1 Answers

উদ্দীপকের ইপিজেড এলাকায় ঘনবসতি, পানি দূষণ, ডায়রিয়ার প্রকোপ, মাদকাসক্ত বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।

শিল্পায়নের ফলে শহরে বা নগরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যার বাসস্থানের সমস্যা মেটানোর জন্য নগরে বস্তি এলাকা গড়ে ওঠে। নগর সমাজে এই বস্তি এলাকা থেকেই বিভিন্ন অপরাধের (মাদক ব্যবসা, মাদকাসক্তি, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি) সূচনা হয়। পাশাপাশি শিল্পায়নের ফলে মানুষের প্রত্যাশা ও চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুরি, রাহাজানি, ছিনতাই, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, ডাকাতি, খুনসহ নানাবিধ অপরাধ শিল্পাঞ্চলে অহরহ ঘটতে থাকে। শিল্পায়নের ফলে পানি দূষণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। এই পানি গোসল ও পান করার ফলে মানুষ চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। শিল্পায়নের আরেকটি নেতিবাচক ফল হচ্ছে এর ফলে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের শিথিলতা, কৌতূহল, বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, হতাশা থেকে মুক্তি লাভ ইত্যাদি কারণে শিল্প এলাকার তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে নিজের অস্তিত্বকে যেমন বিপন্ন করছে, তেমনি তাদের পরিবারকেও বিপদে ফেলছে। এসব সমস্যার সবগুলোই সমাজজীবন তথা সমাজকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সমস্যাগুলো থাকলে উদ্দীপকের ইপিজেড এলাকার মতো অন্যান্য শিল্পাঞ্চল, নগর অথবা গ্রামের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উল্লিখিত পরিস্থিতিগুলো কোনো সমাজে সৃষ্টি হলে তা কখনোই ওই সমাজের জন্য সুখকর নয়, বরং অত্যন্ত ক্ষতিকর।

4 views

Related Questions