2 Answers

ইসলামে নারী নেতৃত্ব কোনভাবেই জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে জাতি কখনো সফলকাম হবে না, যারা তাদের শাসনভার কোনো স্ত্রীলোকের হাতে অর্পণ করে। (সহীহ বুখারিঃ ৭০৯৯ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬০৪; ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬১৮) আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ স্ত্রীদেরও নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের ওপর অধিকার রয়েছে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব। (সূরা বাকারাঃ ২২৮) এ আয়াতে মর্ম হলো নারীদেরও পুরুষদের ন্যায় উত্তম আচার-আচরণ পাবার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে নারীদের যে সমান অধিকারের প্রতিবাদ করা হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। আবার এও বলা হয়েছে “নারীদের ওপর পুরুষদের রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব”। এই শ্রেষ্ঠত্বই ক্ষমতা।  অতএব পুরুষেরা আদেশ দেবে, আর নারীরা তা মেনে চলবে।

5717 views

কুরআন সুন্নাহ’র সুস্পষ্ট বর্ণনাদির ভিত্তিতে বিগত চোদ্দ শতক ধরে এ বিষয়টি উম্মাহ’র ফিকাহ্বীদগনের মাঝে কোনো রকম মতদ্বন্দ্ব ছাড়াই গৃহীত হয়ে আসছে যে, কোনো ‘ইসলামী রাষ্ট্রে’র নেতৃত্ব দানের দায়িত্ব কোনো নারীর হাতে সোপর্দ করা জায়েয নয়। ইমাম ইবনে হাযাম রহ. (মৃঃ ৪৫৬ হিঃ) مراتب الاجماع নামে একটি কিতাব লিখেছেন; যে সব মাসআলার উপর উম্মাহ’র ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে- তিনি সেগুলোকে সেখানে সন্নিবেশিত করে দিয়েছেন। তিনি সেই কিতাবে লিখিছেন- و اتفقوا ان الامامة لا تجوز لامراة –‘সকল ওলামায়ে কেরাম এব্যপারে একমত যে, কোনো নারীর জন্য ‘রাষ্ট্র প্রধান’ হওয়া জায়েয নয়’। [মারাতিবুল ইজমা, ইবনে হাযাম- ১২৬ পৃষ্ঠা] বস্তুতঃ উম্মতের এই ইজমা’র ভিত্তি কুরআন সুন্নাহ’র বহু দলিল প্রমাণের উপর স্থাপিত। আমরা সেগুলোকে এখানে পর্যায়ক্রমে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিচ্ছি- (১) ‘সহীহ বুখারী’ সহ বিভিন্ন ‘হাদীস গ্রন্থে’ নবী করীম ﷺ-এর নিম্নোক্ত বানীটি বিভিন্ন সহীহ ও বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে- لن يفلح قوم ولوا امرهم امراة –‘ওই জাতি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না, যে জাতি তাদের বিষয়গুলোকে কোনো নারীর দায়িত্বে সোর্পদ করে দেয়’। [সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৪২৫, ৭০৯৯] এই হাদীসের মধ্যে একথাও পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে যে, রাসুলুলল্লাহ ﷺ উপরোক্ত কথাটি বলেছিলেন ওই সময়, যখন ইরানের অধিবাসীরা একজন নারীকে তাদের নেত্রী বানিয়ে রেখেছিল। তাই কোনো নারীকে নেত্রী বানানো নাজায়েয হওয়ার ব্যপারে এ হাদিসটি একটি সুস্পষ্ট দলিল। (২) হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুলে করীম ﷺ এরশাদ করেন- اذا كانت امراءكم خياركم و اغنياءكم سمحاءكم و اموركم شورى بينكم فظهر الارض خيرلكم من بطنها و اذا كانت امراءكم شراركم و اغنياءكم بخلاءكم و اموركم الى نساءكم فبطن الارض خيرلكم من ظهرها – ‘যখন তোমাদের উৎকৃষ্ট লোকগুলি তোমাদের আমীর (প্রশাসক) হবে, তোমাদের ধনী লোকগুলি তোমাদের দানশীলরাই হবে এবং তোমাদের বিষয়আশয়গুলি তোমাদের মাঝে পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হবে, তখন জমিনের উপরিভাগ তোমাদের জন্য জমিনের গহবর থেকে উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের নিকৃষ্ট লোকগুলি তোমাদের আমীর (প্রশাসক) হবে, তোমাদের ধনী লোকগুলি তোমাদের কৃপণরাই হবে এবং তোমাদের বিষয়আশয়গুলি তোমাদের নারীদের হাতে সোপর্দ করা হবে, তখন জমিনের গহবর তোমাদের জন্য জমিনের উপরিভাগের চেয়ে উত্তম হবে’। [জামে তিরমিযী- ২/৪২] এই হাদীসটি এতই পরিষ্কার যে, এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের কোনো প্রয়োজন নেই। (৩) হযরত আবু বকরাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসুলে করীম ﷺ একবার কোথাও সৈন্যদল প্রেরন করলেন। সেখান থেকে এক ব্যক্তি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে এলে বিজয়ের সুসংবাদ শুনে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। সিজদা’র পর তিনি সংবাদ বাহকের কাছ থেকে বিস্তারিত বিবরণ শুনছিলেন। সংবাদদাতা বিস্তারিত বর্ণনা দান করলেন- فكان فيما حدثه من امرا العدو و كانت تليهم امراة , فقال النبى صلى الله عليه وسلم هلكت الرجل حين اطاعت النساء – ‘উক্ত বিবরণে শত্রুদের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি বিষয় এও ছিল যে, একজন নারী তাদের নেতৃত্ব করছিল। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একথা শুনে বললেন- هلكت الرجل حين اطاعت النساء ‘পুরুষরা যখন নারীদের অনুগত্য করা শুরু করে দিবে, তখন তারা বরবাদ-ধ্বংস হয়ে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকীম- ৪/২৯১, হাদিস ৭৮৭০] ইমাম হাকীম রহ. এ হাদীসটিকে সহীহ সনদযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম যাহবীও (মৃ: ৭৪৮ হি:) একে সহীহ বলেছেন। (৪) কুরআন কারীমে এরশাদ হয়েছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ ‘পুরুষরা নারীদের উপর ‘কাউআম’ (অভিভাবক, কর্তা)। এটা এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা কতককে কতকের উপর ফজীলত দান করেছেন’। [সূরা নিসা ৩৪] উপরোক্ত আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট করে ‘কাউমিয়াত’ (অভিভাবকত্ব ও কর্তাগিরী)-র দায়িত্ব দিয়েছেন পুরুষকে। যদিও এ আয়াতটিকে ব্যক্তিগত ব্যপারাদির সাথে সম্পর্কিত বলে মনে হয়; কিন্তু প্রথমতঃ আয়াতটির মধ্যে এমন কোনো ‘শব্দ’ নেই, যা একে ব্যক্তিগত বিষয়াদির সাথে বিশেষ ভাবে নির্দিষ্ট করে নেয়; দ্বিতীয়তঃ এখানে এ বিষয়টিও সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা ছোট একটি পরিবারের প্রধানত্বের দায়িত্বটুকুই যে নারী জাতির স্কন্ধে সোপর্দ করেন নি, সেখানে নারী জাতিকে সমস্ত পরিবারের লোকজন সহ গোটা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের দায়িত্বভার কি করে সোপর্দ করতে পারেন? সুতরাং এ আয়াতটি عبارة النص (ইবারাতুন্নস্/প্রত্যক্ষ দলিল) হিসেবে না হোক, دلالت النص (দালালাতুন্নস্/পরোক্ষ দলিল) হিসেবেও দৃঢ়তার সাথে প্রমাণ করে যে, নারীকে কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের নেত্রী বানানো জায়েয নয়। (৫) সূরা আহযাবে আল্লাহ তাআলা একজন নারীর কাজকর্মের গন্ডিসীমা পরিষ্কার ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে- وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى ‘তোমরা তোমাদের নিজ নিজ ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকো এবং পূর্বের জাহেলী যুগের প্রদর্শনের ন্যয় নিজদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না’। [সূরা আযহাবঃ ৩৩] এ আয়াতে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে যে, নারী জাতির আসল দায়িত্ব হল গৃহের দায়িত্ব। তার কর্তব্য হল, গৃহের বাহিরের কষ্ট পরিশ্রম ও সংগ্রাম থেকে নিজকে গুটিয়ে নিয়ে নিজ গৃহের সংশোধন এবং পরিবারের তরবিয়ত প্রতিপালন-পরিচর্যার মত ফরয কাজটিকে আনজাম দেয়া, যা মূলতঃ গোটা জাতি ও জীবন সংসারের বুনিয়াদ। তাই (স্বতন্ত্র অবস্থাগুলো ছাড়া) উসূল ও নীতিগত ভাবে গৃহের বাহিরের কোনো দায়িত্ব নারীর হাতে সোপর্দ করা যেতে পারে না। কেউ কেউ বলে থাকেন যে, ‘আয়াতের সম্মোধনটি বিশেষ ভাবে নবীয়ে করীম ﷺ-এর পবিত্র স্ত্রীগণের প্রতি করা হয়েছিল; সকল নারী এর ‘সম্মোধন-পাত্র’ নয়! কিন্তু এটা এত পরিষ্কার একটি ভ্রান্ত কথা যে, এজাতীয় কথা রদ্ করে দেয়ার জন্য দীর্ঘ কোনো বহছে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। প্রথমতঃ কুরআন কারীম রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র স্ত্রীগণকে সম্মোধন করে বহু ব্যপারেই তাগিদ দিয়েছে। যেমনঃ তাঁরা যেন তাকওয়া অবলম্বন করেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুগত্য করেন, ফায়েশা কথাবার্তা থেকে বেঁচে চলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কোনো একটি ব্যপারও এমন নেই, যে সম্পর্কে কোনো বিবেকবান লোক একথা বলতে পারেন যে, এসমস্ত বিধান শুধুমাত্র নবীজীর পবিত্র স্ত্রীগণের জন্য, অন্য কোনো নারীর জন্য নয়। কাজেই এসকল বিধান যখন সকল নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তখন ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকার এই একটি বিধানই কেনো নবীজীর পবিত্র স্ত্রীবৃন্দের জন্য নির্দিষ্ট হবে?! দ্বিতীয়তঃ রাসুলে করীম ﷺ-এর পবিত্র স্ত্রীগণ ইলমী ও আমলী যোগ্যতাগুণের প্রশ্নে উম্মাহ’র মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট নারী ছিলেন, তাঁরা গোটা উম্মাহ’র জননী ছিলেন -এ কথায় কোন্ মুসলমান সন্দেহ করতে পারে! ইসলামে যদি রাজনীতি, নেতৃত্ব, জীবিকা ও অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব কোনো নারীর হাতে সোপর্দ করা জায়েয হতই, তাহলে এ সকল পবিত্র নারীদের চেয়ে অন্য আর কোনো নারীই এই দায়িত্বের জন্য অধিক উপযুক্ত হতে পারতো না। পবিত্র কুরআন যখন তাদেরকে এজাতীয় দায়িত্ব গ্রহন করা থেকে নিষেধ করে শুধুমাত্র গৃহের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, তখন কোন্ নারী আবার এমন থাকতে পারে, যার সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, নবীজীর পবিত্র স্ত্রীগণকে যে কারণে গৃহে আবদ্ধ হয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, সে ‘কারণটি’ তার মধ্যে বিদ্যমান নেই!!! (৬) পবিত্র কুরআনে সূরা আহযাবে নারীদের যে গন্ডিসীমার বর্ণনা দেয়া হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ একটি হাদিসে তার ‘সমর্থিত ব্যাখ্যা’ দিয়েছেন এভাবে- و المراة راعية على اهل بيت زوجها و ولده و هى مسئلة عنهم ‘একজন নারী হল তার স্বামীর ‘গৃহবাসী ও তার সন্তান-সন্ততির’ রক্ষনাবেক্ষনকারী। (এটাই তার জিম্মাদারী ও দায়িত্ব)। সে তাদের ব্যপারে জিজ্ঞাসীত হবে।’ [সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৩৮, ৮৯৩] এই হাদীসে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে যে, নারীদের দায়িত্ব হল বাড়ির ব্যবস্থাপনার দেখ্ভাল্ করা, সন্তান-সন্ততির তরবিয়ত ও পরিচর্যা করা এবং ব্যক্তিগত ব্যপার-স্যপারগুলোর সুবন্দোবস্থ করা। গৃহের বহিঃর্ভাগের কোনো দায়দায়িত্ব তার কাধে সোপর্দ করা হয় নি। (৭) ইসলামে ‘রাষ্ট্রীয় ইমামত (নেতৃত্ব)’ এবং ‘নামাযের ইমামতীর দায়িত্ব’ -এদুটো বিষয় এতই অতঃপ্রত ভাবে জড়িত যে, ‘রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব’-কেও শরীয়তের পরিভাষায় امامت (ইমামত)-ই বলা হয়ে থাকে। আর امام (ইমাম) কথাটি যেমনিভাবে নামায পড়ানেওয়ালাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তেমনিভাবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’-কেও ‘ইমাম’ বলা হয়ে থাকে। কুরআন হাদীসের বহু স্থানে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’কে ‘ইমাম’ শব্দ দ্বারা অবিহিত করা হয়েছে। আর ফিকাহবীদ আলেমগণ ‘ইমামত’-এর এই দ্বিবিধ অর্থকে এভাবে পার্থক্য করেন যে, নামাজের ‘ইমামতী’ কে তারা امامت صغرى (ইমামত-ই-সুগরা বা ছোট ইমামত) এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে امامت كبرى (ইমামত-ই কুবরা বা বড় ইমামত) বলে থাকেন। তদুপরি এই প্রমাণপুষ্ট কথাটিকেও কেউ অস্বীকার করতে পারে না যে, নামাযের মধ্যে কোনো নারীই কোনো পুরুষের ইমামতী করতে পারবে না। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত যখন ছোট স্তরের ইমামতীর দায়িত্বই নারীর উপর ন্যস্ত করেন নি, তখন তার কাঁধে বড় স্তরের ইমামতী কি করে সোপর্দ করা যেতে পারে? ইসলামে ‘রাষ্ট্রীয় ইমামত বা নেতৃতে’র সাথে নামাযের যে কি পরিমাণ গভীর সম্পর্ক রয়েছে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয় দিয়েই তার অনুমান করা যেতে পারে- (ক) পৃথিবীর কোনো অংশে ইসলামের হুকুমত ও কর্তৃত্ব অর্জিত হওয়ার পর اقامت صلوة (নামায কায়েম করা)-কে ‘আমীরুল মু’মিনীন (মুসলীম রাষ্ট্র প্রধান)’-এর সর্বপ্রথম ফরয দায়িত্ব বলে অবিহিত করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছেঃ- الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ‘এরা ওই সমস্ত লোক, আমি যদি তাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে কর্তৃত্ব দান করি, তাহলে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, নেক্ কাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে’’। [সূরা হজ্জ ৪১] (খ) রাসুলে করীম ﷺ থেকে নিয়ে খুলাফায়ে রাশেদীন পর্যন্ত, বরং এর পরবর্তী কয়েক যুগ পর্যন্ত ‘মুতাওয়াতির’ এই আমলটি অব্যহতভাবে চলে আসছে যে, যে জনগোষ্ঠির মধ্যে ‘রাষ্ট্র প্রধান’ (তথা আমিরুল মু’মিনীন) বিদ্যমান ছিলেন, তিনিই সেই জনগোষ্ঠির ইমামতী করতেন। আর গবেষক ফুকাহায়ে কেরামগণও এ ব্যপারে একমত যে, নামাজের ইমামতীর দায়িত্ব সবার আগে মুসলীম ‘রাষ্ট্র প্রধানে’র অধিকারেই বর্তায়। রাসুলে করীম ﷺ মৃত্যুর পূর্বে রোগের কারণে যখন মসজীদে আসতে অপারগ হয়ে পড়লেন, তখন তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-কে তাঁর স্থলে নামাযের জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম রা. এ থেকে একথাই বুঝে নিয়েছিলেন যে, হযরত আবু বকরের কাঁধে ছোট ইমামতের দায়িত্ব ন্যস্ত করার পিছনে এ দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাসুলে করীম ﷺ-এর পর ‘বড় ইমামত’ তথা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত আবু বকর রা.। হযরত আলী রা. বলেন- و انا نرى ابا بكر احق الناس بها بعد رسول الله صلى الله عليه و سلم و انه لصاحب الغار و ثانى اثنين و انا نعلم بشرفه و بكره و لقد امره رسول الله صلى الله عليه و سلم بالصلوة بالناس و هو حى – مستدرك الحاكم:ص٦٦/ج٣، و قال صحيح و هو حى على شرط الشيخين و اقره الذهبى – ‘আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর লোকদের মাঝে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. কেই রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব্যের সবচাইতে বেশি হক্বদার বলে মনে করি। তিনি নবীজীর ‘গুহা-সাথী’, ‘দুজনের একজন’। আমরা তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানি। রাসুলুল্লাহ ﷺ জীবিত থাকতেই লোকদের নামাযে তাঁকে ইমামতী করার নির্দেশ দিয়েছেলেন। [মুসতারাকে হাকীম- ৩/৬৬] (গ) নামাযের মধ্যে ‘আমিরুল-মু’মিনীনে’র ইমামতীর অধিকারটি শরীয়তে এত অধিক গুরুত্ব রাখে যে, ‘জানাযা নামাযে’র ইমামতীর ক্ষেত্রে ‘আমিরুল-মু’মিনীন’-কে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের উপরেও স্থান দেয়া হয়েছে। আর একথাও প্রমাণিত যে, ‘আমিরুল-মু’মিনীন’ যদি জানাযার নামাযে উপস্থিত থাকেন, তাহলে ইমামতীর সর্ব প্রথম হক্ব তাঁর; এর পরে উত্তরাধিকারদের। এসব বিধান থেকে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ইসলামে ‘রাষ্ট্রীয় নেতৃতে’¡র সাথে নামাযের ইমামতীর এতই গভীর সম্পর্ক রয়েছে যে, ইসলামে এমন কোনো ‘রাষ্ট্র প্রধানের’ কথা কল্পনাও করা যায় না, যিনি কোনো অবস্থাতেই নামাযের ইমামতী করার উপযুক্ত নন। কোনো নারী তাকওয়া-পরহেজগারী ও পবিত্রতার প্রশ্নে যত উচ্চ মাকামের অধিকারিই হোন না কেনো, যেহেতু তিনি নামাযে পুরুষের ইমামতী করতে পারেন না, তাই তার উপর ‘বড় ইমামত ’ (তথা রাষ্ট্র প্রধানত্ব)-এর দায়িত্বও সোপর্দ করা যেতে পারে না।

5717 views

Related Questions