1 Answers
জাপানে কোন শ্রাইনে শিন্তৌ ধর্মের উৎসবগুলোতে সকলের অংশগ্রহণ খুব সাধারণ, তবু সকলে মৃত্যুর পর বৌদ্ধধর্মের নিয়মে অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়। প্রাচীন জাপানী কিংবদন্তী অনুসারে, প্রায়ই দাবী করা হয় যে, মৃতেরা ইয়মি (黄泉) নামক একটি তমসাচ্ছন্ন পাতালের জগতে প্রবেশ করে। ইজানামি (শিনিগামি নামেও পরিচিত) এবং ইজানাগির কিংবদন্তী অনুসারে এখানে একটি নদী আছে যা জীবিতদেরকে মৃতদের থেকে পৃথক করে। গ্রীক পুরাণের হেডিসের সাথে এর অনেক মিল রয়েছে। যাই হোক, পরবর্তী পুরাণগুলোতে পুনরুদ্ধার এবং এমনকি এলিসিয়ামের মত বর্ণনাও আছে যেমন ওকুনিনুশি ও সুসানুর কিংবদন্তীতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। শিন্তো ধর্মে মৃত্যু এবং মৃতদেহ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা করা হয়, এবং এদেরকে কেগারে নামক দূষণের উৎস্য বলে মনে করা হয়। যাইহোক, শিন্তৌ ধর্মে মৃত্যুকে ব্যক্তির এপোথিওসিস (কোন বিষয়কে স্বর্গীয়মাত্রায় মহিমান্বিত করা) এর পথ হিসেবেও ধরা হয়। এর সাক্ষ্য হিসেবে শিন্তৌ পুরাণে মৃত্যুর পর কিংবদন্তী নায়কদেরকে মহিমান্বিত অবস্থান পাবার ঘটনাকে দেখানো যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হবেন সম্ভবত সম্রাট ওজিন যিনি মৃত্যুর পর হাচিমান বা যুদ্ধের দেবতার পদ লাভ করেন। অনেক ধর্মের মত শিন্তৌ ধর্মে বিশ্বাসী হবার জন্য সকলের সামনে শিন্তো ধর্মকে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করতে হয় না। যখনই জাপানে একজন শিশুর জন্ম হয়, একটি স্থানীয় শিন্তৌ শ্রাইন (শিন্তৌ মন্দির) একটি লিস্টে বাচ্চার নাম নথিভুক্ত করে ফেলে এবং তা সেই শ্রাইনে রেখে বাচ্চাটিকে একটি উজিকো (ফ্যামিলি চাইল্ড বা পারিবারিক সন্তান বা 氏子) হিসেবে ঘোষণা করে। শিন্তো ধর্মমতে মৃত্যুর পর উজিকো ফ্যামিলি স্পিরিট বা ফ্যামিলি কামি বা পারিবারিক আত্মায় পরিণত হয় যাকে উজিগামি (氏神 ujigami) বলা হয়। স্থান পরিবর্তনের ফলে কেউ নিজের নাম অন্য কোন লিস্টে নথিভূক্ত করতে পারেন, তাহলে তার নাম উভয় জায়গাতেই নথিভূক্ত থাকবে। এই নাম সম্মতি ছাড়াই এবং যেকোন ধর্মমতের ব্যক্তির ক্ষেত্রেই নথিভূক্ত হতে পারে। একে ধর্মমত আরোপ বলে মনে করা হয় না, কিন্তু একে স্থানীয় কামি দ্বারা আমন্ত্রিত হবার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়, যেখানে মৃত্যুর পর আত্মা বা কামিকে প্যানথিওনে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।