1 Answers
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন টাইম- এর ২৩ মার্চ সংখ্যায় (যা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে) প্রচ্ছদ করা হয়েছে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে। বরেণ্য রাজনীতিবিদদের নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের এমন আয়োজন নতুন কিছু নয়। বিশেষ দিবস বা বিশেষ সময়ে তারা এমনটা করে থাকে। ‘রাজনীতির কবি’ বা ‘পয়েট অব পলিটিকস’ নামে যিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাত, সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এ মাসে। এজন্য ন্যায্যতই টাইম এর মার্চ সংখ্যার প্রচ্ছদটি অসাম্প্রদায়িক ও কল্যাণকামী রাজনীতির পুরোধা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু এই জায়গাটাতেই হেরে গেল বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বিশ্বখ্যাত ‘নিউজউইক’ পত্রিকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে তাদের প্রচ্ছদ এবং নিউজ করেছিল। সেখানে তাকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের জন্যই তাকে এ উপাধি দিয়েছিল নিউজ উইক। কিন্তু এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের চরিত্র বদলে গেছে। বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোর প্রচ্ছদজুড়ে ছবি বা লিড নিউজের জন্য এখন অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে। এই বিশেষ যোগাযোগের অভাবেই হয়তো জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে টাইম এর প্রচ্ছদে আমরা তাকে পেলাম না। প্রশ্ন হলো, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য তো ঢাউস আকারের কমিটি করা হয়েছে। দেশে বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এই কমিটিতে রয়েছেন। মুজিববর্ষে যদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাতির পিতাকে মহিমান্বিতই করা না যায়, তাহলে এই কমিটির কাজটা কী? টাইম ম্যাগাজিনের এই সপ্তাহের প্রচ্ছদে থাকবেন রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এটাই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক। কিন্তু টাইম কর্তৃপক্ষ সেটা না করে ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে প্রচ্ছদ করলো। ইন্দিরা গান্ধী অবশ্যই বরেণ্য রাজনীতিবিদ। তাকে নিয়ে টাইমের প্রচ্ছদ হতেই পারে। কিন্তু যেই সপ্তাহে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন পালিত হচ্ছে, সেই সপ্তাহে টাইমের প্রচ্ছদে তিনি না থাকাটা দুঃখজনক। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত ‘বিশেষ যোগাযোগের’ মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে প্রচ্ছদ করাতে পারে। এখানেই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির ব্যর্থতা। এই কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে একদম শুরু থেকেই। আমলানির্ভর একটা কমিটি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের ভালো জানাশোনা নেই। বঙ্গবন্ধুর ন্যায্যত প্রাপ্য সম্মানটুকু কীভাবে বিশ্বে তুলে ধরতে হবে সেটা নিয়েও তাদের কনো মাথাব্যাথা নেই। এর আগে, মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা করা হয়েছে সেটাও রীতিমতো লজ্জাজনক। ১০ জানুয়ারির আবহ আনতে যে লেজার শো করা হয়েছিল, তা ছিল বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানের লেজার শোর চেয়েও নিম্নমানের। এরপর বিপিএলের নামে যা হলো তাও এক কৌতুক। বিপিএলের উদ্বোধনী পর্ব উপস্থাপনার জন্য যে দম্পতিকে হাজির করা হয়েছিল, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য হতে পারেন, কিন্তু উপস্থাপনাটা তারা একেবারেই জানেন না। কোন বিবেচনায়, কার তদবিরে এ রকম একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব তাদের দেওয়া হলো সেটাও এক বড় প্রশ্ন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে, সেটাও জাতির পিতাকে অপমানের নামান্তর। আর মুজিববর্ষে সবচেয়ে বড় যে প্রহসনটি করা হচ্ছে জাতির পিতার ওপর বায়োপিক নির্মাণ নিয়ে। ৮৫ বছর বছর বয়সী সেকেলে পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর বিভিন্ন চরিত্রে যাদের বাছাই করা হয়েছে তাও লজ্জা ধরিয়ে দিচ্ছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, জাতির পিতাকে কীভাবে অবমূল্যায়ন করা যায়, সেটাই তাদের মূল কাজ। তেলবাজিতেই তারা বেশি ব্যস্ত। নতুন কিছু করার সামর্থ আদৌ তাদের আছে কিনা সে প্রশ্ন উঠছেই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy