1 Answers
ল্যামার্কের তত্ত্ব [Theory of Lamarck]:- ল্যামার্ক সর্বপ্রথম অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বিষয়টি 1809 খ্রিস্টাব্দে তাঁর লেখা ‘ফিলোসফিক জুওলজিক’ নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন । ল্যামার্কের তত্ত্বকে ল্যামার্কিজম বা ল্যামার্কবাদ বলে । কয়েকটি প্রধান প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে ল্যামার্কবাদ গঠিত হয়েছে । অভিব্যক্তি সম্পর্কে ল্যামার্কের মতবাদের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো আলোচনা করা হল :
[1] ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র [Law of use and disuse]:- ল্যামার্কের মতে, জীবের প্রয়োজনে জীবদেহে কোনও নতুন অঙ্গের উত্পত্তি অথবা কোনও পুরানো অঙ্গের অবলুপ্তি ঘটতে পারে । তাঁর মতে, যদি কোনও জীবের কোনও অঙ্গ ধারাবাহিকভাবে ক্রমাগত ব্যহৃত হয়, তবে সেই অঙ্গ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার জন্য ধীরে ধীরে সবল ও সুগঠিত হবে । অন্যদিকে, জীবের কোনও অঙ্গ পরিবেশের পক্ষে অপ্রয়োজনীয় হলে ওই অঙ্গের আর ব্যবহার থাকে না —সুতরাং ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে অঙ্গটি নিস্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হবে এবং অবশেষে অবলুপ্ত হয়ে যাবে । ল্যামার্কের মতে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার জীবদেহে পরিবর্তন সূচিত করে, যা জীবের বংশপরম্পরায় অর্জিত বৈশিষ্ট্য ।
[2] পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সচেষ্টতা [Efforts]:- সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে জীব নিজেকে উপযুক্তরূপে মানিয়ে নেবার জন্য সব সময় চেষ্টা করে । এটি জীবের একটি সহজাত প্রবৃত্তি । স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে অভিযোজিত করতে জীবদেহে নানা রকম পরিবর্তন দেখা যায় । ল্যামার্কের মতে, জীব সজ্ঞানে, নিজের চেষ্টায় বিশেষ কোনও অঙ্গের বৃদ্ধি অথবা ক্ষয় করে বিবর্তনের ধারা পরিবর্তন করতে পারে । এটাও একটি জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্য ।
[3] অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ [Inheritance of acquired characteris]:- ল্যামার্কের মতে, কোনও জীবের জীবনকালে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়, সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হয়, অর্থাৎ অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে ।
[4] নতুন প্রজাতির উত্পত্তি [Origin of new species]:- ল্যামার্কের তত্ত্ব অনুযায়ী অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণের জন্য এবং প্রতিটি জনুতে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হওয়ায় ধীরে ধীরে একটি প্রজাতি থেকে অপর একটি নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয় ।