2 Answers
এম আর আই স্ক্যান (MRI Scan)
একটা হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটা ইলেকট্রন এবং একটা প্রোটোন থাকে। এরা যথাক্রমে নিগেটিভ এবং পজিটিভ চার্জ বহন করে। প্রত্যেকটা পরমাণু একটা ক্ষুদ্র ম্যাগনেট বা চুম্বকের মত কাজ করে। মানুষের শরীরের প্রত্যেক টিস্যুর ভিতর পানি রয়েছে এবং পানিতে রয়েছে হাইড্রোজেন পরমাণু এবং এই প্রত্যেক পরমাণুই একেকটা চুম্বক হিসাবে কাজ করে। পানির পরিমানের উপর এই চুম্বক শক্তি নির্ভর করে, স্বাভাবিক টিস্যু আর টিউমার টিস্যুর ভিতরে পানির পরিমান অনুযায়ী চৌম্বক ক্ষেত্রের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
চুম্বক ক্ষেত্রকে যদি অন্য একটি শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র, অথবা রেডিওফ্রীকোয়েন্সি উদ্দীপনা দিয়ে আলোড়িত করা হয়, তাহলে আলোড়নের সময় একধরনের প্রতিচ্ছবি দিবে, আবার আলোড়ন শেষ হয়ে গেলে ভিন্ন প্রতিচ্ছবি দেবে। সব টিস্যু একইভাবে আলোড়িত হয়না, টিউমার এবং স্বাভাবিক টিস্যুর ভিতরও পার্থক্য থাকে, এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে দুই ধরনের ইমেজ তৈরী করা হয়, যেটা রোগ নির্ণয় করতে সাহায্য করে।
শরীরে কোন চুম্বকীয় পদার্থের তৈরী ইমপ্ল্যান্ট যেমন পেসমেকার (Pacemaker), এনিউরিজম ক্লিপ (Aneurysm clip) ইত্যাদি থাকলে, এম আর আই করা যায়না। ইদানীং এম আর আই সহনীয় পেসমেকার তৈরী করা হচ্ছে, তবে এগুলো ব্যয়বহুল। এম আর আই দিয়ে কনট্রাস্ট ছাড়াই রক্তনালীর ছবি তোলা যায়, যেটাকে এম আর এ (MRA- Magnetic resonance angiogram) বলে।
হার্টের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সিটি এবং এম আর আই ইকোকারডিওগ্রাফীর চেয়ে ক্ষেত্রবিশেষে বেশী তথ্য সরবরাহ করে থাকে। বিশেষকরে হার্টের ডানদিক থেকে উৎপন্ন ধমনীর ত্রুটি নির্ণয়ে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। তবে এম আর আই স্ক্যানে সিটি স্ক্যানের থেকে বেশী সময় লাগে।
সূত্রঃ রোগ নির্ণয়ে মেডিকেল ইমেজিং | মুক্তপ্রান