1 Answers

সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া এবং সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলোর মধ্যে পার্থক্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া:

সকর্মক ক্রিয়া:

  • যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ অর্থ বোঝাতে একটি কর্ম (অবজেক্ট) প্রয়োজন, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
  • অর্থাৎ, এই ক্রিয়াগুলোতে ক্রিয়ার কাজটি কোনো ব্যক্তির বা বস্তুর উপর সরাসরি কার্যকর হয়।
  • উদাহরণ:
    • সে বইটি পড়ে। (এখানে 'পড়ে' হলো সকর্মক ক্রিয়া, কারণ 'বইটি' কর্ম হিসেবে কাজ করছে।)
    • তুমি খেলাধুলা করছ। ('খেলাধুলা' কর্ম হিসেবে আছে, তাই 'করছ' ক্রিয়াটি সকর্মক।)

অকর্মক ক্রিয়া:

  • যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে কোনো কর্মের প্রয়োজন হয় না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
  • এই ধরনের ক্রিয়ায় কেবল ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তবে তা কোনো বস্তুর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
  • উদাহরণ:
    • সে হাসে। ('হাসে' একটি অকর্মক ক্রিয়া, কারণ এটি সরাসরি কোনো বস্তু বা ব্যক্তি উপর প্রভাব ফেলে না।)
    • তুমি ঘুমাচ্ছ। (এখানে 'ঘুমাচ্ছ' একটি অকর্মক ক্রিয়া।)

২. সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া:

সমাপিকা ক্রিয়া:

  • যে ক্রিয়া বাক্যে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং এর পরে কোনো অতিরিক্ত ক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
  • এটি নিজে থেকে সম্পূর্ণ হয়।
  • উদাহরণ:
    • সে খেয়েছে। ('খেয়েছে' হলো সমাপিকা ক্রিয়া কারণ বাক্যটি পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে।)
    • তুমি এসেছ। (এখানে 'এসেছ' সমাপিকা ক্রিয়া, কারণ বাক্যটি সম্পূর্ণ অর্থপূর্ণ।)

অসমাপিকা ক্রিয়া:

  • যে ক্রিয়া বাক্যে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং এর সাথে অতিরিক্ত ক্রিয়া বা বাক্যের প্রয়োজন হয়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
  • উদাহরণ:
    • সে পড়তে শুরু করল। (এখানে 'শুরু করল' অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে না; 'পড়তে' এই অর্থকে পূর্ণতা দিচ্ছে।)
    • তুমি কথা বলতে যাচ্ছ। ('যাচ্ছ' একটি অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে না, 'কথা বলতে' এর অর্থ সম্পূর্ণ করছে।)

সংক্ষেপে পার্থক্য:

  • সকর্মক: ক্রিয়ার জন্য একটি কর্ম বা অবজেক্ট প্রয়োজন (যেমন: পড়া, খেলা)।
  • অকর্মক: ক্রিয়ার জন্য কোনো কর্ম বা অবজেক্টের প্রয়োজন নেই (যেমন: হাসা, ঘুমানো)।
  • সমাপিকা: ক্রিয়া নিজেই সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে (যেমন: খাওয়া, আসা)।
  • অসমাপিকা: ক্রিয়া নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না, এর পর আরও কিছু প্রয়োজন হয় (যেমন: শুরু করা, যাওয়া)।
4 views

Related Questions

Translate the following passage into English:বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির উৎসে যদি আমরা যাই তাহলে দেখবো, বাংলা ভাষা প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন। কিন্তু, জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালির বয়স কয়েক হাজার বছর। এখানে বিভিন্ন জাতি-উপজাতি আগমনের ফলে, ও জাতির মিশ্রণে বাঙালি একটি মিশ্র জাতিসত্তা হিসেবে বিকশিত হয়েছে। ককেশীয়, ভোটচিন, অস্ট্রিক, নানা বর্ণ নিগ্রোয়েড ইত্যাদি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিশ্রণেই বাঙালি জাতিসত্তা গড়ে উঠেছে এই ভূখণ্ডে। উভয় বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানব বসতির প্রমাণ ও উপকরণ আবিষ্কৃত হয়েছে। এসবের বিশদ আলোচনায় না গিয়েও বলা চলে যে যখন ইতিহাসের যবনিকা উন্মোচিত হলো সে সময়ও বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর নামানুসারে বাংলায় বেশ কিছু জনপদের পরিচয় আমরা প্রাচীন আর্য গ্রন্থসমূহ, যেমন রামায়ণ, মহাভারত ও অন্যান্য আদিগ্রন্থ, যেমন কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে পাচ্ছি। পুণ্ড্র, বঙ্গ, কলিঙ্গ, গৌড়, হরিকেল ইত্যাদি নাম যেমন জনপদের, তেমনি বিভিন্ন কৌম বা উপজাতির। আজ এসব কৌমের আলাদা পরিচয় আর নেই। এরা সবাই এক হয়ে মিশে গিয়ে বাঙালি নাম নিয়েছে, বাঙালি হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। বাংলা এদের সবার মুখের ভাষা ।
1 Answers 5 Views