2 Answers

মাথার সম্মুখ থেকে পিছনে নিয়ে সেখান থেকে পুনরায় সামনে এনে একবার মাসাহ করাই রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের নিয়মিত সুন্নাত। আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ) থেকে মাথা মাসাহের পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন, পানি নিয়ে দু’হাতের ভিজা আংগুলগুলি মাথার সম্মুখ হ’তে পিছনে ও পিছন হ’তে সম্মুখে বুলিয়ে একবার পুরো মাথা মাসাহ করবে’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪১৫; আবুদাঊদ হা/১১৮, মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৯৩-৯৪) । তবে তিনবার মাসাহ করা বিষয়ে ওছমান (রাঃ) থেকে একটি আমল পাওয়া যায় (আবুদাঊদ হা/১০৭, ১১০) ।

2992 views

মাথা মাসাহ করা সঠিক নিয়মঃ ইমানের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো “সালাত” বা নামায। অথচ, আমাদের ব্যক্তিগত উদাসীনতা, স্বল্পশিক্ষিত হুজুর আর “নূরানী নামায শিক্ষা” নামক বইয়ের ভুল শিক্ষার কারণে সালাতে আমাদের মাঝে কত ভুল বিদ্যমান। মাথা মাসাহ করা নিয়ে আমাদের মাঝে যে ভুল গুলো প্রচলিত সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। প্রথম কথা হলো, মাথা মাসাহ করতে হবে একবার, তিনবার না। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ওযুর অংগসমূহ কখনো একবার, কখনো দুইবার আবার কখনও তিনবারও ধৌত করতেন। কিন্তু মাথা মাসাহ করতেন একবার। (দেখুন মিশকাত, হাঃ ৩৯৩-৩৯৪) দ্বিতীয়ত, মাথা মাসাহ করার সময় ঘাড় মাসাহ করা বেদাত। রাসুল (সাঃ) কখনোই ঘাড় মাসাহ করতেন না, তাই ঘাড় মাসাহ করা রাসুল (সাঃ) তরীকার বিরোধী যা নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য। তৃতীয় ভুলঃ নূরানী নামায শিক্ষা বা মকসুদুল মুমিনীন এই সমস্ত বইয়ে একটা কথা লেখা থাকে, মাথার চার ভাগের এক ভাগ বা তিন ভাগের এক ভাগ মাসাহ করা ফরয। এই কথার কোনো ভিত্তি নেই, বরং রাসুল (সাঃ) সমস্ত মাথাই মাসাহ করতেন। সুতরাং সমস্ত মাথা মাসাহ করাই ফরয। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে মাথা মাসাহ করতেনঃ তিনি (সাঃ) দুই হাতের ভেজা আংগুল দিয়ে মাথার সামনে হতে পেছনে ও পুনরায় পেছন থেকে সামনে বুলিয়ে পুরো মাথা একবার মাসাহ করতেন। একই সাথে ভেজা শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে কানের ভেতর অংশ এবং বুড়ো আংগুল দিয়ে কানের বাইরের অংশ মাসাহ করতেন। মাথায় পাগড়ি থাকলে পাগড়ির নীচ দিয়ে মাথার সামনের অংশ মাসাহ করে বাকি অংশ পাগড়ির উপর দিয়ে হাত বুলিয়ে সমস্ত মাথা মাসাহ করে নিতেন।

2992 views

Related Questions