1 Answers
ইউনুস (আঃ) যে কারণে নদীতে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ
হিজরতকালে নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে হঠাৎ নৌকা ডুবে যাবার উপক্রম হলে মাঝি বলল, একজনকে নদীতে ফেলে দিতে হবে। নইলে সবাইকে ডুবে মরতে হবে।
কিন্তু কাকে নদীতে ফেলবে এ জন্য লটারী করা হয়। লটারীতে পরপর তিনবার ইউনুস (আঃ) এর নাম আসে। ফলে তিনি নদীতে নিক্ষিপ্ত হন।
অর্থাৎ লটারীতে তিনবার ইউনুস (আঃ) এর নাম উঠতে থাকে, ফলে পরাজিত ব্যক্তির ন্যায় সাগরে নিক্ষেপ করা হয়।
নদীতে ফেলে দেয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার হুকুমে একটি বিরাটকার মাছ তাঁকে গলধঃকরণ করে। কিন্তু তিনি মাছের পেটে হযম হননি বরং এটা ছিল তার জন্য নিরাপদ কয়েদখানা।
ইউনুস (আঃ)-এর মুক্তি :
আল্লাহ তাআলা বলেন : অর্থাৎ যদি মাছের পেটে যাওয়ার পূর্ব থেকেই তার অধিক ইবাদত ও সৎআমল না থাকত এবং মাছের পেটে যাওয়ার পর তাওবা ইস্তিগফার ও তাসবীহ পাঠ না করত তাহলে মাছের পেটেই থেকে যেতো, সেখানেই তার কবর হতো এবং সেখান হতেই কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান হতো।
তাওবাহ-ইস্তিগফার ও তাসবীহ দ্বারা বিপদাপদ দূর হয় এবং তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সূরা আম্বিয়ায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাবস্থায় বিশেষভাবে এ কালেমা পাঠ করতেনঃ
( لَّآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنْتَ سُبْحٰنَكَ ﺣ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ)
‘তুমি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৮৭)।।
তার অধিক পরিমাণ ইবাদত ও সৎ আমল এবং তাওবা ইস্তিগফারের ফলে আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবূল করত মাছের পেট থেকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে তরুলতাহীন শূন্য এলাকায় রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।