1 Answers
ইসলাম যাদু-টুনার অস্তিত্বকে স্বীকার করে। হযরত সুলাইমান আ. এর সময় যাদু বিদ্যার চর্চা এবং রাসূল সা. যাদুর কারণে যন্ত্রণা ভোগ করা তার স্পষ্ট প্রমাণ। তবে যাদুর প্রকৃতি ও বিধান কী সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো- গোপন অদৃশ্য উপকরণকে কাজে লাগিয়ে অভিনব কারিশমা দেখানোকে জাদু বলে। জাদুবিদ্যা অর্জনের জন্য অদৃশ্য উপকরণ বলতে গ্রহ-নক্ষত্র, জিন-শয়তানের সহায়তা লাভ করতে কুফরি, শিরকি ও পাপাচারকে অবলম্বন করা। যার মাধ্যমে অদৃশ্যভাবে মানুষের ক্ষতিসাধন করা হয়। বিশেষ ধরনের সাধনা মাধ্যমেও এ বিদ্যা অর্জিত হয়। এগুলো মুশরিক ও জাহেলি যুগের লোকদের মাঝে প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল। যার রেশ এখনো রয়েছে। ইসলামী শরীয়তে যাদু করা কবিরা গুনাহ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাদু-টোনার মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেয়া হয়। জাদুকরের গুনাহ শবে কদর ও শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতেও ক্ষমা করা হয় না। যে ব্যক্তি যাদু করে বা করবে বা যে এতে রাজি হবে সে কাফের বলে গন্য হবে। পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- ‘তারা বরং সেগুলো অনুসরণ করত, যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করত। সুলাইমান কোনোদিন কুফরী করেনি, বরং ওই শয়তানগুলোই কুফরী করেছিল। ওরা মানুষকে জাদু শিখিয়েছিল। বাবিল শহরে পাঠানো দুই ফেরেশতা হারুত এবং মারুতকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল, তা শিখিয়েছিল।’-সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ১০২ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য বলেছেন। সাত কবিরা গুনাহর একটি কবিরা গুনাহ হচ্ছে যাদু টোনা করা। এতোটা ঘৃণিত এই কাজ, তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যাদু- টোনাকারীদের কঠোর শাস্তির কথাও উল্লেখ করেছেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যাদুকরের শাস্তি হলো তরবারি দিয়ে হত্যা করা’ -জামে তিরমিযী এটি এমন জঘন্য কাজ যারা জাদুটোনাতে জড়িত হয়ে যায় এতে আস্থা রাখে তারা কুফরিতে জড়িয়ে যায় এবং এ থেকে মুক্তি ও পেতে পারে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তিন শ্রেণীর মানুষ বেহেশ্তে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা হলো, শরাবখোর বা মদ্যপায়ী , রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্নকারী এবং যাদুর প্রতি আস্থা স্থাপনকারী। -মুসনাদে আহমদ ধন্যবাদ