1 Answers

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) কবিতার অতি আবেগ ছন্দে ও ভাষায় কিছু কিছু শিথিলতা নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও তার কবিতা বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কারণ আখ্যানকাব্য মহাকাব্য ধারার পর তিনিই প্রথম বাংলা কাব্যের ইতিহাসে গীতিকবিতার উৎস-মুখ খুলে দিয়েছিলেন। 'ভোরের পাখি' কবি বিহারীলালের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল সঙ্গীত শতক (১৮৬২), 'বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০), 'নিসর্গ সন্দর্শন' (১৮৭০), 'বন্ধুবিয়োগ' (১৮৭০), 'প্রেমপ্রবাহিনী' (১৮৭১), 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯) এবং সাধের আসন' (১৮৮৯)। সঙ্গীত শতক' কবির গানের সংকলন। 'নিসর্গ সন্দর্শন' কাব্যে মানবিক প্রকৃতির সঙ্গে কবি-হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন হতে দেখা যায়। প্রকৃতিকে যথাযথভাবে দেখার ফলে কবি হৃদয়ের মুগ্ধতার পরিচয় ছড়িয়ে আছে 'সমুদ্র-দর্শন', 'নভোমণ্ডল' প্রভৃতি কবিতায়। জননী-জায়া- কন্যা-ভগিনী-প্রভৃতি বিবিধ মূর্তিধারিণী নারীর স্নেহ-মায়া মমতাময় রূপ ও সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন কবি বঙ্গসুন্দরী কাব্যে। নিজের এবং বন্ধুবর্ণের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নিজের প্রেমানুভূতিকে কাব্যের আকারে রূপদান করেছেন কবি তাঁর বন্ধুবিয়োগ' ও 'প্রেমপ্রবাহিনী' কাব্যে। বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্য হল 'সারদামঙ্গল', যেখানে কবির সৌন্দর্যচেতনা ও গীতিবৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “যে প্রত্যুষে অধিক লোক জাগে নাই এবং সাহিত্য কুঞ্জে বিচিত্র কলগীত কৃজিত হইয়া উঠে নাই। সে ঊষা লোকে কেবল একটি ভোরের পাখি সুমিষ্ট সুন্দর সুরে গান ধরিয়াছিল সে সুর তাহার নিজের।" রবীন্দ্রনাথের বউঠান কাদম্বরী দেবীর অনুরোধে কবি বিহারীলাল 'সাধের আসন কাব্য তার সৌন্দর্যভাবনার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

4 views