1 Answers
[১] আবির্ভাবের সময়কাল:- আইসোটোপিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনও জীবাশ্মের বয়স নির্ধারণ করে জীবাশ্মীভূত সেই জীবের এই পৃথিবীতে আবির্ভাবের সময়কাল জানা যায় ।
[২] ভৌগোলিক বিস্তার:- বিলুপ্ত জীবদের ভৌগোলিক বিস্তার সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়, যেমন : জার্মানির ‘বেভারিয়া’ অঞ্চলে আর্কিওপটেরিক্সের জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়ায় অনুমান করা যায় যে লক্ষ লক্ষ বছর আগে ওই অঞ্চলে আর্কিওপটেরিক্সের বাস ছিল ।
[৩] বিলুপ্ত জীবেদের আকৃতি, গঠন:- জীবাশ্ম থেকে বিলুপ্ত জীবেদের আকৃতি, গঠন প্রভৃতির ধারণা পাওয়া যায় ।
[৪] জলবায়ু বা পরিবেশ সম্বন্ধে ধারণা মেলে:- জীবাশ্মের রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বছর আগের পৃথিবীর জলবায়ু বা পরিবেশ সম্বন্ধে ধারণা মেলে ।
[৫] স্বভাব ও খাদ্যাভ্যাস:- জীবাশ্মীভূত জীবেদের স্বভাব ও খাদ্যাভ্যাস সম্বন্ধে কিছুটা আন্দাজ করা যায় ।
[৬] পূর্বপুরুষের সন্ধান:- এখনকার পৃথিবীর জীবিত জীবেদের পূর্বপুরুষের সন্ধান মেলে । যেমন : জীবাশ্ম থেকেই জানতে পারা যায় যে, আজ থেকে প্রায় ছ’কোটি বছর আগে ইওসিন যুগে পৃথিবীতে বর্তমান ঘোড়া ইকুয়াসের আদিপুরুষ ইওহিপ্পাস বাস করত ।
[৭] হারানো সূত্র বা ‘মিসিং লিঙ্ক’ সম্বন্ধে ধারণা:- জীবাশ্ম থেকে হারানো সূত্র বা ‘মিসিং লিঙ্ক’ সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায় । যেমন : মিসিং লিঙ্ক. আর্কিওপটেরিক্সের জীবাশ্মে সরীসৃপ ও পাখি –উভয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, সরীসৃপ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে পাখির উত্পত্তি ঘটেছে ।
[৮] উত্পত্তি ও ক্রমবিবর্তন:- জীবাশ্ম থেকে নির্দিষ্ট কিছু জীবগোষ্ঠির উত্পত্তি ও ক্রমবিবর্তন সম্বন্ধে জানা যায়, যেমন :
[i] ডিপ্লোভার্টিব্রন [Diplovertibron] নামে জীবাশ্মের মধ্যে মাছ ও উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য পাওয়ায় মাছ থেকে উভচর শ্রেণির উদ্ভব হয়েছে বলে অনুমান করা যায় ।
[ii] টেরিডোস্পার্ম [Pteridosperm] নামে উদ্ভিদে ফার্ণ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য দেখা যায় —এই কারণে ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদ থেকে ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছে বলে মানে করা হয় ।