3 Answers

ঝড়তি পড়তি বাগধারাটির অর্থ - ছোটখাটো অংশ। 

1934 views

ইসলাম শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষকে সর্বোচ্চ চারজন নারীকে বিবাহ করা বৈধ

আল্লাহ তায়ালা বলেন, বিবাহ কর নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই ,তিন আথবা চারটি। আর যদি আশংকা কর যে সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকেই বা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ কর। এতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশী। (সুরা নিসাঃ ০৩)।

এই আয়াতে বলা হয়েছে যে কোনো মুসলমান ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে করতে পারে, কিন্তু চারের বেশি নয়। তবে তাতে শর্ত হলোঃ সকলের মাঝে সমতা বহাল রাখার যোগ্য হতে হবে।

অর্থাৎ স্ত্রীদের মাঝে একাই রকম ভালবাসা, খাদ্য, বস্ত্র দিতে হবে এবং তাদের একের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না।

আর যে স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার বা সমতা রাখতে পারবে না তাহলে তাকে একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। তবে সুবিচার করা খুবই কষ্টকর।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: আর তোমরা যতই ইচ্ছা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার করতে পারবে না; যদিও তোমরা প্রবল ইচ্ছা কর; অতএব তোমরা কোন একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড় না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রেখ না। (সুরা নিসাঃ ১২৯)।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির দুইজন স্ত্রী আছে, কিন্তু সে তন্মধ্যে একজনের দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামাতের দিন তার অর্ধদেহ ধসাবস্থায় উপস্থিত হবে। (আহমাদ: ২/৩৪৭, হাকিম: ২/১৮৬)।

পুরুষের জন্যে এক সাথে চারটির বেশী স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ, এটা দলীল দ্বারা প্রমাণিত।

সালেম (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, গায়লান বিন সালামাহ নামে এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে। তার দশজন স্ত্রী ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, তুমি এদের থেকে চারজন চয়ন করে নাও।

অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, বলা হয়েছে অন্যদের পৃথক করে দাও তিনি উমার (রাঃ)‎ এর যুগে বাকি ছয়জনকে তালাক দিয়ে দেন। (মুসনাদ আহমাদ: ২/১৪, সনদ সহীহ)।

এ হাদীস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হলো যে, একই সময়ে যদি চারজনের বেশী স্ত্রী রাখা বৈধ হতো তবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) গায়লান (রাঃ) কে। দশজন স্ত্রীর মধ্যে যে কোন চারজনকে রেখে অবশিষ্ট ছয়জনকে তালাক দিতে বলতেন না, কেননা তারা সবাই ঈমান এনেছিলেন। এখানে এটাও স্মরণ রাখার কথা যে, গায়লান (রাঃ)-এর নিকট তো দশজন স্ত্রী বিদ্যমান ছিলেনই, তথাপি তিনি ছয়জনকে পৃথক করিয়ে দিলেন, তাহলে নতুনভাবে চারজনের বেশী স্ত্রী রাখা কিরূপে সম্ভব হতে পারে?

ইসলাম গ্রহণের পর যদি কারো নিকট চারের অধিক স্ত্রী থাকে এ প্রসঙ্গে ওয়াহব আল আসাদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম কবূল  করি  তখন আমার  আটজন  স্ত্রী  ছিল। তিনি বলেন, আমি  এ  সম্পর্কে  নবী  করীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত  করলে  তিনি বলেন, তুমি  এদের  মধ্যে  চারজনকে  গ্রহণ  করো।

(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/ তালাক, হাদিস নম্বরঃ ২২৩৫ হাদিসের মানঃ সহিহ)।


1934 views

ইসলাম পুরুষকে শর্তসাপেক্ষে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। তবে এর লাগামহীন অনুমতি দেওয়া হয়নি, বরং মানুষের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে এর সংখ্যা একসঙ্গে চারজনে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। তাই কেউ যদি সব স্ত্রীর ওপর সমান অধিকার রক্ষা করার প্রতি আস্থাশীল হয়, তাহলে তার জন্য একাধিক বিবাহ করা বৈধ। (তাফসিরে মাজহারি ২/২১৯)

1934 views