1 Answers

প্রথমত, ২০০০ বছর আগে যখন সমগ্র ইউরোপ, এশিয়া মাইনর আর উত্তর আফ্রিকা রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল তখন এই বিশাল সাম্রাজ্যে হরেক রকম ধর্ম ছিল। রোমানদের ছিল রোমান প্যান্থিয়ন, গ্রীকদের ছিল নিজেদের দেব দেবতা, উত্তর ইউরোপে কেল্ট আর ড্রুইডদের ছিল বিভিন্ন পাগান দেব দেবী। উত্তর আফ্রিকা আর মিশরের নিজস্ব দেবতা ইত্যাদি। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে আমরা কিন্তু রোমানদের সাথে এসব নানা ধর্মের লোকদের ধর্মীয় কোন সংঘাতের ইতিহাস পাই না যতটা পাই ইহুদি আর খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের সাথে তাদের সংঘাতের৷ রোমানদের সাথে ইহুদিদের অনেক যুদ্ধের, আইকনিক লাস্ট স্ট্যান্ডের গল্প আছে যা ইহুদিরা অনেক গর্বের সাথে স্মরণ করে৷ আর যিশু খ্রিস্টের ক্রুসিফিকসন থেকে খ্রীস্টানদের ওপর রোমানদের অত্যাচার এর গল্প আমরা সবাই জানি৷ কেন বলুন তো? রোমানরা এত ধর্ম সহ্য করতে পারলো, আর আব্রাহামিক ধর্মগুলো সহ্য করতে পারলো না কেন? উত্তর হল ধর্মগুলোর মতাদর্শের জন্য। আব্রাহামিক ধর্ম অনুসারে আমার গড ই একমাত্র গড আর বাকি সব মিথ্যা বানোয়াট এই মতবাদের প্রচলন যে রিএকশন তৈরি করতো যেটা অন্য ধর্ম গুলো করতো না, শত শত দেব দেবী নিয়ে ওগুলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারতো। প্রয়োজন পড়লে নতুন কোন ঘটনার মাধ্যমে ছোট দেব দেবীদের বড় ধর্মের প্যান্থিয়নেও জায়গা করা যেত। কিন্তু আব্রাহামিক ধর্ম গুলোর প্রসার মানেই “অন্য সব বানোয়াট” এই মতের প্রচলন অর্থাৎ অন্যান্য ধর্মগুলোর সাথে ডিরেক্ট সংঘাত। ইসলাম এই একেশ্বরবাদ মতবাদের সব থেকে সাম্প্রতিক আর শক্তিশালী ধারা। অর্থাৎ যেখানে যেখানে ইসলাম প্রবেশ করে সেখানে প্রকৃতিগত কারণেই ইসলাম অন্যদের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। দ্বিতীয়ত, প্রায় ১ হাজার বছর মুসলমানেরা পৃথিবীর কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। অর্থাৎ পশ্চিমে ইউরোপ, দক্ষিণে আফ্রিকা পূর্বে চীন ভারত ইত্যাদির সংস্পর্শে । প্রায় সকল সভ্যতার দিকে মুসলমানরা সীমানা বাড়াতে সচেষ্ট ছিল। ফলাফল সকল সভ্যতার সাথেই তাদের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব পাওয়া যাবে। আগেই বলেছি ইসলামের মূলনীতির কারণেই এটা যার স্পর্শে আসবে তার সাথে একটা রাইভালরি তৈরি করবে। ইসলামের অবস্থানগত কারণেও সম্ভবত ইতিহাসে এর শত্রুর সংখ্যা অসংখ্য। তৃতীয়, মানুষের মানসিকতায় সব থেকে বেশি যেটা প্রভাব ফেলে সেটা হল বর্তমান রাজনীতি। যেমন ধরুন বাংলায় মুসলমান আমল ছিল অনেক উদার ও তুলনামূলক প্রাচুর্যের। সেই তুলনায় ইংরেজ আমল ছিল শোষণের। বাংলার অর্থনীতিকে চুষে নিংড়ে দেওলিয়া করে ফেলা হয়েছে। তবু দেখবেন হিন্দু বাঙালিরা ইংরেজদের ঘৃণা করছে না। মুসলমানরাও করছে না। কারণ তারা বিদায় নিয়েছে। বর্তমান আর ভবিষ্যতে যেহেতু তাদের আর অংশ নেই তাদের নিয়ে চিন্তা করা বা ঘৃণা করা সময়ের অপচয়। বাঙালি হিন্দুরা মুসলমানদের দেখতে পারছে না, বাঙালি মুসলমানরা হিন্দুদের দেখতে পারছে না। সিরাজ কত বড় সাম্প্রদায়িক ছিল আর রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে না বিপক্ষে এই নিয়ে বাজার গরম করছে। কারণ বর্তমান রাজনীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অধিক হার, মিগ্রেশন, ধর্ম পরিবর্তন এবং মুসলমানদের অধিক ধর্ম চর্চা আর কনজার্ভেটিভ আচরণের কারণে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক দেশে দৃশ্যত মুসলিমদের সম্প্রদায় হিসেবে অবস্থান সুসংহত হচ্ছে। আর ওই প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী অন্যান্যদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হচ্ছে। ফলে পালটা রিএকশনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান সন্ত্রাসীর নিউজিল্যান্ডে ৫০ জন মুসলমানকে হত্যার আগে এমটাই দাবি করেছিল। আর ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশ্যন বলে সমাজ বিজ্ঞানে যে স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের যে থিওরি আছে সেটায় সেই নব্বই এর দশকেই ইসলামিক শক্তির সাথে অন্যদের সংঘাতের ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছিল৷ বলা হয়েছিল যে শীতল যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশ বনাম দেশের পরিবর্তে সংঘাতের বিষয়বস্তু হবে ধর্ম আর সংস্কৃতি৷ বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আমার পড়া হয় নি।

5722 views

Related Questions