1 Answers

মূলভাব: সকল উপাসনালয় থেকে শ্রেষ্ঠ মানুষের হৃদয় বা মন। কেননা পবিত্র হৃদয়েই অবস্থান করেন স্রষ্টা মানব জীবনের হৃদয়ের থেকে বড় মন আর কোথাও নেই। তাইতো কবি বলেছেন এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব –আশরাফুল মাখলুকাত। কারণ মানুষকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বিবেক বিবেচনা ও বুদ্ধি সহকারে অপর সব জীব অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ অন্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর সেজন্য মানুষকে ন্যায়- অন্যায়, পাপ – পুণ্য বিচার করে জীবন পরিচালনা করতে হয়। সকল পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ ধর্ম – অধর্মের পার্থক্য নির্ধারণে মানুষ কে পরিচালিত করে তার মন। এই মন বা হৃদয় দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষ সৎ কাজ করে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। মানুষ নিজেকে সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়নিষ্ঠা, দয়া প্রভৃতি সৎ গুণাবলীর মাধ্যমেই কল্যাণের পথে বা মঙ্গলের পথে পরিচালিত হয়। অপরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার যে প্রবণতা মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয় তার উৎস স্থল হচ্ছে মন বা হৃদয়।

মানুষের যদি মন বা হৃদয় নাই থাকতো তাহলে মানুষ আর মানুষ থাকত না। স্রষ্টার আরাধনা করার পবিত্র ও উৎকৃষ্ট স্থান মসজিদে, মন্দিরে দিনরাত অবস্থান করে প্রার্থনা করার তাৎপর্য এইযে, সুন্দর মোহমুক্ত পবিত্র পরিবেশে হৃদয়কে ষড়রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা এবং আল্লাহর নির্ধারিত পথে চলে তার গুণ-কীর্তন করা।

সুতরাং, এই হৃদয়ই সমস্ত উপাসনালয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। হৃদয় কলুষিত করে দিন রাত- ভর উপাসনা করলেও কোনো ফল হবে না। কাজেই সব উপাসনালয় থেকেই শ্রেষ্ঠ হলো মানুষের হৃদয়। মানুষের নির্মল হৃদয়ই শ্রেষ্ঠ ইবাদত খানা। হৃদয় মানুষকে ন্যায়ের পথে, সত্যের পথে, ধর্মের পথে পরিচালিত করে। মসজিদ- মন্দিরের উপাসনাকে সার্থক করে তোলে।


মন্তব্য: বহু অর্থব্যয়ে সুশোভিত অট্টালিকায় নির্মিত মন্দির বা মসজিদ অপেক্ষা নিষ্কলুষ হৃদয়ের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। মানুষের হৃদয় বা মন অপেক্ষা বড় কোন মন্দির কাবা নাই। মানুষের মনই হচ্ছে এক একটা মসজিদ। 

4 views

Related Questions

মাতৃস্নেহের তুলনা নাই; কিন্তু অতি স্নেহ অনেক সময় অমঙ্গল আনয়ন করে। যে স্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃস্নেহের মমতার প্রাবল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আসল শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃস্নেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় না—দুর্বল অসহায় পক্ষিশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ সে কথা বোঝে না—দুর্বলের প্রতি সে স্থিরলক্ষ্য, অসহায় সন্তানের প্রতি মমতার অন্ত নাই—অলসকে সে প্রাণপাত করিয়া সেবা করে ভীরুতার দুর্দশার কল্পনা করিয়া বিপদের আক্রমণ হইতে ভীরুকে রক্ষা করিতে ব্যস্ত হয়। (সারাংশ লেখ :)
1 Answers 13 Views