1 Answers
ইসলামে আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমানদের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ নয়। সুতরাং প্রচলিত হিন্দু, বৌদ্ধ, বাহায়ি, শিখ সহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মুসলিম নারী-পুরুষের বিয়ে জায়েয হবে না। আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে বিয়ের বৈধতাও শর্তহীন নয়। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মুফতি তাকি উসমানি লিখেছেন, ‘ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী নারীর সঙ্গে মুসলিম পুরুষের বিয়ে হতে পারে। তবে শর্ত হলো, নারী বাস্তবেই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী হতে হবে। বর্তমান যুগের খ্রিস্টানদের মতো হলে চলবে না, যারা নামেমাত্র খ্রিস্টান। আকিদা-বিশ্বাসের দিক থেকে এরা নাস্তিক। দ্বিতীয় শর্ত হলো, বিবাহ ইসলামী শরিয়তসম্মত পন্থায় দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে। ’ (ফাতাওয়া উসমানি : ২/২৫৭) মুসলিম হয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন— ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর নারীদেরকে মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। (সূরা বাকারা, ২; ২২১)। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কে বিয়ে করতে গিয়ে অনেকে ধর্মকে বাধা হিসেবে দেখে নিজের জীবন থেকেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখে অথবা ধর্মকে নিছক টাইটেল হিসেবে লাগিয়ে রাখে। অথচ ধর্ম হলো আমাদের অস্তিত্ব। অস্তিত্বই যদি না থাকে, তাহলে এই ঠুনকো বিয়ে দিয়ে কী হবে? ঠুনকো এই বিয়েও ইসলামে গ্রহণীয় হবেনা। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক যিনা-ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ’। আর এ— সম্পর্কে জন্ম নেয়া সন্তান অবৈধ সন্তান বলে বিবেচিত হবে। ফলে তাদের দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে ভয়াবহ শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মানুষ যেকোনো ধর্মে বা রাষ্ট্রেই হোক না কেনো, কখনোই সে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। তার স্বাধীনতা সীমিত ও সুনিয়ন্ত্রিত। আর একজন মুসলিমের স্বাধীনতার প্রথম শর্তই হলো, তা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি মত হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— ‘আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন-ধর্ম অন্বেষণ করবে, তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’। ( সূরা আলে-ইমরান, ৮৫ ) সুতরাং কেউ বিধর্মীর প্রেমে মজে আল্লাহর বিধানের বিরোধিতা করবে আর নিজেকে মুসলিম হিসেবে পেশ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে; তা কিন্তু হবেনা। ইসলামকে পরিপূর্ণ ভাবেই মানতে হবে। কিছু মানা আর কিছু না মানার কোনো সুযোগ ইসলামে রাখা হয়নি। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন— ‘তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের কী প্রতিদান হতে পারে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন’। {সূরা আল-বাকারা,২; ৮৫} বিবাহ একটি সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। কোরআন ও হাদিস পাঠ করে আল্লাহর নামে এ-বিবাহ সম্পাদিত হয়। তাই এ-বিষয়ে ধর্মীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। মুসলমানদের জন্য কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসরণের বিকল্প নেই। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বিবাহ আমার সুন্নত (আদর্শ)। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের অনুসরণ করে না, সে আমার দলভুক্ত (মুসলমান) নয়। ’ (ইবনে মাজা)
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy