ইমাম আবু হানীফা নামে একজন প্রসিদ্ধ তাবে তাবেয়ী ছিলেন, যার জন্ম ৮০ হিজরীতে ও মৃত্যু ১৫০ হিজরীতে। আবু হানীফা তার উপনাম ছিলো কারণ তার প্রথম সন্তান ছিলো মেয়ে যার নাম ছিলো হানীফা (আবু হানীফা - হানীফার বাবা). তার আসল নাম ছিলো নুমান বিন সাবিত।
আর "মাযহাব" শব্দের অর্থঃ হচ্ছে পথ বা চলার পদ্ধতি।
সুতরাং, হানাফী মাযহাব কথাটির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ইমাম আবু হানীফার চলার পদ্ধতি বা তরীকা।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, ইমাম আবু হানীফার কিভাবে চলতেন?
এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেন,
"ইযা সাহহাল হাদীস, ফাহুয়া মাযহাবি" - যখন কোনো সহীহ হাদীস পাবে, সেটাই আমার মাযহাব।
অর্থঃ াৎ তিনি কখনো কোনো ফতোয়া দিলে পরে দেখা গেলো সহীহ হাদীস তার বিপরীত তখন - সহীহ হাদীসটাই তার মাযহাব হবে।
কারণ, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের মাঝে আদর্শ হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহকে রেখে গেছেন, কোনো ইমাম বা পীর বুজুর্গকে রেখে যান নাই। তাই কুরআন আর সুন্নাহর বিপরীত সমস্ত কিছুই ভুল ও বাতিল।
সুন্নাহর লিখিত ফর্ম হলো - হাদীস।
হাদীসের মাঝে কিছু জাল ও জয়ীফ হাদীস আছে যেইগুলো দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য না। এই জন্য ইমাম আবু হানীফা এই কথা বলেন নি যে, হাদীস পেলেই সেটা আমার মাযহাব। বরং তিনি বলেছেন, যখন কোনো "সহীহ" হাদীস পাবে সেটাই আমার মাযহাব।
সমস্ত আলেমগণ এই ব্যাপারে একমত (বেদাতী মূর্খ ছাড়া), বুখারী ও মুসলিমের সবগুলো হাদীস সহীহ।
সুতরাং, বুখারী ও মুসলিমে কোনো হাদীস যদি ইমাম আবু হানীফার মতের বিরোধী হয় বা বিপরীত হয়, সেক্ষেত্রে বুখারী মুসলিমের হাদীসই তার মত হবে, এটাই ইমাম আবু হানীফার মাযহাব।