2 Answers

প্রথমত: কাকার মেয়েকে বিয়ে করতে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। দ্বিতীয়ত: কাকার মেয়ে যদি প্রকৃতপক্ষেই গুণাবলী সম্পন্ন হয় এবং মন-মানসিকতা, আচার-আচরণ ও আখলাক-চরিত্র ভালো হয় এবং পরিবারের সম্মতি থাকে; তাহলে তাকে সরাসরি বিয়ে করে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ, সুখী হবেন। তৃতীয়ত: শুধু রুপ দেখে বা আবেগের বশে তাকে ভালবেসে বিয়ে করবেন না। কারণ, বিয়ের আগে ভালবাসার সম্পর্ক ইসলাম সমর্থন করে না। এবং ভালবাসার বিয়েটা সাধারণত সুখের ও দীর্ঘমেয়াদি হয়না। ভালবাসার বিয়ের পরিণতি ও বাস্তবতা: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে বিয়েগুলো ছেলে-মেয়ের পূর্ব প্রেমের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়; সে বিয়েগুলোর অধিকাংশই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পক্ষান্তরে, যে বিয়েগুলো পারিবারিক ভাবে হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো সফল ও সুখময় হয়; যেগুলোকে মানুষ “গতানুগতিক বিয়ে” বলে থাকে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী সৌল-জুর-ডন এর মাঠ পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফল হচ্ছে: “যে বিয়ের পাত্র-পাত্রী বিয়ের আগে প্রেমে পড়েনি তারা তুলনামূলকভাবে বড় সফলতার সাথে সংসার করছে।” অপর এক সমাজবিজ্ঞানী ‘আব্দুল বারী’ কর্তৃক ১৫০০ টি পরিবারের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল হচ্ছে: ৭৫% এর বেশি প্রেমঘটিত বিয়ে তালাকের মাধ্যমে পরিসমাপ্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে, গতানুগতিক বিয়ের ক্ষেত্রে, তথা পূর্ব-প্রেমঘটিত নয় এমন বিয়েগুলোর ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের হার ৫% এর নীচে। প্রেমের বিয়ে সাধারণত যে বিষয়গুলোর কারণে সফল ও সুখময় হয় না; সেগুলো হচ্ছে— ১. প্রেমের বিয়ের ভিত্তিই হচ্ছে হারাম ও নাযায়েজ কাজ সমূহের উপর। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার অবাধ্যতা ও নাফরমানি দিয়ে শুরু করা কাজে শান্তি ও সফলতার ছোঁয়া পাওয়াটা কদাচিৎ-ই ঘটে। ২. রিলেশনে থাকাবস্থায় প্রচণ্ড আবেগ কাজ করে। আর আবেগ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে দেয়। তাই সে সময় পার্টনারের দোষ-ত্রুটি ধরা পড়ে না। যেমনটি বলা হয়: ভক্তির চোখ দোষ দেখার ক্ষেত্রে অন্ধ। কিন্তু পরবর্তীতে পাত্র-পাত্রীর দুইজনের একজনের মাঝে কিংবা উভয় জনের মাঝে এমন কিছু দোষ ধরা পড়ে; যেগুলোর কারণে মনমালিন্যতা ও কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হয় এবং সম্পর্ক টিকানো দায় হয়ে পড়ে। ৩। প্রেমিক ও প্রেমিকা উভয়ে ধারণা করেন যে, জীবন হচ্ছে— একটি ‘লাভ জার্নি’; যার কোন অন্ত নেই। এ কারণে তারা ভালবাসা ও রঙিন-স্বপ্ন ইত্যাদি নিয়েই মেতে থাকে। পক্ষান্তরে, জীবন ঘনিষ্ঠ নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে বেখবর থাকে। সেগুলোকে মোকাবিলা করার মানসিক শক্তি ও প্রস্তুতি রাখেনা। তাই তারা যখন জীবনের নানা সমস্যা ও দায়-দায়িত্বের মুখোমুখি হয়; তাদের সব স্বপ্ন ও কল্পনার প্রাসাদ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ৪। প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে সন্তুষ্ট করার জন্য সাধারণত নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেয়া সহ সব ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকে। এজন্য তাদের মাঝে তেমন কোন মতভেদ ও মতপার্থক্য হয়না। কিন্তু, বিয়ের পরের অবস্থাটি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সাংসারিক জীবনে মিলেমিশে চলতে গেলে নানা বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছতে হয়। প্রেমিক দম্পতিরা এ জায়গায় এসে হোঁচট খায়। নিজের খোঁড়া গর্তেই পড়ে যায়। ৫। প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের কাছে নিজের যে চরিত্র ফুটিয়ে তোলে, সেটা তার আসল চরিত্র নয়। প্রেমকালীন সময়ে দুই পক্ষের প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য কোমলতা, নম্রতা ও আত্মত্যাগের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু, তার পক্ষে এ চরিত্রের ওপর আজীবন অবিচল থাকা সম্ভবপর হয় না। তাই বিয়ের পর যখন তাঁর আসল চরিত্র ফুটে উঠে; তখনই সমস্যাগুলো ডানা মেলতে থাকে। ৬। প্রেমকালীন সময়ে প্রত্যকেরই কথোপকথন অতিরঞ্জিত ও অতিশয়োক্তির দোষে দুষ্ট থাকে। যার সাথে বাস্তব লাইফস্টাইলের কোনো মিল থাকে না। যেমন: প্রেমিক তাঁর প্রেয়সীকে প্রতিশ্রুতি দেয়, সে চাইলেই তাঁর সামনে চাঁদের টুকরা এনে হাজির করবে এবং পৃথিবীর সব সুখ তাঁর দুমুঠোয় ভরে দিবে; ইত্যাদি। অন্য দিকে প্রেমিকা গপ্পো মারে— সে যদি তাঁকে পায়, তার সাথে একটা রুমেই এবং একটা ফ্লোরেই ঘুমিয়ে জীবন পার করে দিতে পারবে; তার কোন চাওয়া-পাওয়া থাকবে না, শুধু তাকে পেলেই চলবে! আরবে প্রেমিকার কথন হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে, চড়ুই পাখির বাসা ও ছোট্ট এক লোকমা খাবার আমাদের জন্য যথেষ্ট। এক টুকরা চিজ ও একটি যাইতুন পেলেই আমি সন্তুষ্ট। এসব আবেগ তাড়িত ফালতু কথা। বিয়ের পর যখন প্রত্যেকের ব্যাপক চাহিদা ও প্রত্যাশার ব্যাপার সামনে আসে, তখন তা দাম্পত্যে ফাটল ধরায়। ৭। প্রেমে পড়া নারী-পুরুষরা ভাবে— তাঁর আপন মানুষটা কখনো বদলাবে না। একই রকম থাকবে। তাঁরা ভুল ভাবে। প্রতিটি মানুষ পরিবর্তনশীল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পরিবর্তন হতে থাকে। এই পরিবর্তনটাই অনেকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারে না। ফলে ঝগড়া বাড়ে। প্রকৃতপক্ষে জীবন কখনো সহজ নয়। সম্পর্কের শুরুতে সবকিছু ভালোবাসার ঘোরে সহজ মনে হতে পারে। তবে ঘোর কেটে গেলে অনেক বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়ায়। একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনকেই অনেক চেষ্টা চালাতে হয়, অনেক ছাড় দিতে হয়। দুজনের মধ্যে যতই বোঝাপড়া থাক, কঠিন সময়ে পরস্পরের হাত যেন না ছুটে যায়, সে জন্য সব সময় চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু নিছক আবেগ ও রঙিন স্বপ্নের উপর ভর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসা প্রেম দম্পত্তিরা সাধারণত জীবনের কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে ভেঙে পড়ে। সঠিক মানুষটিকে বেঠিক ভেবে বসে। বন্ধনটা যেন ছিঁড়ে না যায়, সে প্রচেষ্টার স্ট্রাগলকে সহজে মেনে নিতে পারে না। মধুর সম্পর্ক তিক্ততায় রুপ নেয়। সুতরাং প্রেমের বিয়ে, যার ভিত্তি হয় অবৈধ ভোগবাদি মানসিকতার উপর— তাতে কোনো বরকত ও কল্যাণ থাকে না। ধীরে ধীরে বিবাদ ও বিচ্ছেদে রূপান্তরিত হয়। পক্ষান্তরে ইসলামী বিয়ে; যার ভিত্তি হয় শরীয়ত নির্দেশিত পন্থার উপর— আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে প্রেম, মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন। ফলে তাঁরা একে অপরের প্রতি প্রেম নিবেদনপূর্বক যে অসীম শান্তি-সুখ অনুভব করে তা অন্য সব প্রশান্তি থেকে আলাদা। এই প্রেমে তৃপ্তি আছে, সুখ আছে, আছে প্রফুল্লতা। আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালবাসা এবং দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে এতে বহু নিদর্শন রয়েছে। পবিত্র বন্ধনে আল্লাহ প্রদত্ত ভালোবাসা এবং দয়া এমন এক হৃদয়ানুভূতির নাম— যা জীবনকে আলোক-সুষমায় ভরিয়ে তোলে এবং জীবনে আনে আত্মপ্রত্যয়, নিরাপত্তাবোধ ও সুখের বার্তা। গড়ে তোলে অনাবিল, অনিন্দ্য ও প্রশান্তির চিরস্থায়ী সম্পর্ক। আমাদের বিয়েগুলো হবে ইসলামী বিয়ে। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে। এই কামনা।

4750 views

ইসলামের দৃষ্টি থেকে এটা করার নিয়ম আছে।তবে আপনার গুরুজন দের আদেশ লাখবে।তাহলে কাজটি সম্পূর্ণ হবে

4750 views