1 Answers

বাংলা উপন্যাসে প্রথম পরাবাস্তববাদী লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-৭১)। তিনি বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ যথার্থ আধুনিক ঔপন্যাসিক। উপন্যাসের বিষয় ও আঙ্গিকের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। তার ঔপন্যাসিক সত্তা দার্শনিক চেতনায় সমৃদ্ধ ফলে তা পাঠকের কাছে অভিনব হিসেবে অভিহিত হয়েছে। কাহিনী বিন্যাস ও চরিত্র চিত্রনে তিনি গতানুগতিক পদ্ধতি পরিহার করেছেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়াকে তিনি প্রকাশ করেছেন রূপক প্রতীকের মাধ্যমে ইঙ্গিতময়তায়। বাংলা সাহিত্যে যেসব উপন্যাস প্রবল সাড়া ফেলেছে। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর উপন্যাসগুলো তার মধ্যে অন্যতম।

তার প্রথম লেখা উপন্যাসে লালসালু (১ম প্রকাশ ১৯৪৮, হয় প্রকাশ ১৯৬০)। এই উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন গ্রাম বাংলার অশিক্ষা কুশিক্ষা। ধর্মের নামে স্বার্থান্ধ মানুষের কার্যকলাপ এখানে ফুটে উঠেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে একজন ভন্ড কিভাবে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয় তা তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মজিদ, জমিলা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, হাসুনীর মা ও আক্কাস প্রমুখ। তার দ্বিতীয় উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)। এই উপন্যাসের স্কুল শিক্ষক আরেফ আলী এবং গ্রামের ভন্ড দরবেশ কাদেরের পরাবাস্তবাদী দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। উনবিংশ শতাব্দীর শিক্ষিত যুবকদের উদাহরণ হলো আরেফ আলী। সে প্রতিবাদী বিবেকের তাড়নায় দংশিত।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর তৃতীয় উপন্যাস "কাঁদো নদী কাঁদো” (১৯৬৮) যা তাঁর রচিত চেতনা প্রবাহরীতির একটি উপন্যাস। আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের ভাব থাকলেও এর সমাজ জীবন পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের জীবনচিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে। এই উপন্যাসের একদিকে প্রতারক প্রেমিকের যন্ত্রণা ও অপরদিকে সরকারি হাকিম হওয়া সত্ত্বেও আত্মপাপ মোচনে নায়কের আত্মহত্যার চিত্র অত্যান্ত সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুতরাং মানব-অস্তিত্বের জিজ্ঞাসা ও তার চৈতন্যের বিভিন্ন স্তর উন্মোচনই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ঔপন্যাসিক সত্ত্বার প্রধান অন্বেষন।

4 views

Related Questions

মাতৃস্নেহের তুলনা নাই; কিন্তু অতি স্নেহ অনেক সময় অমঙ্গল আনয়ন করে। যে স্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃস্নেহের মমতার প্রাবল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আসল শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃস্নেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় না—দুর্বল অসহায় পক্ষিশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ সে কথা বোঝে না—দুর্বলের প্রতি সে স্থিরলক্ষ্য, অসহায় সন্তানের প্রতি মমতার অন্ত নাই—অলসকে সে প্রাণপাত করিয়া সেবা করে ভীরুতার দুর্দশার কল্পনা করিয়া বিপদের আক্রমণ হইতে ভীরুকে রক্ষা করিতে ব্যস্ত হয়। (সারাংশ লেখ :)
1 Answers 13 Views