1 Answers

উচ্চারণ একটি বাচনিক প্রক্রিয়া। অঞ্চল, সময়, ব্যক্তি, ভৌগলিক সীমার ভিন্নতার কারণে উচ্চারণের ভিন্নতা হতে পারে। সময়ের বিবর্তনে বাংলা উচ্চারণে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিভিন্ন কারণে উচ্চারণের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বাংলার কথ্য বাচনভঙ্গির বিভিন্ন বৈচিত্র্যের একটি সমন্বিত উচ্চারণমানকে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ বলে ধরা হয়। বাংলা উচ্চারণের কয়েকটি নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো– ক. শব্দের শুরুতে যদি অ থাকে এবং পরে যদি ই, ঈ, উ, ঊ, ক্ষ, জ্ঞ, য-ফলা বা ঋ-কার থাকে তাহলে অ-এর উচ্চারণ ও-এর উচ্চারণ ও-কারের মতো হয়। যেমন– অতি (ওতি), নদী (নোদি), তরু (তোরু), ময়ূর (মোয়ুর্), পক্ষ (পোকখো), যজ্ঞ (জোগগো), বন্য (বোননো), মসৃণ (মোসৃন্)। খ. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ব-ফলা সংযুক্ত হলে সে ব-এর কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন– ত্বক (তক্), স্বাধিকার (শাধিকার্), ধ্বনি (ধোনি), স্বাগত (শাগতো) ইত্যাদি। গ. শব্দের মধ্যে কিংবা শেষে ব-ফলা থাকলে সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণ দুইবার হয়ে থাকে। যেমন– বিশ্ব (বিশশো), বিদ্বান (বিদদান), পক্ব (পককো) ইত্যাদি।ঘ. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ম-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত তার কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন– স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শঁশান্), স্মারক (শাঁরোক্) ইত্যাদি।

10394 views Answered

Related Questions

Next steps