1 Answers

আনুগত্যপরায়ন নেককার নারীর উদাহরণ :
শাবি বর্ণনা করেন, একদিন আমাকে শুরাই বলেন, "শাবি, তুমি তামিম বংশের মেয়েদের বিয়ে কর। তামিম বংশের মেয়েরা খুব বুদ্ধিমতী। আমি বললাম, আপনি কীভাবে জানেন তারা বুদ্ধিমতী? তিনি বললেন, আমি কোনো জানাজা থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, পথের পাশেই ছিল তাদের কারো বাড়ি। লক্ষ্য করলাম, জনৈক বৃদ্ধ মহিলা একটি ঘরের দরজায় বসে আছে, তার পাশেই রয়েছে সুন্দরী এক যুবতী। মনে হল, এমন রূপসী মেয়ে আমি আর কখনো দেখিনি। আমাকে দেখে মেয়েটি কেটে পড়ল। আমি পানি চাইলাম, অথচ আমার তৃষ্ণা ছিল না। সে বলল, তুমি কেমন পানি পছন্দ কর, আমি বললাম যা উপস্থিত আছে। মহিলা মেয়েকে ডেকে বলল, দুধ নিয়ে আস, মনে হচ্ছে সে বহিরাগত। আমি বললাম, এ মেয়ে কে? সে বলল, জারিরের মেয়ে জয়নব। হানজালা বংশের ও। বললাম, বিবাহিতা না অবিবাহিতা? সে বলল, না, অবিবাহিতা। আমি বললাম, আমার কাছে তাকে বিয়ে দিয়ে দাও। সে বলল, তুমি যদি তার কুফু হও, দিতে পারি। আমি বাড়িতে পৌঁছে দুপুরে সামান্য বিশ্রাম নিতে শোবার ঘরে গেলাম, কোনো মতে চোখে ঘুম ধরল না। জোহর নামাজ পড়লাম। অতঃপর আমার গণ্যমান্য কয়েকজন বন্ধু, যেমন- আলকামা, আসওয়াদ, মুসাইয়্যেব এবং মুসা ইবনে আরফাতাকে সাথে করে মেয়ের চাচার বাড়িতে গেলাম। সে আমাদের সাদরে গ্রহণ করল। অতঃপর বলল, আবু উমাইয়্যা, কি উদ্দেশ্যে আসা? আমি বললাম, আপনার ভাতিজি জয়নবের উদ্দেশ্যে। সে বলল, তোমার ব্যাপারে তার কোন আগ্রহ নেই! অতঃপর সে আমার কাছে তাকে বিয়ে দিল। মেয়েটি আমার জালে আবদ্ধ হয়ে খুবই লজ্জা বোধ করল। আমি বললাম, আমি তামিম বংশের নারীদের কী সর্বনাশ করেছি? তারা কেন আমার উপর অসন্তুষ্ট? পরক্ষণই তাদের কঠোর স্বভাবের কথা আমার মনে পড়ল। ভাবলাম, তালাক দিয়ে দেব। পুনরায় ভাবলাম, না, আমিই তাকে আপন করে নিব। যদি আমার মনপুত হয়, ভাল, অন্যথায় তালাকই দিয়ে দেব। শাবি, সে রাতের মুহূর্তগুলো এতো আনন্দের ছিল, যা ভোগ না করলে অনুধাবন করার জো নেই। খুবই চমৎকার ছিল সে সময়টা, যখন তামিম বংশের মেয়েরা তাকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমার মনে পড়ল, রাসূলের সুন্নতের কথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "স্ত্রী প্রথম ঘরে প্রবেশ করলে স্বামীর কর্তব্য, দু'রাকাত নামাজ পড়া, স্ত্রীর মধ্যে সুপ্ত মঙ্গল কামনা করা এবং তার মধ্যে লুকিত অমঙ্গল থেকে পানাহ চাওয়া।" আমি নামাজ শেষে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম, সে আমার সাথে নামাজ পড়ছে। যখন নামাজ শেষ করলাম, মেয়েরা আমার কাছে উপস্থিত হল। আমার কাপড় পালটে সুগন্ধি মাখা কম্বল আমার উপর টেনে দিল। যখন সবাই চলে গেল, আমি তার নিকটবর্তী হলাম ও তার শরীরের এক পাশে হাত বাড়ালাম। সে বলল, আবু উমাইয়্যা, রাখ। অতঃপর বলল,
الحمد لله، أحمده و أستعينه، وأصلي على محمد وآله...
"আমি একজন অভিজ্ঞতা শূন্য অপরিচিত নারী। তোমার পছন্দ অপছন্দ আর স্বভাব রীতির ব্যাপারে কিছুই জানি না আমি। আরো বলল, তোমার বংশীয় একজন নারী তোমার বিবাহে আবদ্ধ ছিল, আমার বংশেও সে রূপ বিবাহিতা নারী বিদ্যমান আছে, কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তই সিদ্ধান্ত। তুমি আমার মালিক হয়েছ, এখন আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক আমার সাথে ব্যবহার কর। হয়তো ভালভাবে রাখ, নায়তো সুন্দরভাবে আমাকে বিদায় দাও। এটাই আমার কথা, আল্লাহর নিকট তোমার ও আমার জন্য মাগফিরাত কামনা করছি।"
শুরাই বলল, শাবি, সে মুহূর্তেও আমি মেয়েটির কারণে খুতবা দিতে বাধ্য হয়েছি। অতঃপর আমি বললাম,
الحمد لله، أحمده وأستعينه، وأصلي على النبي وآله وأسلم، وبعد...
তুমি এমন কিছু কথা বলেছ, যদি তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাক, তোমার কপাল ভাল। আর যদি পরিত্যাগ কর, তোমার কপাল মন্দ। আমার পছন্দ... আমার অপছন্দ... আমরা দু'জনে একজন। আমার মধ্যে ভাল দেখলে প্রচার করবে, আর মন্দ কিছু দৃষ্টিগোচর হলে গোপন রাখবে।
সে আরো কিছু কথা বলেছে, যা আমি ভুলে গেছি। সে বলেছে, আমার আত্মীয় স্বজনের আসা-যাওয়া তুমি কোন দৃষ্টিতে দেখ? আমি বললাম, ঘনঘন আসা-যাওয়ার মাধ্যমে বিরক্ত করা পছন্দ করি না। সে বলল, তুমি পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে যার ব্যাপারে অনুমতি দেবে, তাকে আমি ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দেব। যার ব্যাপারে নিষেধ করবে, তাকে আমি অনুমতি দেব না। আমি বললাম, এরা ভাল, ওরা ভাল না।
শুরাই বলল, শাবি, আমার জীবনের সব চেয়ে আনন্দদায়ক অধ্যায় হচ্ছে, সে রাতের মুহূর্তগুলো। পূর্ণ একটি বছর গত হল, আমি তার মধ্যে আপত্তিকর কিছু দেখিনি। একদিনের ঘটনা, 'দারুল কাজা' থেকে বাড়ি ফিরে দেখি, ঘরের ভেতর একজন মহিলা তাকে উপদেশ দিচ্ছে; আদেশ দিচ্ছে আর নিষেধ করছে। আমি বললাম সে কে? বলল, তোমার শ্বশুর বাড়ির অমুক বৃদ্ধ। আমার অন্তরের সন্দেহ দূর হল। আমি বসার পর, মহিলা আমার সামনে এসে হাজির হল। বলল, আসসালামু আলাইকুম, আবু উমাইয়্যা। আমি বললাম, ওয়া লাইকুমুসসালাম, আপনি কে? বলল, আমি অমুক; তোমার শ্বশুর বাড়ির লোক। বললাম, আল্লাহ তোমাকে কবুল করুন। সে বলল, তোমার স্ত্রী কেমন পেয়েছ? বললাম, খুব সুন্দর। বলল, আবু উমাইয়্যা, নারীরা দু'সময় অহংকারের শিকার হয়। পুত্র সন্তান প্রসব করলে আর স্বামীর কাছে খুব প্রিয় হলে। কোন ব্যাপারে তোমার সন্দেহ হলে লাঠি দিয়ে সোজা করে দেবে। মনে রাখবে, পুরুষের ঘরে আহ্লাদি নারীর ন্যায় খারাপ আর কোন বস্তু নেই। বললাম, তুমি তাকে সুন্দর আদব শিক্ষা দিয়েছ, ভাল জিনিসের অভ্যাস গড়ে দিয়েছ তার মধ্যে। সে বলল, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের আসা-যাওয়া তোমার কেমন লাগে? বললাম, যখন ইচ্ছে তারা আসতে পারে। শুরাই বলল, অতঃপর সে মহিলা প্রতি বছর একবার করে আসত আর আমাকে উপদেশ দিয়ে যেত। সে মেয়েটি বিশ বছর আমার সংসার করেছে, একবার ব্যতীত কখনো তিরস্কার করার প্রয়োজন হয়নি। তবে ভুল সেবার আমারই ছিল।
ঘটনাটি এমন, ফজরের দু-রাকাত সুন্নত পড়ে আমি ঘরে বসে আছি, মুয়াজ্জিন একামত দিতে শুরু করল। আমি তখন গ্রামের মসজিদের ইমাম। দেখলাম, একটা বিচ্ছু হাঁটাচলা করছে, আমি একটা পাত্র উঠিয়ে তার উপর রেখে দিলাম। বললাম, জয়নাব, আমার আসা পর্যন্ত তুমি নড়াচড়া করবে না। শাবি, তুমি যদি সে মুহূর্তটা দেখতে! নামাজ শেষে ঘরে ফিরে দেখি, বিচ্ছু সেখান থেকে বের হয়ে তাকে দংশন করেছে। আমি তৎক্ষণাৎ লবণ ও সাক্‌ত তলব করে, তার আঙুলের উপর মালিশ করলাম। সূরায়ে ফাতেহা, সূরায়ে নাস ও সূরায়ে ফালাক পড়ে তার উপর দম করলাম।"[১৮]
2957 views

Related Questions