1 Answers
ক্যান্সার কি সেটা এখন সকলেই কমবেশি জানেন। বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারনভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়, একে টিউমার বলে। এই টিউমার দুই ভাগে বিভক্তও- বেনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট । এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই হচ্ছে মূলত ক্যান্সার। আবার অনেক ক্যান্সার প্রথমে বেনাইন টিউমার হিসাবে শুরু হয়, পরে তার মধ্যেকার কিছু কোষ পরিবর্তিত (ট্রান্সফর্মেসন) হয়ে ম্যালিগন্যান্ট (অর্থাৎ ভেদক ক্ষমতাযুক্ত) হয়ে যায়।
এইসবের সাথে এটাও অনেকেই জানেন যে ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। এবং সত্যি বলতে কি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পরে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনও চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরেনর চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে সেই সাথে এটাও সত্য যে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি।
তাই আসুন, জেনে নেয়া যাক ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে। এই লক্ষণ গুলো দেখা গেলো মানেই যে আপনার ক্যান্সার হয়েছে তা নয়। তবে ক্যান্সার রোগীদের মাঝে এই লক্ষণ গুলো নিশ্চিত রূপেই দেখা যায়।
ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ সমূহ-
- বিনা কারণেই খুব ক্লান্ত বোধ করা।
- স্বাভাবিকের চাইতে বা অতীতের চাইতে ক্ষুধা কমে যাওয়া।
- শরীরের যে কোনও জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া। কখনও এই চাকায় ব্যাথা হতে পারে, কখনও ব্যাথা নাও হতে পারে।
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকা, কোনও কিছুতেই না সারা। কিংবা অনেকদিন যাবত গলা ভাঙ্গা থাকা।
- মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন আসা। ঘন ঘন ডায়রিয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া।
- অল্প অল্প বা বেশি জ্বর হওয়া, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া।
- অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া।
- কোথাও কেটে গেলে অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া, এবং রক্তপাত বন্ধ হতে না চাওয়া।
- ত্বকের ওপরে কোথাও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাওয়া। কোনও তিলন বা অন্য কোনও কিছুর আকার বা চেহারা পরিবর্তন।
- স্তনে ব্যথা হওয়া, কিংবা পুঁজ বের হওয়া।
- দীর্ঘদিন যাবত প্রচণ্ড মাথা ব্যথা থাকা। ক্রমশ ব্যথার পরিমাণ বাড়তে থাকা।
- ক্ষতস্থান শুকাতে না চাওয়া।
- এই লক্ষণ গুলোর মাঝে এক বা একাধিক লক্ষণ চোখে পড়া মাত্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। মোটেও অবহেলা করবেন না। এক মুহূর্তের অবহেলা হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবননাশের কারণ।
সেই সাথে ত্যাগ করুন ক্যান্সারের জন্মদানকারী কিছু অভ্যাস -
- উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার স্তন, অন্ত্র এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
- ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। ধূমপানে সর্বাধিক ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
- জর্দা, সাদাপাতা, তামাক সেবন বন্ধ করুন। কারণ এগুলো মুখ, মাঢ়ি এবং গলনালীর ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
- মদ পানে বিরত থাকুন। কারণ এর দ্বারা লিভার ও পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে।
- আচার, কাসুন্দি, শুঁটকি এবং লবণ দেয়া মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এর দ্বারা অন্ননালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।
- সান স্ক্রিন ও ছাতা ছাড়া রোদে যাবেন না। ত্বকের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা প্রবল।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy