#সাধারণ জ্ঞান
3430 views

1 Answers

উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহ বিশ্লেষণ করলে পরিসংখ্যান উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের কতগুলি বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে । এর মধ্যে মৌলিক বৈশিষ্ট্য গুলি হচ্ছে : ১। পরিসংখ্যান হলো তথ্যের সমষ্টি :পরিসংখ্যান শব্দটি হতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, পরিসংখ্যান একাধিক সংখ্যা সম্বলিত হতে হবে। শুধুমাত্র একটি সংখ্যাকে পরিসংখ্যান নামে অভিহিত করা যায় না , কিন্তু কতগুলি তথ্যের সমষ্টিকে এই নাম দেওয়া যায়। কোন একটি লেন-দেন কোন নির্দিষ্ট ক্রেতা বা বিক্রেতার নিকট অর্থঃ পূর্ণ হতে পারে। কিন্তু পরিসংখ্যানের দৃষ্টিকোন থেকে এর কোন গুরুত্ব নেই । কিন্তু কোন একটি শহরে কোন নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদিত আদান-প্রদান গুলিকে সামগ্রিকভাবে পরিসংখ্যান নামে অভিহিত করা যেতে পারে।

২। পরিসংখ্যানে সংখ্যাসূচক প্রকাশ অত্যাবশ্যক -গুণবাচক বক্তব্য, যেমন ভাল, সুন্দর, খারাপ এই গুলি পরিসংখ্যান নহে। পরিসংখ্যান হতে হলে তথ্যের সংখ্যাত্মক প্রকাশ হতে হবে । তথ্যের প্রকাশ গুণবাচক বক্তব্যের চেয়ে সংখ্যায় ঢের বেশী যথার্থ ও নির্ভুল হতে পারে। কোনও একটি নির্দিষ্ট শিল্পের অর্ন্তগত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলির আয়তনের বিবরণ বড়, মাঝারি, ছোট ইত্যাদির ন্যায় গুণবাচক পদে প্রকাশ করা হলে তা এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলির আয়তন সম্বন্ধে সঠিক ধারণা দিতে পারে না। এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলির আয়তন মুলধনের পরিভাষায় সংখ্যাসূচক বক্তব্যের মাধ্যমে আরও ভালভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। যেমন ৫,০০,০০০ টাকা মুলধন সম্বলিত প্রতিষ্ঠান , ১০,০০,০০০ টাকা মুলধন সম্বলিত প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। তাই বলে সাধারণ গাণিতিক রাশিগুলিকে পরিসংখ্যান মনে করিলে ভুল করা হবে। ৪, ৭, ৯ ইত্যাদির মতো সাধারণ সংখ্যাগুলি পরিসংখ্যান নহে। পরিসংখ্যান হতে হলে এই গুলিকে পরিমাপের বিশেষ এককে ব্যক্ত করতে হবে।

৩। পরিসংখ্যানকে অনুসন্ধানের কোন একটি ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে : পরিসংখ্যানিক তথ্যাবলী কোন একটি পূর্ব নির্ধারিত ক্ষেত্রের সহিত সম্পর্কিত অনুসন্ধানের ফল হিসাবে উদ্ভূত হতে হবে। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য দ্ব্যর্থহীন এবং সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।

৪। পরিসংখ্যান তুলনাযোগ্য ও সমজাতীয় হতে হবে :পরিসংখ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো দুই বা ততোধিক ঘটনার মধ্যে তুলনার সুযোগ দেওয়া। তথ্য সংগ্রহের কাজ এমন ভাবে করা উচিত যাতে সেগুলির মধ্যে পারস্পরিক তুলনা সম্ভবপর হয়। তুলনাযোগ্যতার একটি অত্যাবশ্যক পূর্বশর্ত হলো তথ্যের সমপ্রকৃতি ও সমতুল্যতা । উদ্দেশ্যহীনভাবে সংগৃহিত এবং পরস্পর সম্পর্কহীন সংখ্যাসমূহকে পরিসংখ্যান বলা যায় না। একজন মানুষের উ্চচতা , একটি পরিবারের আয় এবং একটি দোকানের মোট বিক্রয় ইত্যাদিকে সংখ্যার আকারে প্রকাশ করা গেলেও এ গুলির সহযোগে কিন্তু পরিসংখ্যান গড়ে উঠবে না । কেননা এ গুলি যেমন তুলনা যোগ্য নহে, তেমনি সমপ্রকৃতিরও নহে।

৫। পরিসংখ্যান বহুবিধ কারণ দ্বারা যথেষ্ট পরিমানে প্রভাবিত হয় :- পরিসংখ্যান শুধু একটি মাত্র কারণের ফল নহে । পরিসংখ্যানিক তথ্যাদি বহুসংখ্যক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এই সব কারণের কোনটিকে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা দুরূহ ব্যাপার। যেমন কোন একটি লোকের সঞ্চয় তার আয়ের পরিমান, সঞ্চয়ের অভ্যাস, খরচের প্রকৃতি ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাজেই সঞ্চয়ের উপর আলোচনা করতে হলে যে বিভিন্ন উপাদান এই চলকে প্রভাবিত করে সে গুলি বিবেচনায় আনতে হবে।

৬। পরিসংখ্যান প্রাককলনে যুক্তিসঙ্গত পরিমানে সঠিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে : পরিসংখ্যানিক তথ্যাবলীর উপযোগিতা তাদের সঠিকতার উপর নির্ভরশীল । পরিসংখ্যানিক তথ্যাবলী নিরঙ্কুশভাবে সঠিক হওয়া সম্ভব নয়, তবে এগুলোর প্রাক্কলনে ভুলের পরিমান যথাসম্ভব কমানো এবং যথেষ্ট পরিমাণে সঠিকতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট হতে হয়। অবশ্য সঠিকতার মাত্রা অনেকাংশে কি জাতীয় তথ্য সংগ্রহিত হবে এবং কি উদ্দেশ্যে তা সংগৃহিত হবে তার উপর নির্ভরশীল।

৭। পরিসংখ্যানের তথ্যসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে সংগৃহিত হওয়া উচিত : -তথ্য সংগ্রহ সুশৃংখল হওয়া উচিত এবং এ ব্যাপারে ন্যূনতম লক্ষ্যহীনতা বা অনিয়মের স্থান নাই। লক্ষ্যহীনভাবে সংগৃহিত তথ্য ভুল স্দ্ধিান্তে নিয়ে যেতে পারে। অতএব দেখা যাচ্ছে যে , পরিসংখ্যান হলো - সংখ্যাকারে প্রকাশিত তুলনাযোগ্য ও সমজাতীয় প্রণালীতে সংস্থাপিত , যুক্তিযুক্ত সঠিকতা সহকারে প্রাক্কলিত , সুশৃংখলভাবে সংগৃহীত এবং অনুসন্ধানের যে কোন ক্ষেত্রের সাথে সহিত সম্পর্কিত তথ্যের সমষ্টি।

3430 views