একটা উপন্যাসের মূল বিষয়সমূহ কি কি?
একটি উপন্যাসের কোন কোন দিক গুলো থাকতেই হবে??
যেগুলো ছাড়া উপন্যাস বলা যাবে না।
2460 views
1 Answers
একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক -এর মতে কম পক্ষে ৫০ হাজার শব্দ নিয়ে উপন্যাস রচিত হওয়া উচিৎ। উপন্যাস যেহেতু এমন একটি মাধ্যম যেখানে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার অবকাশ থাকে। তাই এখানে যতটা পারা যায় বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরতে হবে। এখানে লেখক চাইলে তার মতামত লিপিবদ্ধ করতে পারেন এবং প্রতিটি চরিত্রকে সাজিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সেটা সকল ধরণের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে।
স্থান-কালের যথার্থ উল্লেখ, বাস্তবতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা, মানুষের হৃদয়ের গভীর তলদেশ স্পর্শ করার ক্ষমতা—ইত্যাদি দরকার একটি সার্থক উপন্যাসের জন্য।
উপন্যাস বিশ্লেষকগণ একটি সার্থক উপন্যাসের গঠন কৌশল নিয়ে ছয়টি রীতির কথা বলেছেন।
-
আখ্যান
- চরিত্র
- সংলাপ
- পরিবেশ বর্ণনা
-
শৈলী
- লেখকের সামগ্রিক জীবন-আদর্শ
আখ্যান -
যেহেতু উপন্যাসের ভিত্তি হলো দীর্ঘ কাহিনি। তাই সেখানে মানব / মানবীর হাসি তামাশা,দুঃখ কষ্ট, ভালোবাসা ঘৃণা ইত্যাদি ঘটনা প্রাধান্য লাভ করে। উপন্যাস আখ্যান হয় সুপরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত।
চরিত্র-
ব্যক্তি ব্যক্তিতে সামাজিক সম্পর্ক নিয়েই উন্যাসের কাহিনি নির্মিত হয়। ব্যক্তির আচরণ, ভাবনা এবং ক্রিয়াকাণ্ডই হয়ে ওঠে উপন্যাসের প্রধান বর্ণনীয় বিষয়। উপন্যাসের এই ব্যক্তিই চরিত্র।মহৎ ঔপন্যাসিক এমনভাবে চরিত্র সৃষ্টি করেন যে, তারা হয়ে ওঠে পাঠকের চেনা জগতের বাসিন্দা বা অতি পরিচিতজন। উপন্যাসের চরিত্র হিসেবে একজন লেখকের অন্বিষ্ট হয় দ্বন্দ্বময় মানুষ। ভালো-মন্দ, শুভ-অশুভ, সুনীতি-দুর্নীতি প্রভৃতির দ্বন্দ্বাত্মক বিন্যাসেই একজন মানুষ সমগ্রতা অর্জন করে এবং এ ধরনের মানুষই চরিত্র হিসেবে সার্থক বলে বিবেচিত হয়।
সংলাপ -
উপন্যাসের ঘটনা প্রাণ পায় চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সংলাপে। যে কারণে ঔপন্যাসিক সচেষ্ট থাকেন স্থান-কাল অনুযায়ী চরিত্রের মুখে ভাষা দিতে। অনেক সময় বর্ণনার চেয়ে চরিত্রের নিজের মুখের একটি সংলাপ তার চরিত্র উপলব্ধির জন্য বহুল পরিমাণে শক্তিশালী ও অব্যর্থ হয়। সংলাপের দ্বারা ঘটনাস্রোত উপস্থাপন করে লেখক নির্লিপ্ত থাকতে পারেন এবং পাঠকের বিচার-বুদ্ধির প্রকাশ ঘটাতে পারেন। সংলাপ চরিত্রের বৈচিত্র্যময় মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করে এবং উপন্যাসের বাস্তবতাকে নিশ্চিত করে তোলে।
পরিবেশের বর্ণনা -
যেহেতু উপন্যাসের কাহিনি বাস্তব ও বিশ্বসযোগ্য হতে হয়। তাই লেখক তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সুন্দর এক পরিবেশ গঠন করবেন। পরিবেশ বর্ণনার মাধ্যমে চরিত্রের জীবনযাত্রার ছবিও কাহিনিতে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই পরিবেশ মানে কেবল প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়; স্থান কালের স্বাভাবিকতা, সামাজিকতা, ঔচিত্য ও ব্যক্তি মানুষের সামগ্রিক জীবনের পরিবেশ।
শৈলী -
শৈলী হচ্ছে উপন্যাসের ভাষাগত অবয়ব সংস্থানের ভিত্তি। উপন্যাসের বর্ণনা, পরিচর্যা, পটভূমিকা উপস্থাপন ও চরিত্রের স্বরূপ নির্ণয়ে অনিবার্য ভাষাশৈলীর প্রয়োগই যেকোনো ঔপন্যাসিকের কাম্য। লেখকের জীবনদৃষ্টি ও জীবনসৃষ্টির সঙ্গে ভাষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
লেখকের জীবন -
মানবজীবনসংক্রান্ত যে সত্যের উদ্ঘাটন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে পরিষ্ফূট হয় তাই লেখকের জীবনদর্শন। আমরা একটি উপন্যাসের মধ্যে একই সঙ্গে জীবনের চিত্র ও জীবনের দর্শন এই দুইকেই খুঁজি। এর ফলে সার্থক উপন্যাস পাঠ করলে পাঠক মানবজীবনসংক্রান্ত কোনো সত্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। উপন্যাসে জীবনদর্শনের অনিবার্যতা তাই স্বীকৃত।
(তথ্যসূত্র হিসাবে উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন৷ সেখানে আরো বিস্তারিত ভাবে বলা আছে।):
2460 views
Answered