2 Answers
আবগারি শুল্ক দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর আরোপিত কর। পরিভাষা হিসেবে ‘আবগারি কর’ ‘আবগারি শুল্ক’ অপেক্ষা ব্যাপকতর অর্থ বহন করে এবং এর মধ্যে দ্রব্য বা সেবার উৎপাদন, বিক্রয়, বা ক্রয়ের ওপর আরোপিত কর অন্তর্ভুক্ত। তাত্ত্বিকভাবে, ‘আবগারি কর’ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হলেও বাস্তবে তা শুধু অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর আরোপ করা হয়। আবগারি শুল্ক সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার এটি আয়ের পুনর্বণ্টনের উদ্দেশ্যেও ব্যবহূত হতে পারে। করারোপের সুবিধার নীতি প্রয়োগের জন্যও আবগারি শুল্ককে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন, কোনো বিশেষ দ্রব্যের (যথা, তামাকের) ওপর আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে উক্ত তহবিল ওই দ্রব্যের ভোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আবগারি শুল্ক তথাকথিত অনভিপ্রেত দ্রব্যাদির (যেমন, মদ ও তামাকের) ভোগকে নিরুৎসাহিত করতে আরোপ করা হয়। কখনও বা (যেমন যুদ্ধের সময়) কোনো কোনো দ্রব্যের দুষ্প্রাপ্যতা বা মূদ্রাস্ফীতির চাপে উক্ত দ্রব্যের ব্যবহার/ভোগ নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাসের জন্য আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। আবগারি শুল্ক মূল্যভিত্তিতে অথবা পরিমাণভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়।