কোনো বই বা উপন্যাস বা প্রবন্ধ থেকে দেবেন না। নিজের বানানো হলে দেবেন please taratari. 

2200 views

1 Answers

হিন্দু শাস্ত্রে অসুর একটা বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। অসুর যে আসলে কি সে বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না। এক একজন এক এক ব্যাখ্যা দেন। পুরানা লোক গাথা নিয়া যারা গবেষনা করেন তাদের অনেকেই অসুর বলতে এক ধরনের মানুষ জাতিকে বোঝায় যাদের বুদ্ধি কম, রাগ ও গায়ের শক্তি বেশি।

আবার অনেকেই বলেন অসুর আসলে মানুষের দেহবিশিষ্ট কিন্তু মাথা চেহারা বিভিন্ন প্রাণির ন্যায়। আবার অনেকেই বলেন আসলে এমন সব বুদ্ধিমান কোন প্রাণী যারা ঠিক মানুষ নয় তবে মানুষের মত ব্যবহার কর্ম না সামাজিকতা মেনে চলে। ঠিক যেমন উরাং উটাং। যাই হোক বহুকাল আগের কথা, ভারতবর্ষের এক রাজ্যে বাস করত মহিষাসুর নামক এক অসুর। আসলে তাকে অনেকটা মহিষের মত চেহারা তেমনি বিশাল শক্তিশালী।

অসুরদের রাজা ছিলেন এই মহিষাসুর। তিনি ছিলেন মহান রাজা। তিনি নারীদের অত্যান্ত সম্মান করতেন। নারীদেরকে সর্গের অপসরা মনে করতেন। তাই নারীদের অধিকার ছিল উচ্চ পর্যায়ের।

তিনি অসুর ছিলেন তাই যুদ্ধ বিগ্রহ ইত্যাদি তাদের বৈশিষ্ট হওয়া সত্বেও নারীদের সাথে যুদ্ধ, নারীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারন ইত্যাদি তিনি করতেন না। এবং অন্যদেরও তা করতে দিতেন না। তার রাজত্বে সর্বগুনে গুণান্বিত ছিলেন তিনি। তাকে মহান বলা হয়। তিনি হুদুড় নামেও পরিচিত ছিলেন। 

হুদুড় রাজা খুবই শান্তিপ্রিয়, আনন্দ চঞ্চলা ব্যক্তি ছিলেন। সর্বদা নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করতেন যেকোন সময়ে যেকোন উছিলায়। সবাইকে নিয়া তিনি আনন্দ করতেন। এসকল অনুষ্ঠান পুজা পার্বনে নারীদের অংশ গ্রহন ছিল সবচেয়ে বেশি।

অপর দিকে সাধারন মানুষরা বা আর্যরা ছিল ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। তারা ছিল বুদ্ধিমান। তারা যেমনি অতি সুন্দর দেবদেবীর আরাধনা করত তেমনি সামান্য সার্থে নানা কু মতলব করে অন্যদের মারত। 

এক পর্যায়ে অসুরদের সাথে তাদের দন্দ্ব শুরু হয়। মানুষজন অসুরদের বিতাড়িত করতে উঠে পড়ে লাগেন। কিন্তু অসুর রাজ মাহিষাসুর বিশাল শক্তিশালী হওয়ায় তার সাথে যুদ্ধে কেউই পেরে উঠত না। এভাবে নানা প্রকার যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর মানুষরা আর কোন উপায় না পেয়ে দেবতাদের কাছে সাহায্য চাইলেন, পুজা আর্চনা দিতে লাগলেন। 

তখন দেবতারা ভাবল অবশ্যই মহিষাসুরকে থামানো প্রয়োজন তা না হলে মানুষরা বিলুপ্তির মুখে পড়বে। দেবতারা ভাবলেন একমাত্র মানুষরাই একাগ্রহ চিত্তে তাদের পুজা করে। কেউ কেউ পুজা না করলেও অন্তত দেবতাদের বিরুধিতা করেনা। দেবতাদের মানেন এবং বিশ্বাসও করেন। কিন্তু অসুররা রাগী জাতী হওয়ায় এরা শুধু মর্তে নয়, দেবতাদের সাথেও নানা বিরুধিতা, যুদ্ধের হুমকি ইত্যাদি করে থাকেন। কাজেই অসুরদের এত বেশি জয় তাদের আত্মবিশ্বাস এতই বাড়িয়ে দেবে যে তারা হয়ত কৈলাস সহ সর্গেও যুদ্ধ বাধাতে পারে তাই মহিষাসুর কে থামানো আবশ্যক।

এজন্য তারা মহিষাসুর কে বধের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেন এবং দেবী পার্বতী এই দায়িত্ব নিলেন। 

কিন্তু মহিষাসুর এতই শক্তিশালী এবং নানা বরদান প্রাপ্ত ছিলেন যে দেবতারা সরাসরি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতনা।  হিন্দু উপাখ্যান মতে দেবী পার্বতী ছিলেন আদিশক্তির রুপ তাই কেবল তিনিই একাজ করতে পারেন। অন্যদিকে অনেকেই বলেন যে, পার্বতী মূলত পরিকল্পনা করে এক নর্তকী মহিলাকে নিয়োগ করেন।

যাই হোক,

মহিষাসুরের ছিল বিশাল একটি দুর্গ, সেটি ছিল প্রায় অভেদ্য। সেই দুর্গের রক্ষীও ছিলেন বেশ শক্তিশালী।  হিন্দু উপাখ্যান অনুযায়ী দেবী পার্বতী এক বিশেষ গাত্রবর্ণ ও রুপ ধারন করে ঐ দুর্গের রক্ষক হয়ে আসলেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন। দুর্গের রক্ষক হিসাবে আসায় তার নাম হয় দুর্গা। 

অপরদিকে শরতকাল উপস্থিত। এই শরতের মৃদু মন্দ ঠান্ডা অনুভুতিতে মহিষাসুর নারীদের নিয়া বিশাল একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। শরতের সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে যাওয়া আকাশের নিচে সত্যি অতি আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করেছিল। মহিষাসুর এমন ঋতুতে ভালবাসার আবেগে আনন্দে রাগান্বিত ভাব ভুলেই গেলেন। তার মধ্যে প্রেম ভালবাসাময় এক পৃথিবীর স্বপ্ন বিরাজ করছিল। ঠিক এই সময় দেবী দুর্গা বেছে নিলেন। তিনি জানতেন এমন সময় মহিষাসুর শক্তি অর্জন করতে পারবেনা এবং নারীদের সম্মুখে তিনি অস্ত্র ধারনও করবেন না, যুদ্ধও করবেন না। তাই গৌরাবর্ণা রুপে তিনি ভাবাবেগ হৃদয়ে মহিষাসুর কে সহজে অপহর করে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। এই যুদ্ধে মহিষাসুর পরাজিত ও নিহত হোন। মানুষের কাছে তাই এই দিন তাদের বিজয়ের দিন আনন্দের দিন। তাই এইদিন পুজা অনুষ্ঠিত হয়। আর পার্বতী যেহেতু দুর্গা রুপে কাজটি করেন তাই এটি দুর্গা পুজা হিসাবে খ্যাত হয়। 



(উল্লেখ্য যে গল্পটি মহিষাসুর বংশের লোকগাথা, হিন্দুদের প্রচলিত লোক গাথা অবলম্বনে বিশেষ রুপায়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবিক শাস্ত্রমতে রচিত নয়, তাই অনুগ্রহ করে ধর্মী অনুভুতিতে না দেখে সাধারন গল্প অবলম্বনে দেখবেন। কারও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করার জন্য গল্পটি রচিত নয়, এটি লোকগাথা অবলম্বনে কাল্পনিক গল্প মাত্র। তবুও যদি আপত্তিমূলক মনে হয় তাহলে সাইট প্রশাসকের কাছে জানাবেন। সাইট প্রশাসক এটি ডিলিট করে দিয়া সুসম্মান বজায় রাখবেন)

2200 views

Related Questions