1 Answers
প্রকৃতির সকল জানা পদার্থ এবং শক্তি যেসব মৌলিক কণা দিয়ে গঠিত তাদের শ্রেণীবিন্যাসের নাম স্ট্যান্ডার্ড মডেল, মৌলিক পদার্থের যেমন পর্যায় সারণী, মৌলিক কণাদের তেমন স্ট্যান্ডার্ড মডেল। এই মডেলের স্থায়ী কণাগুলোর সার্বিক শ্রেণীবিন্যাস এমন: কণা দুই ধরণের: ফার্মিয়ন (পদার্থের গাঠনিক উপাদান) এবং বোসন (শক্তির গাঠনিক উপাদান)। তো সব ফার্মিয়নেরই ভর আছে। কিছু বোসনেরও আবার ভর আছে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল দিয়ে কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না এই ভরের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে। মানে স্ট্যান্ডার্ড মডেল কণাগুলোর ভরের উপর নির্ভর করতো না, ভর না থাকলে সমীকরণ যা ভর থাকলেও তা। এই প্রেক্ষিতে পিটার হিগস ষাটের দশকে ভরের উৎপত্তির একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান। তিনি বলেন প্রকৃতির সর্বত্র একটা ফিল্ড বা ক্ষেত্র আছে, যাকে পরবর্তীতে হিগস ক্ষেত্র নাম দেয়া হয়। সকল কণাকেই এই ক্ষেত্রের মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। যে যত সহজে চলতে পারে তার ভর তত কম। মানে ভরকে সে হিগস ফিল্ডে চলনক্ষমতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে: এই ক্ষেত্রটা কি দিয়ে গঠিত? বলা হল, একটা কণা থাকতে হবে যা দিয়ে এই ফিল্ড গঠিত, নাম দেয়া হল হিগস কণা। সেদিক দিয়ে হিগস কণাই হবে সকল কণার ভর প্রদায়ক। হিগস আবার সবচেয়ে মৌলিক কণাও বটে, যার ভর এবং শক্তি সবচেয়ে বেশি (এখানে অবশ্য ভর-শক্তির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই)। LHC তে প্রোটনের সাথে প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটানোর মাধ্যমে মৌলিক কণা তৈরি করা হয়। গ্লাস মেঝেতে ফেললে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, যত জোড়ে ফেলা হবে তত বেশি টুকরো হবে। তেমনি প্রোটনের সাথে প্রোটনের যত শক্তিশালী সংঘর্ষ ঘটানো হবে তত মৌলিক কণার সন্ধান পাওয়া যাবে। হিগসের শক্তি তাত্ত্বিকভাবে হিসাব করা হয়েছিল। প্রোটন-প্রোটন কে যদি তার চেয়ে বেশি শক্তিতে সংঘর্ষ করানো না যায় তাহলে হিগস পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই। গত ২ বছর ধরে তেমন শক্তিতেই প্রোটন-প্রোটন সংঘর্ষ ঘটানো হয়েছে। ফলাফল হিসেবে এমন একটা কণা পাওয়া গেছে যার শক্তি ১২৫ গিগা ইলেকট্রন ভোল্টের (আলোর গতির এককে) কাছাকাছি। হিগসের শক্তিও এমন হওয়ার কথা। উল্লেখ্য আর কোন কণার ভরই এমন হওয়া সম্ভব না। আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিচের ছবিটা দেখেন: গতকালই এই গ্রাফ প্রকাশ করা হয়েছে। ১২৫ জিইভি-র কাছাকাছি একটা টিলা চোখে পড়ে কি? Mass dis tribution for the two-photon channel. The strongest evidence for this new particle comes from analysis of events containing two photons. The smooth dotted line traces the measured background from known processes. The solid line traces a statis tical fit to the signal plus background. The new particle appears as the excess around 126.5 GeV. The full analysis concludes that the probability of such a peak is three chances in a million. হিগসের পরিচয় খুব সুন্দর ও সহজভাবে পেতে চাইলে পিএইচডি কমিক্স এর এই ভিডিওটি দেখা যেতে পারে, The Higgs Boson Explained from PHD Comics on Vimeo. হিগস কণা বিষয়ক অন্যান্য লিংক: