1 Answers
ভাবসম্প্রসারণ: ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি
মূলভাব: ক্ষুধার তীব্রতার কাছে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য ম্লান। সৌন্দর্য হলো অপ্রয়োজনের আনন্দ । প্রয়োজন যখন দুষ্প্রাপ্য, নাগালের বাইরেচলে যায় তখন কাব্যের ছন্দ-লালিত্য অবাস্তব বলে মনে হয় ।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের মৌল মানবিক চাহিদার প্রধান উপকরণ খাদ্য। জীবন বাঁচাতে তাই খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। এই বেঁচে থাকা এবং টিকে থাকার জন্য প্রথমেই দরকার হয় ক্ষুধায় অন্ন। তবে একথাও ঠিক যে, মানুষের বেঁচে থাকা কেবল ক্ষুধা-নিবৃত্তির জন্য নয়। তার মানবিক বৃত্তি আরও নানাভাবে প্রকাশিত হয়। যেমন মানুষ কবিতা পছন্দ করে এবং সংগীতের প্রতি তার অনুরাগ জন্মগত। সে ফুল ভালোবাসে, ভালোবাসে প্রকৃতিকে। ভালোবাসে জ্যোত্মারাত্রি এবং আকাশের চাঁদকে। আকাশের চাঁদ তার কাছে সুখ-স্বপ্নের প্রতীক। ভালোবাসার সঙ্গে এই সৌন্দর্যবোধের সম্পর্ক নিবিড়।
কিন্তু মানুষের এই বোধ ও বৃত্তি সবই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, যখন তার ক্ষুধার অন্ন জোটে না। তাছাড়া ক্ষুধার্তের কাছে পৃথিবীর চেহারা একেবারেই আলাদা। তার কাছে পৃথিবী কাব্যময় নয়, একেবারে গদ্যময়। বাস্তবের রুটিই তার কাছে চাঁদের থেকে অধিকতর সুন্দর। একটুকরা ঝলসানো রুটি পেলেই কৃতার্থবোধ করে। কবিতার বিলাসিতা এবং পূর্ণিমা চাঁদের শোভা সে বুঝতে চায় না, পারেও না। কবির দেখা পূর্ণিমার চাঁদ তাই তার কাছে ঝলসানো একখণ্ড রুটির প্রতীক। ক্ষুধিত মানুষের ক্ষুধার আবেদন চিরন্তন।
মন্তব্য: তাই ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৃথিবী একটি চরম বাস্তবতার স্থান।