1 Answers
যৌনমিলনে যেমন মন মাতানো সুখ আছে তেমনি কারও বেলায় তা আবার কষ্টের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। যেমন নারীদের কথাই ধরা যাক। কিছু কিছু নারী আছে যারা যৌনমিলন কালে ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠেন। তখন দেহমিলন তাদের কাছে হয়ে ওঠে যাতনার। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করানোর পর কিছু কিছু নারী তাদের যৌনাঙ্গে মিলনকালীন মাঝারী থেকে প্রচন্ড মাত্রার ব্যথা অনুভব করে থাকে। সেক্স করতে সক্ষম এমন বয়সের যে কোন নারীর বেলায় এ ঘটনাটি বা সমস্যাটি বারবার চক্রের মতো হতে পারে। নারীর এ সমস্যাটি শারীরিক বা মানসিক কারনে বা উভয় কারনে হতে পারে। সঙ্গমকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার ঝুঁকি যাদের বেশি তারা হলেন— সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত মানসিক অসুস্থ মনোশারীরিক চাপ মদ্যপান দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা বা ক্লান্তি ইত্যাদি। এ সমস্যায় দেহের যে অংশ জড়িত তা হলো— যোনির মাংসপেশি সতীচ্ছদ বা হাইমেন জরায়ু বা ইউটেরাস মস্তিঙ্ক মিলনকালীন যৌনাঙ্গে ব্যথার মানসিক কারণ— যৌন পুলকের ঘাটতি যৌনসুখ ও শিহরণের অভাব যৌনতা বা সেক্স সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাব যৌনাঙ্গে আঘাত পাওয়ার প্রতি ভয় বা ফোবিয়া গর্ভাবস্থায় যৌনমিলন গর্ভবতী হওয়ার ভয় শৈশবে যৌন অত্যাচারমূলক অভিজ্ঞতা বা সেক্সয়াল অ্যাবিউস সাইকোলজিক্যাল বা মেন্টালি আঘাত সেক্স সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা যোনি পিচ্ছিল না হওয়া বা যোনির শুঙ্কতা অর্থাৎ মানসিকভাবে যৌনক্রিয়ায় পর্যাপ্ত উত্তেজনার অভাব বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারা সঙ্গী বা সাথীর মাঝে কোনো ব্যাপারে বনিবনা বা ভুল বোঝাবুঝি অথবা প্রেম—ভালোবাসার অভাবেও এ সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। মিলনকালীন যৌনাঙ্গে ব্যথার দৈহিক কারণ জরায়ুতে টিউমার যেমন—ফাইব্রয়েড নারীর ইউরেথ্রাতে সংক্রমণ যোনির শুঙ্কতা যোনিতে ক্ষত/ইনফেকশন যেমন-হারপিস যোনির সারভিক্স ডিম্বনালি বা ফেলোপিয়ান টিউব অথবা গর্ভাশয়ে ইনফেকশন শ্রোণিচক্রের বা পেলভিসের প্রদাহজনিত ব্যাধি অপারেশন—পরবর্তী কোনো জটিলতায় যোনি দেয়ালে চাপ অনুভুতির কারণে এন্ডোমেট্রিওসিস সন্তান প্রসব—পরবর্তী যোনির অপারেশনের জটিলতা হঠাৎ করে সতীচ্ছদ ছিন্ন হওয়া নারীর যোনির পর্দা বা সতীচ্ছদ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মোটা হওয়া মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির পরে যোনি দেয়াল শুঙ্ক ও পাতলা হয়ে যাওয়া জন্মনিরোধক ফোম, কনডম বা ডায়াফ্রাম অথবা জেলির কারণে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরী হওয়া মিলনকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার লক্ষণ ও উপসর্গ পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাতে যোনিতে ব্যথা সৃষ্টি হয় সঙ্গমকালীন যোনি অঞ্চলে দারুণ ব্যথা পাওয়া যৌনতার বা সেক্সের বিভিন্ন ভঙ্গিতেও যোনি এরিয়ার ব্যথা—বেদনা হতে থাকা যৌনমিলন বা সেক্স করার সময় সামান্য নরাচড়াতেই ব্যথা তীব্র হয়ে যাওয়া মিলনের সময় নারী যোনিতে Discomfort অনুভব করতে থাকে যৌনমিলন নারীর কাছে ঘৃণা বা অতৃপ্তি অথবা যাতনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় নারী বিরক্ত হয়ে ওঠে যৌনমিলনে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে, ফলে তাঁর মাঝে তৈরী হয় Sen phobia নারী স্বামীর সান্নিধ্য থেকে পালিয়ে বেড়ায় বা দূরে দূরে থাকে জটিলতাঃ এ সমস্যার নারীর আত্মসম্মানবোধ হ্রাস পায় যৌন অনুভূতিবোধ বিকৃত হয়ে যায় ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয় মানসিক সমস্যা দেখা দেয় (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) এ রোগে করণীয়ঃ অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে রোগীর পুরো মেডিকেল ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা—নিরীক্ষা বা ইনভেস্টিগেশন করাতে হবে। উপসর্গগুলোর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। প্যাপ স্মিয়ারসহ যোনির যে কোনো অ্যাবনরমাল ক্ষরণের কালচার টেস্ট করাতে হবে। আসল রোগ, আঘাত বা ইনজুরি অথবা যোনির গঠনগত ক্রটি থাকলে সেগুলোর উপযুক্ত ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করাতে হবে। মানসিক কারণ দায়ী থাকলে Sen Education ও মনোবিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং বা সাইকোথেরাপির দরকার হবে। সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা ধারণা অর্জন করতে হবে এবং যৌনতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা ধারণা অর্জন করতে হবে এবং যৌনতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরিহার করতে ইতিবাচক ধারণা ও মনোভাব রোগীকে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার চিকিৎসা যোনির শুঙ্কতা বেশি হলে পিচ্ছিল কারক কণ লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ইনফেকশন থাকলে তাঁর চিকিৎসা করাতে হবে। উষ্ণ গরম পানিতে প্রতিদিন ৩-৪ বার যোনি ধুতে হবে। যৌনাঙ্গ পরিস্কার—পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দুশ্চিন্তা বা টেনশনকে যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়তে হবে। প্রয়োজনে সেকোলজিস্ট বা সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। লিখেছেনঃ ডাঃ রিজিয়া খান মিতা