1 Answers
কোনো গর্ভবতী মহিলা যে ওষুধ খান, তা মূলতঃ অমরার মধ্যে দিয়ে ভ্রূণের কাছে পোঁছায়- এটা সেই একই রাস্তা, যা দিয়ে ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন যায়। গর্ভাবস্থায় মহিলারা যেসব ওষুধ খান, তা বিভিন্ন ভাবে ভ্রূনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলি সরাসরি ভ্রণের ওপর কাজ করে তার ক্ষতি করতে পারে, অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটাতে(যার ফলে জন্মগত ত্রুটি হয়) বা মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এগুলি প্রায়শই রক্তনালীগুলিকে সংকীর্ণ করে দিয়ে (সঙ্কুচিত করে) এবং ফলস্বরূপ মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে অমরার কার্যকারিতা বদলে দিতে পারে। কখনো কখনো এর ফলে বাচ্চা হয় কম ওজনের এবং অপূর্ণ। এরা জরায়ুর পেশীগুলিকে জোর করে সঙ্কুচিত হতে বাধ্য করে, ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে পরোক্ষ ভাবে ভ্রূণটির ক্ষতি হয় অথবা অকালে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় বা প্রসব হয়ে যেতে পারে। আন্তঃভিলিয় পথে ভিল্লির মধ্যে বাচ্চার রক্ত থেকে মায়ের রক্তকে আলাদা রাখে একটা পাতলা পর্দা (অমরা ঝিল্লি)। মায়ের শরীরের ওষুধ এই পর্দা ভেদ করে ভিল্লির মধ্যকার রক্তনালিকায় চলে যেতে পারে এবং নাড়ীর মধ্যে দিয়ে তা ভ্রূণে পোঁছে যেতে পারে। কোনো ওষুধ ভ্রণের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করে ভ্রণটির বিকাশ কি অবস্থায় রয়েছে এবং কিরকম শক্তির ও কত মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে তার ওপর। কিছু কিছু ওষুধ গর্ভধারণের প্রাথমিক অবস্থায় (নিষেকের ২০ দিনের মধ্যে) নিলে ভ্রূণটিকে মেরে ফেলতে পারে, আবার একদমই কোন প্রভাব নাও ফেলতে পারে। এইরকম গোড়ার দিকে ভ্রণটি দারুণ ভাবে জন্মগত ত্রুটি নিরোধক থাকে। তবে, ভ্রূণ বিশেষতঃ নিষেকের পর ৩য় থেকে ৮ম সপ্তাহ পর্যন্ত জন্মগত ত্রুটির ব্যাপারে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, যখন এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলির গঠন হতে থাকে। এই সময়ে কোনো ওষুধ ভ্রূণ পর্যন্ত পৌঁছালে হয় তার কোনো প্রভাবই থাকবে না, নতুবা তা গর্ভপাত ঘটাবে, স্পষ্ট জন্মগত ত্রুটির সৃষ্টি করবে বা এমন সূক্ষ্ণ কিন্তু স্থায়ী ত্রুটি ঘটাবে, যা অনেকটা বড় হওয়ার পর ধরা পড়বে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয়ে যাবার পর ওষুধ খেলে তাতে স্পষ্ট জন্মগত ত্রূটি সৃষ্টি না হবারই কথা, কিন্তু তা স্বাভাবিক ভাবে গঠিত অঙ্গ ও কোষকলার যা কার্যকারিতা, তাকে বদলে দিতে পারে। কোনো ওষুধ গর্ভাবস্থায় খেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব ও ভ্রণের ওপর ঝুঁকি কতটা, এর ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ওষুধগুলিকে শ্রেণীবিভক্ত করেছে। কিছু কিছু ওষুধ ভীষণভাবে বিষাক্ত এবং তা গর্ভবতী মহিলাদের কখনোই গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ সেগুলি সাংঘাতিক রকমের জন্মগত ত্রুটি ঘটায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় থ্যালিডোমাইড (বাণিজ্যিক নাম থ্যালোমিড)। বহু দশক আগে, এই ওষুধটি যে সব মহিলারা গর্ভাবস্থায় নিয়েছিলেন, তাদের বাচ্চাদের হাত, পা দারুনভাবে অপুষ্ট হয়েছিল এবং অন্ত্র, হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীগুলিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। কিছু কিছু ওষুধ পশুদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটির সৃষ্টি করে, কিঞ্চু মানুষের মধ্যে তেমন প্রভাব দেখা যায় না। এর একটি উদাহরণ হল মেক্লাইজিন (বাণিজ্যিক নাম- অ্যান্টিভার্ট), যা চলাফেরায় দূর্বলতা, গা-গুলোনো এবং বমিভাবের জন্য প্রায়শই নেওয়া হয়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy