1 Answers

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার উক্তিটি হলো, প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি নির্ণয় করে পুকুরে সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
পুকুরে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিক খাদ্য হলো পুকুরের পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান অণুবীক্ষণিক জীব যাকে বলে প্লাংকটন। এরা দুই প্রকার। যথা-ফাইটোপ্লাংকটন বা উদ্ভিদকণা ও জুপ্লাংকটন বা প্রাণিকণা। পুকুরের পানির রং সবুজ বা সবুজাভ থাকলে বুঝতে হবে পানিতে ফাইটোপ্লাংকটন আছে। পানির রং বাদামি-সবুজ, লালচে-সবুজ বা হলদেটে সবুজ থাকলে বুঝতে হবে ফাইটোপ্লাংকটনের পাশাপাশি পুকুরে জুপ্লাংকটনের উপাদানও ভালো পরিমাণে রয়েছে। পুকুরে প্লাংকটনের উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত আলো- বাতাসের ব্যবস্থা করে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হয়।
প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য প্রয়োজন সার। তাই পুকুরের পানি পরীক্ষা করে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি সঠিকভাবে জেনে যদি সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হয় তবে মাছের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে বলে আশা করা যায়। আর যদি তা না করা হয় এবং পুকুরে মাছের খাদ্যের অভাব থাকে তাহলে মাছের উৎপাদনের পরিমাণ কমে যাবে। তাই পুকুরের পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করা দরকার। অন্যদিকে যদি প্রাকৃতিক খাদ্য থাকতেই আবার সার প্রয়োগ করা হয় তবে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবে যা মাছ খেয়ে শেষ করতে পারবে না। তখন এ অতিরিক্ত খাদ্য অর্থাৎ প্লাংকটন পানি দূষিত করবে এবং পুকুরের পরিবেশ নষ্ট করবে। যার কারণে মাছের উৎপাদনও কমে যাবে। সুতরাং, স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার উক্তিটি যথার্থ ছিল।

5 views

Related Questions