কর্মে যাদের নাহি কলঙ্ক, জন্ম যেমন হোক পুণ্য তাদের চরণ পরশে ধন্য এ নরলোক। (ভাব সম্প্রসারণ করুন)
1 Answers
মূলভাব : বংশে নয় কর্মেই মানুষের বড় পরিচয়।
সম্প্রসারিত-ভাব : অতীত গৌরব, বংশ মর্যাদা আর আভিজাত্যের অহংকার মানুষকে বড় করে না। মানুষ তার নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়৷ অতীতকে নিয়ে গৌরব করার প্রবণতা মানুষকে স্বাপ্নিক করে। বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পচারী হয় মানুষ। বংশ মর্যাদা আর আভিজাত্য মানুষের ভিতরকার মানবিক গুণাবলিকে হ্রাস করে। মনের মধ্যে
উঁচু নিচু ভেদাভেদ ও শ্রেণী বৈষ্যম্য সৃষ্টি করে এবং মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মানিত না বা স্বীকৃতি দেয়, দরিদ্রকে ঘৃণা, নীচুকে অবহেলা করার প্রবণতা সৃষ্টি করে। কিন্তু সব মানুষই এক সৃষ্টিকর্তার হাতে গড়া জীবনের চাহিদা, অধিকার সকলের সমান। সমাজে সাধারণ বলে, অর্থহীন বলে যে অপাংক্তেয় হয়ে রইবে -এ বিশ্বাস যার মধ্যে আছে তিনি সত্যিকার মানুষ নন। মানুষের সত্যিকার প্রতিষ্ঠা তার কর্মে। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে যারা পৃথিবীকে বাসযোগ্য
করে তুলেছেন, মানব কল্যাণে যারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বংশ মর্যাদায় ছোট হতে পারে কিন্তু স্বীয় কৰ্মই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি মানব পূজারী, তিনি কীর্তিমান। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। বংশ থেকে কর্ম বড়। কর্মে যে বড় তার বংশও তখন মানুষের নিকট বড় মনে হয়। কর্মে ছোট হলে, বড় বংশীও বড় হয় না।