1 Answers

সংস্কৃতশাস্ত্র অনুসরণ করে বলা যায় নায়কের দ্রুত ইতি ঘটে না, আদি থেকে অস্তা পর্যন্ত নায়ক চরিত্রের বিচরণ থাকবে সমগ্র রচনায় নায়ক উপস্থিত থেকে অপরাপর চরিত্র ও ঘটনা পরম্পরাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং নায়কের মধ্য দিয়েই লেখক তার জীবন দীক্ষা প্রকাশ করবেন। কাব্যের নামকরনে মেঘনাদ হলেও নায়ক রাবন। সংস্কৃত রামায়নে রাবণকে খল চরিত্রে দেখানো হলেও কবি মধুসূদন তাঁর কাব্যে রাবণকে নায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাবণ একজন দেশ প্রেমিক। তাঁর মুখে উচ্চারিত হয়েছে " জন্মভূমি রক্ষা হেতু কে মরে ডরিতে"। আবার একই সাথে তিনি স্নেহ বাৎসল পিতা। পুত্রের মৃত্যুতে তারই মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে, “হা পুত্র। বীর বাহু।” মেঘনাদবধ কাব্যের নায়ক রাবণ। কারণ রাবণ চরিত্রটির মধ্য দিয়ে কবির আত্মার প্রতিফলন ঘটেছে। ট্রাজেডির নায়ক সেই চরিত্রকে বোঝানো হয় যার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে, ভালো মন্দ মিশ্রিত হবে এবং যার doing and suffering তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করবে। সুতরাং কাহিনী বর্ণনায় ও চরিত্র চিত্রনে মেঘনাদকে ছাপিয়ে উঠেছে রাবণ, তাই সে আলোচ্য গ্রন্থের নায়ক।

23 views

Related Questions