2 Answers
ঘন আর সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকে সবারই। অনেক সময় চুল ঘন হলেও বিভিন্ন কারণে তা ঘন দেখায় না। আবার কখনো চুল পড়ে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে আসে। তবে এসব প্রতিরোধেও আছে উপায়। কিছু সহজ উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে চুল সহজেই ঘন করে তোলা সম্ভব। চলুন তবে জেনে নেই- ডিম হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার চুলে সরাসরি হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে। ডিম দিতে গেলে অনেকে চুল জট বেঁধে এলোমেলো হয়ে যায় বলে এড়িয়ে যান। চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন। তারপর হালকা ঝুটি করে নিন বা শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে চুল ধুয়ে নিন এবং শ্যাম্পু করুন। যেদিন ডিম দেবেন সেদিন আর আলাদা করে কন্ডিশনার দেবার প্রয়োজন হবেনা। যেসব জায়গায় চুল বেশি পাতলা, পেঁয়াজ কেটে ঘষলে সেই অঞ্চলের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে, ফলে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনার হেয়ার ফলিকল এর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে নিয়মিত ব্যবহারে তা সারিয়ে তোলে। যাদের চুল পাতলা তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন ১০-১২ মিনিটের জন্য মাথার তালুতে পেঁয়াজ ঘষে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন। অ্যালোভেরার জেল বের করে নিন, ৪ চামচ মধুর সাথে মিক্স করে সরাসরি চুলে এবং মাথার তালুতে লাগিয়ে ফেলুন। চাইলে এর সাথে কোনও ট্রিটমেন্ট ক্রিমও যোগ করতে পারেন। চুল ঘন করার সাথে সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করবে।
চুল ঘন করার উপায়ঃ ১. অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতলা চুল ঘন করা যায় ঘৃতকুমারীর সঠিক ব্যবহার করার মাধ্যমে। এর জন্য একটি অ্যালোভেরা পাতা থেকে চামচ বা ছুড়ির সাহায্যে এর জেলটি বের করে নিন। জেল-টাকে মসৃণভাবে পেস্ট করে নিন। এবার মাথার স্ক্যাপ্ল-এ ভালো করে ঘষে ঘষে লাগিয়ে রাখুন প্রায় ১০-১৫ মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে ২ বার ইউজ করতে পারেন। অ্যালোভেরা স্ক্যাপ্ল-এর মৃত কোষ মেরামত করে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি চুলে ভলিউম এনে দেয়। ২. ডিম একটি বাটিতে একটি ডিম ভেঙে নিন। এবার এর সাথে যোগ করুন ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল। এই দুটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। এবার একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন ৩০-৪০ মিনিটের জন্য। তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। প্যাক-টি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন। ডিমে আছে প্রোটিন এবং সালফার যা চুলকে ভেতর থেকে মজবুত করে এবং চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চুলকে করে তোলে ঝলমলে ও সিল্কি। আর ডিমের সাথে থাকা অলিভ অয়েল ও চুল ঘন ও সিল্কি করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। ৩. আমলকী ১ টেবিল চামচ আমলকী গুঁড়ার সাথে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন এবং নরমাল পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক-টি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করতে পারেন। আমলকীতে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস এবং ভিটামিন সি যা চুলের স্বাস্থ্য সুন্দর রাখে এবং চুলের গোড়ায় কোলাজেন-এর মাত্রা বৃদ্ধি করে চুল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। লেবুররস চুলের খুসকি দূর করে এবং আমলকী গুঁড়ার সাথে যুক্ত হয়ে চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। ৪. মেথি পাতলা চুল ঘন করা যায় মেথি ব্যবহারেও। কিভাবে? ২ টেবিল চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভিজিয়ে রাখা মেথি দানা ছেঁকে নিয়ে এর সাথে হাফ কাপ পরিষ্কার পানি যোগ করে ব্লেন্ডার-এ মসৃণভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এই পেস্ট-টি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন। চুলের স্বাস্থ্য বজায় রেখে চুলের বৃদ্ধির জন্য মেথি একটি শ্রেষ্ঠ উপকরণ। এটি স্ক্যাল্প-এর প্রদাহ দূর করে, খুসকি তাড়ায় এবং চুল মজবুত করে। ৫. মেহেদি পাতা পাতলা চুল ঘন করা যায় মেহেদির ছোঁয়াতে। কিভাবে? ২ মুঠো তাজা মেহেদি পাতা অল্প পানি দিয়ে বেটে নিন। আপনি চাইলে এর সাথে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন। এবার এটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল আবৃত করে রাখুন ৩০-৩৫ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্যাক-টি মাসে ১ বার ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি চুলের আদর্শ খাদ্য। এটি চুলকে ভেতর থেকে মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।