1 Answers

ক্রিকেটারদের অতি পরিচিত একটি ইনজুরি হচ্ছে হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন। উরুর পিছন দিকের সেমিটেনডিনোসাস, সেমিমেমব্রেনোসাস, বাইসেপস ফিমোরিস মাংসপেশীগুলোকে একত্রে হ্যামস্ট্রিং পেশী বলা হয়। ব্যাটিং, বোলিং, বা ফিল্ডিং-এ দ্রুত দৌড়ানোর সময় হঠাৎ অতিরিক্ত চাপের ফলে এই মাংসপেশীগুলো সাধ্যের অতিরিক্ত টান টান বা প্রসারিত হয়। ফলে, পেশীতে খিঁচ ধরে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রিকেটীয় ইনজুরির ১৫ শতাংশই হ্যামস্ট্রিং-জনিত। বোলার, বিশেষতঃ ফাস্ট বোলারদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে বল করে থাকেন, তাদের এ ধরণের ইনজুরি বেশী হতে দেখা যায়। ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও ঘটে এ ইনজুরি। হ্যামস্ট্রিং-এর চোটের কারণেই মাইক হাসি বিশ্বকাপ দলের বাইরে। ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারকে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে এই হ্যামস্ট্রিং-এর ইনজুরির কারণেই। সাধারণত খেলার আগে যথাযথ ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে এ ইনজুরির প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়। কারণ, ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে পেশী-তন্তুর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এর প্রসারণক্ষমতাও খানিকটা বৃদ্ধি পায়। ট্রেনিং সেশনে বা ম্যাচের সময় কোচ বা সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি বোলারের বোলিংয়ের পরিমাণের রেকর্ড রাখেন অতিরিক্ত বোলিং করা থেকে বোলারকে রক্ষার জন্য। কোন কারণে হ্যামস্ট্রিং মাংসপেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রাথমিকভাবে বিশ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বরফ লাগানো, পা উঁচু করে রাখা, ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি পরামর্শ দেয়া হয়। চামড়ায় সরাসরি বরফ লাগালে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আইস প্যাক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়ের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলে। বেশীর ভাগ হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন ছয় সপ্তাহের ভেতর ভাল হয়ে যায়, তবে পুরোপুরি ভাল হওয়ার আগেই খেলায় ফিরলে এ ইনজুরি বার বার হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

2803 views