1 Answers
তাক্বদীরের স্তর চারটি। মূলতঃ এই চারটি স্তরের উপর তাক্বদীরের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত বলে অনেকেই এগুলিকে তাক্বদীরের রুকন বা স্তম্ভ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।[19] এগুলিকে আবার তাক্বদীর উপলব্ধির প্রবেশদ্বারও বলা হয়। সেজন্য প্রত্যেক মুসলিমের এ চারটি স্তর সম্পর্কে অন্ততঃ প্রাথমিক জ্ঞানটুকু থাকা অতীব যরূরী। এগুলির একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে ব্যক্তি এই চারটি স্তরের প্রত্যেকটি জানবে এবং বিশ্বাস করবে, তাক্বদীরের প্রতি তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এই চারটির কোন একটি বা একাধিক অমান্য করবে, তাক্বদীরের প্রতি তার ঈমান ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে।[20] ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই চারটি স্তরে বিশ্বাসী নয়, সে মূলতঃ তাক্বদীরকেই বিশ্বাস করে না’।[21] নিম্নে উক্ত চারটি স্তরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলঃ প্রথম স্তর: সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ্র চিরন্তন জ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনঃ একথার অর্থ হচ্ছে, সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ্র পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে এমর্মে আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাস করতে হবে। যা কিছু ঘটেছে এবং যা কিছু ঘটবে, সে সম্পর্কে তিনি জানেন। আর যা ঘটেনি, তা যদি ঘটত, তাহলে কিভাবে ঘটত, তাও তিনি জানেন। সৃষ্টির ভাল-মন্দ, আনুগত্য-অবাধ্যতা ইত্যাদি সার্বিক কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি খবর রাখেন। তাদের যাবতীয় অবস্থা, হায়াত-মউত, আয়ূস্কাল, রিযিক্ব, নড়াচড়া, স্থির থাকা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি সম্যক অবগত। তাদের মধ্যে কে দুর্ভাগা ও কে সৌভাগ্যবান হবে, বরযখী জীবনে তাদের ভাগ্যে কি ঘটবে, পুনরুত্থানের পরে তাদের কি হবে ইত্যাদি সব বিষয়েই তিনি চিরন্তন জ্ঞানের অধিকারী।[22] ইবনে তায়মিইয়াহ (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাদেরকে এ বিশ্বাস করতে হবে যে, সৃষ্টি জীব কি করবে, সে বিষয়ে আল্লাহ তাঁর চিরন্তন জ্ঞানের মাধ্যমে চিরস্থায়ীভাবে সম্যক অবগত। তিনি তাদের সৎকাজ, পাপকাজ, রিযিক্ব, আয়ূসহ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ওয়াক্বিফহাল’।[23] উছমান ইবনে সাঈদ (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, সৃষ্টি জীবকে সৃষ্টির আগে থেকেই আল্লাহ তাদের সম্পর্কে ও তাদের আমল সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও জ্ঞাত থাকবেন। সৃষ্টি জগতকে সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন জ্ঞানের সাথে একটি সরিষার দানা পরিমাণও যোগ হয় নি’।[24] মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ۚ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۚ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ﴾ [سورة الأنعام: 59] ‘তাঁর কাছেই গায়েবী বিষয়ের চাবিসমূহ রয়েছে; এগুলি তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে, তিনিই জানেন। তাঁর জানার বাইরে (গাছের) কোন পাতাও ঝরে না। তাক্বদীরের লিখন ব্যতীত কোন শস্যকণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুষ্ক দ্রব্যও পতিত হয় না’ (আন‘আম ৫৯)। অন্যত্রে তিনি বলেন, ﴿إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ﴾ [سورة لقمان: 34] ‘নিশ্চয় আল্লাহ্র কাছেই ক্বিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোথায় সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত’ (লুক্বমান ৩৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ﴿عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ ۙ وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ ۙ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ﴾ [سورة المزمل: 20] ‘তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে যমীনে বিচরণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদে লিপ্ত হবে’ (মুয্যাম্মেল ২০)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ﴿هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ﴾ [سورة الحشر: 22] ‘তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ, যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত’ (হাশর ২২)। হাদীছে এসেছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যখন মুশরিকদের ছেলে-মেয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তারা বেঁচে থাকলে কি আমল করত, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত’।[25] ইমরান ইবনে হুছাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, এক ব্যক্তি রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী তা কি পরিজ্ঞাত বিষয়? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। লোকটি বললেন, তাহলে মানুষ কেন আমল করবে? তিনি বললেন, «كُلٌّ يَعْمَلُ لِمَا خُلِقَ لَهُ أَوْ لِمَا يُيَسِّرُ لَهُ» ‘যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে বা যার জন্য যা সহজ করা হয়েছে, সে তা-ই করবে’।[26] এরকম অসংখ্য আয়াত এবং হাদীছ রয়েছে, যেগুলি সর্ব বিষয়ে মহান আল্লাহ্র চিরন্তন জ্ঞানের প্রমাণ বহন করে। দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহ তাঁর চিরন্তন জ্ঞান অনুযায়ী লাউহে মাহ্ফূযে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সবই লিখে রেখেছেন এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করাঃ[27] অর্থাৎ আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাস করতে হবে যে, মহান আল্লাহ লাউহে মাহফূযে তাঁর চিরন্তন জ্ঞান মোতাবেক সৃষ্টিজগতের সবকিছুর তাক্বদীর কলম দ্বারা বাস্তবেই লিখে রেখেছেন; তাঁর চিরন্তন জ্ঞানের কোন কিছুই এই লেখনী থেকে বাদ পড়ে নি। আর লাউহে মাহ্ফূযের এই লিখন ছিল আসমান-যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাযার বছর পূর্বে। তখন আল্লাহ কলম সৃষ্টি করে তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সবকিছু লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।[28] ইবনে তায়মিইয়াহ (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অতঃপর তিনি লাউহে মাহ্ফূযে সৃষ্টির তাক্বদীর লিখেন। সর্বপ্রথম তিনি কলম সৃষ্টি করে তাকে বলেন, লিখ। সে বলে, আমি কি লিখব? আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, তার সবই লিখ’।[29] মহান আল্লাহ বলেন, ﴿أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ [سورة الحج: 70] ‘তুমি কি জান না যে, আসমান-যমীনে যা কিছু আছে, সব বিষয়ে আল্লাহ জানেন। এ সবকিছুই কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহ্র কাছে সহজ’ (হাজ্জ ৭০)। অন্যত্র মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ﴿مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ [سورة الحديد: 22] ‘যমীনে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর এমন কোন মুছীবত আসে না, যা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহ্র পক্ষে সহজ’ (আল-হাদীদ ২২)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আছ (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেন, ‘আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, ‘আসমান-যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাযার বছর পূর্বে আল্লাহ সবকিছুর তাক্বদীর লিখে রেখেছেন। তিনি বলেন, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে’।[30] ইমরান ইবনে হুছাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ ছিলেন; তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না। আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর আল্লাহ আসমান-যমীন সৃষ্টি করলেন এবং লাউহে মাহ্ফূযে সবকিছু লিখে রাখলেন’।[31] তাক্বদীর লিপিবদ্ধের পাঁচটি পর্যায়ঃ প্রথম পর্যায়ঃ আসমান-যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাযার বছর পূর্বে আল্লাহ লাউহে মাহ্ফূযে সবকিছুর তাক্বদীর লিখে রাখেন। লাউহে মাহ্ফূযে বান্দার ভাগ্যে ভাল বা মন্দ যা-ই লিখে রাখা হয়েছে, তা-ই সে পাবে। ইমরান ইবনে হুছাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-এর হাদীছদ্বয়ে আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। দ্বিতীয় পর্যায়ঃ আল্লাহ বনী আদমকে তাদের পিতা আদম (‘আলাইহিস্সালাম)-এর পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করে তাদের নিকট থেকে এমর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তারা যেন তাঁর সাথে শিরক না করে। এসময় তিনি তাদের সবাইকে দু’বার দু’মুষ্টিতে নিয়েছিলেন এবং এক মুষ্টিকে জান্নাতবাসী আর অপর মুষ্টিকে জাহান্নামবাসী হিসাবে লিখে রেখেছিলেন। এই লিখন ছিল লাউহে মাহ্ফূযে লিখনের পরের স্তরে।[32] মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۛ شَهِدْنَا ۛ أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَٰذَا غَافِلِينَ﴾ [سورة الأعراف: 172] ‘আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদেরকে বের করলেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি; যাতে ক্বিয়ামতের দিন এ কথা না বলতে পার যে, আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে বেখবর। ’ (আল-আ‘রাফ ১৭২)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ অন্ধকারে তাঁর সৃষ্টিকে সৃষ্টি করে স্বীয় নূরের আলোচ্ছটা দিলেন। ঐদিন যাকে আল্লাহ্র নূরের আলোচ্ছটা স্পর্শ করেছে, সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে, যাকে স্পর্শ করেনি, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। সেজন্যই তো আমি বলি, কলম শুকিয়ে গেছে’।[33] মনে রাখতে হবে, একদলকে জান্নাতী এবং অপর দলকে জাহান্নামী হিসাবে লিখে দেওয়া অথবা একদলকে আল্লাহ্র নূরের আলোচ্ছটা স্পর্শ করা এবং আরেক দলকে স্পর্শ না করার বিষয়টি এলোপাতাড়ি কোন বিষয় নয়; বরং আল্লাহ্র চিরন্তন জ্ঞান, ইচ্ছা এবং তাঁর পরিপূর্ণ ন্যায় ও ইনছাফের উপর ভিত্তি করেই তা সংঘটিত হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ঃ মানুষ মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় আল্লাহ্র নির্দেশে ফেরেশতা এসে তার আয়ূ, কর্ম, রিযিক্ব এবং সে সৌভাগ্যবান নাকি দুর্ভাগা, তা লিখে দেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, «إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِى بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ مَلَكًا ، فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ ، وَيُقَالُ لَهُ اكْتُبْ عَمَلَهُ وَرِزْقَهُ وَأَجَلَهُ وَشَقِىٌّ أَوْ سَعِيد» ‘তোমাদের যে কাউকে চল্লিশ দিন ধরে তার মায়ের পেটে একত্রিত করা হয়, তারপর অনুরূপ চল্লিশ দিনে সে জমাটবদ্ধ রক্ত হয় এবং তারপর অনুরূপ চল্লিশ দিনে সে মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। অতঃপর চারটি বিষয়ের নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা পাঠান এবং তার রিযিক্ব, দুনিয়াতে তার অবস্থানকাল, তার আমলনামা এবং সে দুর্ভাগা হবে না সৌভাগ্যবান হবে তা লিখে দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়’।[34] লাউহে মাহ্ফূযের লিখন ছিল সমগ্র সৃষ্টিকুলের; কিন্তু মায়ের পেটের এই লিখন শুধুমাত্র মানুষ জাতির জন্য নির্দিষ্ট।[35] চতুর্থ পর্যায়ঃ প্রত্যেক ক্বদরের রাতে ঐ বছরের সবকিছু লেখা হয়। লাউহে মাহফূযের লিখন অনুযায়ী আল্লাহ ফেরেশতামণ্ডলীকে ঐ বছরের সবকিছু লিখতে নির্দেশ দেন। ইহাকে বাৎসরিক তাক্বদীর বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ, فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ﴾[سورة الدخان: 3-4] ‘আমি একে নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়’ (দুখান ৩-৪)।[36] ইবনে আব্বাস বলেন, ক্বদরের রাতে লাউহে মাহফূযের লিখন অনুযায়ী ঐ বছরের জন্ম, মৃত্যু, রিযিক্ব, বৃষ্টি ইত্যাদি সবকিছু আবার লেখা হয়। এমনকি ঐ বছর কে হজ্জ করবে আর কে করবে না, তাও লিখে রাখা হয়।[37] পঞ্চম পর্যায়ঃ পূর্বের লিখিত তাক্বদীর অনুযায়ী প্রত্যেক দিন সবকিছুকে নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়। ইহাকে প্রাত্যহিক তাক্বদীর বলে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ﴾ [سورة الرحمن: 29] ‘তিনি প্রতিদিন কোন না কোন কাজে রত আছেন’ (রহমান ২৯)।[38] ইবনে জারীর (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলে ছাহাবায়ে কেরাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, প্রত্যেক দিন তিনি কি করেন? রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কাউকে ক্ষমা করেন, কারো বিপদাপদ দূর করেন, কারো মর্যাদা বৃদ্ধি করেন আবার কারো মর্যাদার হানি করেন।[39] তাক্বদীর লিপিবদ্ধের এই পাঁচটি পর্যায়ের শেষোক্ত চারটি পর্যায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বান্দার বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতামণ্ডলীকে তাঁদের স্ব-স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা[40] এবং এগুলি লাউহে মাহফূযে লিখিত তাক্বদীরের বাইরে নয়; বরং এগুলি লাউহে মাহফূযের তাক্বদীরেরই অন্তর্ভুক্ত।[41] শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিইয়াহ (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ফেরেশতামণ্ডলীকে আল্লাহ তাক্বদীরের যেসব বিষয়ে অবহিত করান, তাঁরা কেবল সেগুলিই জানেন; সেগুলির বাইরে কিছুই জানেন না। যেমন: বান্দার মৃত্যু, রিযিক্ব, সে সৌভাগ্যবান নাকি দুর্ভাগা ইত্যাদি।[42] উল্লেখ্য যে, প্রাত্যহিক তাক্বদীর বাৎসরিক তাক্বদীর অপেক্ষা খাছ। বাৎসরিক তাক্বদীর মায়ের রেহেমে থাকাকালীন লিখিত তাক্বদীর অপেক্ষা খাছ। রেহেমে থাকাকালীন লিখিত তাক্বদীর আল্লাহ কর্তক মানুষের অঙ্গীকার নেওয়ার সময়কালীন তাক্বদীর অপেক্ষা খাছ। আর অঙ্গীকার নেওয়ার সময়কালীন তাক্বদীর লাউহে মাহফূযের তাক্বদীর অপেক্ষা খাছ।[43] তৃতীয় স্তরঃ আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই হয় না একথার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করাঃ আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে, সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ্র চিরন্তন জ্ঞান অনুযায়ী তিনি সেগুলি লাউহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন এবং সেগুলিতে তাঁর ইচ্ছাও রয়েছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা হয়। যা ইচ্ছা করেন না, তা হয় না। আল্লাহ্র রাজ্যে এমনকি কোন কিছুর সামান্যতম নড়াচড়া বা স্থির থাকাও তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত হয় না। তিনি কোন কিছুকে যখন, যেভাবে এবং যে উদ্দেশ্যে করতে চান, তা ঠিক সেমতেই সংঘটিত হয়; তার তিল পরিমাণ ব্যত্যয় ঘটে না। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, তিনি ব্যতীত কোন হক্ব মাবূদ নেই।[44] মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ﴾ [سورة يس: 82] ‘তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ এবং তখনই তা হয়ে যায় (ইয়াসীন ৮২)। অন্যত্র তিনি বলেন, ﴿وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً﴾ [سورة هود: 118] ‘আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিতে পরিণত করতে পারতেন (হূদ ১১৮)। তিনি আরো বলেন, ﴿وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَن فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا﴾ [سورة يونس: 99] ‘আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তাহলে ভূ-পৃষ্ঠের সবাই ঈমান আনত (ইউনুস ৯৯)। এ জাতীয় আরো বহু আয়াত আছে, যেগুলি আল্লাহ্র পূর্ণ ইচ্ছা প্রমাণ করে। আবু হুরায়রাহ (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, দো‘আ করার সময় তোমাদের কেউ যেন না বলে, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি চাইলে আমাকে রহম করুন এবং আপনি চাইলে আমাকে রিযিক্ব দান করুন। বরং সে যেন পাকাপোক্তভাবে তলব করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা খুশী, তা-ই করেন, কেউ তাঁকে বাধ্য করে না।[45] ইবনুল ক্বাইয়িম (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পৃথিবীতে আগত সকল নবী-রাসূল (আলাইহিমুস সালাম)-এর সর্বসম্মতি, আল্লাহ প্রেরিত প্রত্যেকটি আসমানী কিতাব, আল্লাহ প্রদত্ত সৃষ্টির স্বাভাবিক অবস্থা এবং যু্ক্তি ও প্রত্যক্ষ দর্শন প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্র রাজ্যে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই ঘটে না। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা হয়। আর যা তিনি ইচ্ছা করেন না, তা হয় না।[46] চতুর্থ স্তরঃ আল্লাহ্র রাজ্যের সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন একথার প্রতি ঈমান আনা: আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহ সবকিছুই জানেন, তাঁর চিরন্তন এই জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি সবকিছুই লাউহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন, এ সবকিছুর পেছনে তাঁর পূর্ণ ইচ্ছা বিদ্যমান এবং সেই ইচ্ছা অনুযায়ীই তিনি সবকিছু সৃষ্টি করে থাকেন। প্রত্যেকটি জিনিসকে তিনি যে আকৃতিতে, যে সময়ে এবং যে বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করতে চান, সেভাবেই সৃষ্টি করেন।[47] আল্লাহ প্রত্যেকটি মানুষ এবং তার কর্ম সৃষ্টি করেছেন। আসমান-যমীনে অণু-পরমাণুসহ এমন কোন কিছু নেই যে, আল্লাহ তাকে এবং তার নড়াচড়া বা স্থিরতাকে সৃষ্টি করেন নি।[48] ঘরের জানালা বা অন্য কোন ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে সূর্য্য কিরণ প্রবেশ করলে তাতে অসংখ্য অণু-পরমাণু পরিলক্ষিত হয়, এমনকি এসব অণু-পরমাণুর একটি কণাও আল্লাহ্র সৃষ্টির বাইরে নয়। বরং সেগুলির প্রত্যেকটি কণা সম্পর্কে আল্লাহ্র চিরন্তন সূক্ষ্ম জ্ঞান রয়েছে, তিনি তাকে লাউহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন, তাতে তাঁর ইচ্ছা রয়েছে এবং সময় মত তিনি তা সৃষ্টি করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ﴾ [سورة الزمر: 62] ‘আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্বশীল’ (যুমার ৬২)। বান্দার কর্মের স্রষ্টাও কি আল্লাহ নন?: বিভ্রান্ত অনেক ফের্কা বান্দার কর্মকে আল্লাহ্র সৃষ্ট নয় বলে মিথ্যা দাবী করে। কিন্তু আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা মতে, বান্দার কর্মেরও মূল স্রষ্টা মহান আল্লাহ্ই; কিন্তু সেগুলি বাস্তবায়ন করে বান্দা। এরশাদ হচ্ছে, ﴿وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ﴾ [سورة الصافات: 96] ‘আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের কর্মকে সৃষ্টি করেছেন’ (ছফফাত ৯৬)। মুফাস্সিরগণ বলেন, উক্ত আয়াতে প্রমাণিত হয় যে, বান্দার কর্ম আল্লাহ্রই সৃষ্ট।[49] মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ﴿وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّمَّا خَلَقَ ظِلَالًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْجِبَالِ أَكْنَانًا وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ﴾ [سورة النحل: 81] ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট বস্তু দ্বারা তোমাদের জন্য ছায়া বানিয়েছে। পাহাড়সমূহে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরী করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর’ (নাহ্ল ৮১)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনুল ক্বাইয়িম (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ এখানে স্পষ্ট ঘোষণা করলেন যে, তৈরীকৃত পোষাক তাঁরই তৈরী। কারণ পোষাকের কাঁচামালকে পোষাক বলা হয় না; বরং মানুষ কর্তৃক পোষাকের রূপ দেওয়া হলেই কেবল তাকে পোষাক বলা যায়। এতদ্সত্ত্বেও এটিকে সরাসরি আল্লাহ্র সৃষ্টি বলা হল’।[50] রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, «إِنَّ اللَّهَ يَصْنَعُ كُلَّ صَانِعٍ وَصَنْعَتَهُ» ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহই প্রত্যেকটি তৈরীকারক এবং তার তৈরীকৃত বস্তুকে সৃষ্টি করেন’।[51] ইমাম বুখারী (রহেমাহুল্লাহ) এই হাদীছটি উল্লেখ করার পর বলেন, فَأَخْبَرَ أَنَّ الصِّنَاعَاتِ وَأَهْلَهَا مَخْلُوقَةٌ ‘রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদীছটিতে ঘোষণা করলেন, তৈরীকৃত সবকিছু এবং সেগুলির তৈরীকারক আল্লাহ্রই সৃষ্টি’।[52] আল্লাহ্র সৃষ্ট কর্ম মানুষ কর্তৃক বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। একজন ফার্মাসিস্ট কোন ওষুধ বা বিষ বানাতে যেয়ে কয়েক প্রকার পদার্থ চয়ন করে। এরপর প্রত্যেক প্রকার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পদার্থ গ্রহণ করে ওষুধ তৈরী করে। আবার দেখা যায়, ঐ একই পদার্থের পরিমাণে পরিবর্তন আনে এবং সেগুলিকে সংমিশ্রণের মাধ্যমে বিষ তৈরী করে। এখানে ঔষধি এই পদার্থগুলির স্রষ্টা যেমন আল্লাহ, তেমনি ঐ ফার্মাসিস্ট, তার ক্ষমতা এবং জ্ঞানের স্রষ্টাও তিনি। বরং এই ওষুধ কিংবা বিষের স্রষ্টাও মূলতঃ আল্লাহই। অন্যভাবে বলা যায়, মহান আল্লাহ তার বান্দাকে কর্মশক্তি, ইচ্ছাশক্তি এবং জ্ঞান দান করেছেন। ফলে সে আল্লাহ্র সৃষ্ট পদার্থ থেকেই ভাল বা মন্দ জিনিস আবিষ্কার করছে। সে শূন্য থেকে কোন কিছু তৈরী করছে না; বরং যা করছে, আল্লাহ্র সৃষ্ট বস্তু থেকেই করছে; আর আল্লাহ্র দেয়া ক্ষমতা দিয়েই করছে।[53] [19]. দেখুন: ড. ওমর সুলায়মান আশক্বার, আল-ক্বাযা ওয়াল-ক্বাদার, (কুয়েত: মাকতাবাতুল ফালাহ, দ্বিতীয় প্রকাশ: ১৯৯০ইং), পৃ: ২৯-৩৬; আল-ঈমান বিল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/৫৯ ইত্যাদি। [20]. আল-ঈমান বিল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/৫৯। [21]. ইবনুল ক্বাইয়িম (রহেমাহুল্লাহ), শিফাউল আলীল ফী মাসাইলিল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার ওয়াল হিকমাতি ওয়াত্-তা‘লীল, (বৈরূতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, তৃতীয় প্রকাশ: তা.বি), পৃ: ৫৫। [22]. ফালাহ ইবনে ইসমাঈল, আল-ই‘তিক্বাদুল ওয়াজিব নাহ্ওয়াল ক্বাদার/৯। [23]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ৩/১৪৮। [24]. ইমাম দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল-জাহমিইয়াহ, তাহক্বীক্ব: বদর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাদ্র (কুয়েত: আদ-দারুস সালাফিইয়াহ, প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৫ইং), ‘আল্লাহ্র ইলমের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ, পৃ: ১১২। [25]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৮, ‘তাক্বদীর’ অধ্যায়, ‘মুসলিম এবং কাফেরদের ছোট বাচ্চারা মারা গেলে তাদের কি হুকুম’ অনুচ্ছেদ। [26]. ছহীহ বুখারী, ৪/২০৯, হা/৬৫৯৬, ‘তাক্বদীর’ অধ্যায়, ‘কলম শুকিয়ে গেছে..’ অনুচ্ছেদ, (মিশর: আল-মাকতাবাহ আস-সালাফিইয়াহ, প্রথম প্রকাশ: ১৪০০হিঃ)। [27]. আব্দুল আযীয মুহাম্মাদ, আল-কাওয়াশেফুল জালিইয়াহ আন মা‘আনিল ওয়াসেত্বিইয়াহ, (রিয়ায: মাকতাবাতুর রিয়ায আল-হাদীছাহ, ষষ্ঠ প্রকাশ: ১৯৭৮ইং), পৃ: ৬২০। [28]. আল-ই‘তিক্বাদুল ওয়াজিব নাহ্ওয়াল ক্বাদার/১১। [29]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ৩/১৪৮। [30]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৩ ‘তাক্বদীর’ অধ্যায়, ‘আদম এবং মূসা (আঃ)-এর বিতর্ক’ অনুচ্ছেদ,। [31]. ছহীহ বুখারী, ৪/৩৮৭, হা/৭৪১৮, ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, ‘তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে এবং তিনিই আরশের সুমহান অধিপতি’ অনুচ্ছেদ। [32]. সুনানে আবূ দাঊদ, হা/৪৭০৩, ‘সুন্নাহ’ অধ্যায়, ‘তাক্বদীর’ অনুচ্ছেদ; ছালেহ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ আলুশ্-শায়খ, জামে‘উ শুরূহিল আক্বীদাতিত্-ত্বহাবিইয়াহ, ১/৫৬৯। [33]. জামে‘ তিরমিযী, হা/২৬৪২, ঈমান অধ্যায়, ‘এই উম্মতের মধ্যে বিভক্তি’ অনুচ্ছেদ, ইমাম তিরমিযী (রহেমাহুল্লাহ) হাদীছটিকে ‘হাসান’ বলেছেন। [34]. ছহীহ বুখারী, ২/৪২৪, হা/৩২০৮, ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়, ‘ফেরেশতামণ্ডলীর বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ। [35]. জামে‘উ শুরূহিল আক্বীদাতিত্-ত্বহাবিইয়াহ, ১/৫৬৯-৫৭০; আব্দুল্লাহ জিবরীন, আত-তা‘লীক্বাতুয্ যাকিইয়াহ আলাল আক্বীদাতিল ওয়াসেত্বিইয়াহ, (রিয়ায: দারুল ওয়াত্বান, প্রথম প্রকাশ: ১৯৯৮ইং), ২/১৫৭। [36]. প্রাগুক্ত। [37]. ইমাম ক্বুরত্বুবী, আল-জামে‘ লিআহকামিল ক্বুরআন, (কায়রো: দারুল কুতুবিল মিছরিইয়াহ, দ্বিতীয় প্রকাশ: ১৯৬৪ইং), ৬/১২৭। [38]. জামে‘উ শুরূহিল আক্বীদাতিত্-ত্বহাবিইয়াহ, ১/৫৭০; আত-তা‘লীক্বাতুয্ যাকিইয়াহ আলাল আক্বীদাতিল ওয়াসেত্বিইয়াহ, ২/১৫৭। [39]. ইবনে জারীর ত্ববারী, তাফসীরে ত্ববারী (জামেউল বায়ান ফী তা’বীলিল ক্বুরআন), তাহক্বীক্ব: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুহসিন তুর্কী, (দারু হাজার/হিজর, প্রথম প্রকাশ: ২০০১ইং), ২২/২১৪, বর্ণনাটি ‘হাসান’ (মা‘আরেজুল ক্ববূল-এর ৩/৯৩৯ পৃষ্ঠার টীকা দ্র:)। [40]. সাঈদ ইসমাঈল, কাশফুল গায়ূম আনিল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার, (প্রকাশকাল: ১৪১৭হি:), পৃ: ৩১-৩২; মিরক্বাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ, ১/২৪০। [41]. আব্দুর রাযযাক ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-বাদ্র, তাযকিরাতুল মু’তাসী শারহু আক্বীদাতিল হাফেয আব্দিল গাণী আল-মাক্বদেসী (কুয়েত: গিরাস ফর প্রিন্টিং এণ্ড ডিস্ট্রিবিউশন, প্রথম প্রকাশ: ২০০৩ইং), পৃ: ১৫৩; আল-ঈমানু বিল-ক্বাযা ওয়াল-ক্বাদার/২৫২। [42]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ১৪/৪৮৮-৪৯২। [43]. জামে‘উ শুরূহিল আক্বীদাতিত্-ত্বহাবিইয়াহ, ১/৫৭০; হাফেয ইবনে আহমাদ হাকামী, মা‘আরেজুলল ক্ববূল, (দাম্মাম: দারু ইবনিল ক্বাইয়িম, তৃতীয় প্রকাশ: ১৯৯৫ ইং), ৩/৯৩৯। [44]. আল-ই‘তিক্বাদুল ওয়াজিব নাহ্ওয়াল ক্বাদার/১৩। [45]. ছহীহ বুখারী, ৪/৩৯৯-৪০০, হা/৭৪৭৭, ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, ‘আল্লাহ্র ইচ্ছা’ অনুচ্ছেদ। [46]. শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল ক্বাদার ওয়াল-হিকমাতি ওয়াত-তা‘লীল/৯৩। [47]. আল-ই‘তিক্বাদুল ওয়াজিব নাহ্ওয়াল ক্বাদার/১৪। [48]. মা‘আরেজুল ক্ববূল ৩/৯৪০। [49]. তাফসীর ইবনে কাছীর, ৭/২৬; ইবনুল জাওযী, যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর, (বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, তৃতীয় প্রকাশ: ১৯৮৪ইং), ৭/৭০ এবং অন্যান্য। [50]. শিফাউল আলীল/১১৮। [51]. ইমাম বুখারী, খালক্বু আফআলিল ইবাদ, ‘বান্দাদের কর্মসমূহ’ অনুচ্ছে, (বৈরূত: মুআস্সাসাতুর্ রিসালাহ, তৃতীয় প্রকাশ: ১৯৯০ ইং), পৃ: ২৫। [52]. প্রাগুক্ত, পৃ: ২৫। [53]. কাশফুল গায়ূম আনিল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/১৮-১৯।