক্যালেন্ডার পদ্ধতিও বলে থাকেন। এ পদ্ধতি কার্যকর করতে অবশ্যই জানা দরকার ঋতুচক্রের নিরাপদ দিন কোনগুলো। এ পদ্ধতির জন্য সবার আগে জানতে হবে মাসিক ঋতুচক্র নিয়মিত হয় কিনা। হলে তা কত দিন অন্তর হয়। সবচেয়ে কম যত দিন পর পর মাসিক হয়, তা থেকে ১৮ দিন বাদ দিতে হবে। পিরিয়ড শুরুর প্রথম দিন থেকে এ দিনটিই হলো প্রথম অনিরাপদ দিন। আবার সবচেয়ে বেশি যতদিন পরপর পিরিয়ড হয়, তা থেকে ১০ দিন বাদ দিলে মাসিক শুরুর প্রথম দিন থেকে এ দিনটিই হলো শেষ অনিরাপদ দিন। ধরুন আপনার পিরিয়ড ২৮ থেকে ২০ দিন অন্তর হয়। তবে ২৮-১৮=১০, অর্থাৎ পিরিয়ড শুরুর পর থেকে প্রায় নয় দিন আপনার জন্য নিরাপদ, এ দিনগুলোতে কোনও পদ্ধতি ব্যবহার না করেও সহবাস অনায়াসেই করা সম্ভব। ১০ নম্বর দিন থেকে অনিরাপদ দিন শুরু। তাই এ দিন থেকে সহবাসে সংযত হতে হবে। ৩০ দিন হল দীর্ঘতম মাসিকচক্র। তাই ৩০-১০=২০, অর্থাৎ ২০ নম্বর দিনটিই হল শেষ অনিরাপদ দিন। ২১তম দিন থেকে আবার অবাধে সহবাস করা যেতে পারে। এতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা নেই। তবে, এতে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে অবাধ সহবাসের ফলে গর্ভধারন হতে পারে। এ বিষয়েটি সহজভাবে বোঝালে পিরিয়ড শুরুর প্রথম সাত দিন ও শেষের প্রথম সাত দিন সহবাস করা নিরাপদ। তবে পিরিয়ড নিয়মিত না হলে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে না। এছাড়া প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ৮০ শতাংশ নিরাপদ। সাধারণত পিরিয়ডের হিসাবে গন্ডগোল, অনিরাপদ দিবসে সহবাস, অনুমিত পিরিয়ডের ফলে প্রাকৃতির গর্ভনিরোধকের পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। তাই সঠিকভাবে জানতে একবার অন্তত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। আবার কিছু পুরুষের শুক্রাণুর আয়ু বেশি হওয়ায় তারা এতে সাফল্য নাও পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অনুরাপদ দিবসে দুই দিন বাড়িয়ে নেয়া প্রয়োজন। একে অনেকে প্রোগ্রামড সেক্স বলে। অনেকেই এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করেন, কিন্তু একবার এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। (ঢাকাটাইমস/১৬ জুলাই/এজে)

4150 views

Related Questions