1 Answers
প্রতিশোধের বিষয়ে যীশু খ্রিস্ট একটি সুস্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন, যা সহিষ্ণুতা, ক্ষমা এবং প্রেমের ওপর ভিত্তি করে। তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের বিপরীতে অপরিসীম সহানুভূতি ও ক্ষমা প্রদর্শন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষার মূল বিষয়গুলো হলো:
১. প্রতিশোধ না নেওয়া:
যীশু খ্রিস্ট স্পষ্টভাবে বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন:
- “চোখের বদলে চোখ” নীতি নয়: পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী "চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত" নীতি প্রচলিত ছিল (লেবীয় ২৪:২০)। কিন্তু যীশু এই নীতির বিপরীতে বলেন:
- “কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, মন্দ লোকের প্রতিরোধ করো না। কেউ যদি তোমার ডান গালে আঘাত করে, তাকে বাম গালও এগিয়ে দাও।” (মথি ৫:৩৯)
এর মাধ্যমে যীশু শিক্ষা দেন যে, সহিষ্ণুতা ও বিনয়কে প্রতিশোধের চেয়ে শ্রেয় বলে মনে করতে হবে।
২. শত্রুদের ভালোবাসা:
যীশু খ্রিস্ট প্রতিশোধের পরিবর্তে শত্রুদের ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
- "তোমরা শত্রুদের ভালোবাসো এবং যারা তোমাদের গালি দেয় তাদের জন্য প্রার্থনা করো" (মথি ৫:৪৪)।
এই শিক্ষার মাধ্যমে তিনি মানুষের প্রতি বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়েছেন।
৩. ক্ষমা ও শান্তির পথ:
যীশুর মতে, ক্ষমা প্রতিশোধের চেয়ে মহৎ। তিনি বলেন:
- "যদি কেউ তোমার বিরুদ্ধে পাপ করে, সাতবার নয়, বরং সত্তরবার সাতবার ক্ষমা করো" (মথি ১৮:২২)।
এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে ক্ষমার কোনো সীমা নেই, এবং প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।
৪. মানবতার কল্যাণে ত্যাগ:
যীশু তাঁর নিজের জীবন দিয়েই প্রতিশোধের পরিবর্তে আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি যারা তাকে নির্যাতন করেছিল, তাদের জন্য প্রার্থনা করে বলেছিলেন:
- "পিতা, এদের ক্ষমা কর, কারণ এরা জানে না এরা কী করছে" (লূক ২৩:৩৪)।
এই বক্তব্য তাঁর পরম ক্ষমাশীলতার উদাহরণ এবং প্রতিশোধ গ্রহণ না করার সর্বোচ্চ শিক্ষাদান।
যীশুর এই শিক্ষা মানবজাতির মধ্যে শান্তি, ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা এবং ক্ষমার আদর্শ স্থাপন করে। প্রতিশোধ সমাজে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি করে, যেখানে যীশুর শিক্ষা আমাদের শত্রুদের ক্ষমা করতে এবং শান্তির পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।