1 Answers
ব্রংকাইটিস হল শ্বাসনালীর প্রদাহ, এই নালী ট্রাকিয়া থেকে ফুসফুসকে যুক্ত করে। এই সুক্ষ, শ্লেষ উৎপাদক নালীটি শ্বসনতন্ত্র, শ্বাসকার্যে ব্যবহৃত অঙ্গ ও টিস্যুগুলোকে রক্ষা করে রাখে। তাই এই নালীতে সংক্রমণ হলে ফুসফুসসহ অন্যান্য দরকারি অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। যখন একটি শিশু ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হয় তখন তার শ্বাসনালী দিয়ে বাতাস চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে ফলে টিস্যুগুলোর ক্ষতি হয় এবং শ্লেষ্মা বা মিউকাস বেশি করে তৈরি হতে থাকে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা শুরু হয়। ব্রংকাইটিস দুই ধরনের হয়। অ্যাকিউট ও ক্রনিক। অ্যাকিউট ব্রংকাইটিস সাধারণত বেশি তীব্র হয় ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেই তা সেরে যেতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ তার জীবনে কখনো না কখনো এই ব্রংকাইটিসের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ক্রনিক ব্রংকাইটিসের তীব্রতার মাত্রা তেমন না হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সম্পূর্ণরূপে সেরে উঠতে অনেক সময় কয়েক মাস থেকে বছরও লেগে যেতে পারে। ধূমপায়ীরাই বেশিরভাগ এই রোগে আক্রান্ত হন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সামান্য ইনফেকশন থেকে অনেক সময় ব্রংকাইটিসের সুচনা হতে পারে খুব সহজেই। কারণ তাদের ইমিউন শক্তি এমনিতেই কম থাকে। তাই সামান্য একটু ঠাণ্ডা লাগা বা কাশি-সর্দির ইনফেকশন অনেক সময় ঘাতকরূপ ধারন করে। এছাড়াও আমাদের দেশে শিশুদের ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হবার অন্যতম বড় কারণ হল দূষিত আবহাওয়া। বেশিরভাগ শিশুদের বিশেষ করে শহুরে শিশুরা গাড়ির ধোঁয়া, ধুলাবালি, বাতাসে উপস্থিত বিষাক্ত গ্যাস গ্রহন করে। এসবকিছুই ব্রংকাইটিসের কারন হতে পারে। আবার অনেক বাচ্চারাই অভিভাবকের দ্বারা সেকেন্ডারি ধূমপানের শিকার হয়ে থাকে যা তাদের ব্রংকাইটিসের ঝুঁকির মাঝে ফেলে দেয়। আবার কোন কোন শিশু অনেক সময় তাদের মেডিক্যাল কন্ডিশনের জন্যও শিকার হয় ব্রংকাইটিসের। এছাড়াও সময়ের পূর্বে জন্মগ্রহণকারী শিশুদেরও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। সাধারণত রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্স রে করলেই ব্রংকাইটিস আছে কি না তা বোঝা যায়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy