অপ্রত্যাশিত কথোপকথন
আলহামদুলিল্লাহ্ । প্রথমেই আল্লাহ্ তা’আলার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞ্যাপন করছি। সাধারনত ঘুম থেকে উঠি দুপুর ১ টা থেকে ২ টার দিকে। ১১ঃ৩০ এর দিকে স্বপ্নে ফোন আসছে, রিসিভ করলাম,
”আপনি কি আরিফুল ইসলাম বলছেন” “হ্যা” আপনার কি র্যামিটেন্স আসছে “হ্যা” আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বার টা একটু বলেন ওয়ান সিক্স টু ওয়ান ফাইভ ওয়ান জিরো জিরো *** *** ওকে ঠিকাছে (*আর বলা যাবে না)
ঠাস করে ঘুম ভেঙ্গে গেল। একচোখ খুলে দেখলাম ২৩ তারিখ। আবার চোখ বন্ধ ঘুম ধরছে না। মনে হল, “১০,০০০ ডলার এর বেশি রেমিটেন্স আসলে সি ফর্ম ফিলআপ ও একটা এপ্লিকেশন লিখে জমা দিলে তাহলে একাউন্টে টাকা রিলিজ করে। যেহেতু আরও বেশী এসেছে তাই যেতেই হবে”। টেবিল থেকে ল্যাপটপ টা নিয়েই ইউএসবাংলার ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। দেখি বাহ! বাহ! অনলি ৩২০০ টাকা টিকেট। যেদিন যাত্রা সেদিন ৭০০০ দিয়েই টিকেট পাওয়া যায় না আর ৩২০০! শুভ কিছুর গন্ধ পেয়ে গেলাম টিকেট কেটে নিলাম।
২৪ এপ্রিল ২০১৮ ফোন বাজছে হাতে নিয়ে একচোখ খুলে দেখলাম টেলিফোন নাম্বার। দেরি না করে রিসিভ করলাম,
“আসসালামুয়ালাইকুম” আরিফ সাহেব বলছেন। হ্যাঁ আমি ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে হ্যাঁ চিনেছি। আপনাকে একটু অফিসে আসা লাগবে ওকে আসব আজকেই আসবেন? হ্যাঁ আজই যাব একটু পর
আবার একচোখ খুলে সময় দেখলাম ১০ঃ২২ লাফ দিয়ে উঠে মাকে বললাম, হুট করে বাড়িতে আসার এটাই ছিল কারন এই দেখো ফোন পেয়েছি। আপুকে ফোন দেই, আপুকে ফোন দিয়ে বললাম যে বলেছিলাম না যে ফোন দিবে? দিয়েছে। স্বপ্নের সাথে মিলে গেছে জন্য সে বলছে, “তুই কি সত্যি বলছিস”। বিশ্বাস না হলে মার সাথে কথা বলে দেখ।
রংপুর গেলাম ব্যাঙ্কের কাজ শেষ করে ভার্সিটির এক ছোট ভাইকে ফোন,”দেখ তো ভাইয়া ক্লাস আছে কিনা থাকলে সময় জানাও” সে একটু পর ফোন দিয়ে জানাল যে ২ টায় শুরু। জাহাজ কোম্পানিতে দাড়িয়ে বিল বোর্ডের দিকে তাকিয়ে একা একা হাসতেছি আর ভাবতেছি যে, “স্বপ্নে যে ব্যাংক ম্যানেজারের ফোন দিছে তার কণ্ঠ তো ডেপুটি ম্যানেরজারের মত ছিল না”। আর আজ ব্যাঙ্কে গিয়ে ডেপুটি ম্যানেজারের কাছে গেলাম তিনি বলল ডেস্ক চেঞ্জ হয়েছে, ওই ডেস্কে... ” আল্লাহ্ তুমি আসলেই মহান।
সাউন্ড কানে লাগল, এই আরিফুল!, আমি মনে মনে বললাম, “কে রে” দেখি আমার এক স্যার (আবাসিকের। তাই সম্পর্ক ভালো এবং ফ্রেন্ডলি), গল্প করলাম কিছুক্ষণ। স্যারের সাথে উনার উনি(বউ) আর পিচ্চি ছেলে। পিচ্চিরে কিছু কিনে দেয়া দরকার। এদিক সেদিক দেখি কিছু নাই। বললাম, “স্যার চলেন কিছু নিয়ে দেই”। স্যার বলল,”ভাত খাওয়া লাগবে রে”। ওকে চলেন। পায়রা চত্বরের বৈশাখী হোটেলে নিলাম কাচ্চি বিরিয়ানি, অর্ধেক বিরিয়ানি স্যারকে তুলে দিলাম, “খান আমি তো খেতে পারি কম, চিকনা মানুষ ” অর্ধেকটা খেতেই ম্যাসেজ,”সুইস এর ক্লাস শেষ হল, ছো দেখতে চাইলে কিছুক্ষণের মধ্যে ওখানে যেতে পারো” দাঁত কামড়ে ধরে বিড় বিড় করে বলতেছি, ”ওরে স্যাররে দেখা হইবার আর টাইম পাইলেন না”। ওয়েটারকে, এই মামা বিল টা দাও কুইক, স্যার বলছে যে নিয়ে আসলাম আমি আর বিল দিবি তুই। আমার স্পীডে যেতে হবে তাই উনি কি বলে বলুক দেখার সময় নাই কুইক বিল দিয়ে, “ফোন দিয়েন কথা হবে আমি একটু ওইদিকে যাব”
সুইস মেস এরিয়াতে গেলাম। এক বন্ধুকে ফোন বন্ধু দেখতো ক্লাস আসে কিনা, ওকে জানাচ্চি, ১ মিনিটের কথা বলে ১০ মিনিট খেয়ে ফেলছে, শেষে আমি কল দিলাম, কেটে দিয়ে একটু পর, আজ তো ক্লাস নাই, একটু আগে শেষ হল ও এখন মেস এ। কাল আসিস।
ভাবলাম তাহলে তো আর এখানে বসে থেকে লাভ নাই। বন্ধুকে ফোন দিলাম, পার্কমোড়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। তারপর দুটো ফ্রেন্ড কে নিয়ে সুপার মার্কেট ঘুরে আমার হাইস্কুল টিচারের (প্রিয় ম্যাডাম। খুব আদর করে আমারে) সাথে মাউন্টেন ডিউ, লাচ্ছি খেয়ে সুপার মার্কেটের সামনে দাড়িয়ে গল্প করতেছিলাম। গল্পের ফাঁকেই আমার মনে হল সুইস এর পাশের মেসের এক মেয়ের সাথে আমার মিট করার কথা ছিল, তাই গল্পের ফাঁকেই আমার এক বান্ধবিকে ম্যাসেজ দিয়ে বললাম দেখোতো সে ফ্রি আছে কিনা, এবং রেডি হতে কত সময় লাগবে। সে ম্যাসেজ এ নাম্বার দিয়ে আমাকেই ফোন দিতে বলল, ম্যাম এর সামনে কেমনে বলি, তবুও ফোন দিলাম, “আসসালামুয়ালাইকুম, আমি আরিফুল ইসলাম বলছিলাম, আপনি কি মিট করতে পারবেন? "হ্যাঁ" । আপনার রেডি হতে কত সময় লাগবে? "১০ মিনিট।" ওকে ফোন দিয়েন।
গল্প করতে করতে ম্যামকে বললাম, আমি যদি এখন যেতে পারি তাহলে একটা কাজ শেষ করতে পারব। আমি যাই? ওকে যাও বাবা। থ্যাংকইউ, ফোনে কথা হবে।
ওই মেয়ের কাছে যেতেই লাগবে ১৫ মিনিট আমি তো এখানেই ১০ মিনিট খেয়ে ফেলেছি। তাই ছিড়ে দৌড়, অটোতে চড়ে নামলাম সুইস এর মেস এলাকায়। মেয়েটি আসল। বললাম, বসেই কথা বলি। সে বলল ওকে। আমি বললাম তোমার মেস এ প্রবেশ এর শেষ টাইম কখন। ৬ঃ১০। একটা রেস্টুরেন্ট এ বসে সে রোল, মিস্টি ও দই খেল আমি এক কাপ কফি। খাওয়া শেষ হতেই ৬ঃ৮ বেজে গেছে, আমি বললাম, আপনার তো সময় শেষ, প্রতিমাসেই তো আমার আসা হয়, কথা নেক্সট এ বলা যাবে। ঠিক আছে ভাইয়া। তাই ওকে মেস পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম। একজন দেখা করতে চেয়েছিল। আমি আবার পার্কের মোড় এ যাচ্ছি। একটু যেতেই একটা ফোন আসল, ভাইয়া সুইস মেস থেকে বের হচ্ছে, খয়েরি কালার ড্রেস।
আমি অটোকে, ”ওই মামা থামা” ৫ টাকা দিয়ে ভিড়ের মধ্যেই রাস্তা ক্রস করে দেখছি কোন অটোর স্পীড ভালো। আগে যেতে হবে বলে কথা দৌড়ে একটায় উঠলাম। সুইস এড়িয়ায় যেয়ে আমি অটো থেকে নামা মাত্রই সুইস আমাকে দেখে ফেলেছে। সুইস এর গতি মন্থর হয়ে গেল। আমি তো পুরাই অবাক। একি কথা যেখানে আমাকে দেখলে সুইস এর স্পীড বাড়ে সেখানে স্পীড কমে গেছে দেখি। আসলে সে হয়তবা শহরের দিকে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আমাকে দেখে রুট চেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিতেই গতি মন্থর হয়ে গেছে। ওর সাথে আরেকটা মেয়ে ছিল বয়সে ওর চেয়ে ৩/৪ বছর জুনিয়র হবে হয়ত। সে সহ ধীরে ধীরে ভার্সিটির দিকে আগাতে লাগল। একটু আগায় আবার থামে, আমিও ৫০ ফিট দূরত্ব বজায় রেখে আগাই আবার থামি। আমি ফ্রেন্ডকে ফোন দিচ্ছি যে “সুইস পাইছি তুমি কুইক আসো” সে বলল, "ওকে"। সুইস প্রায় ৫ মিনিট ভেবে সিদ্ধান্ত নিল সে ভার্সিটির দিকেই যাবে তাই তার সাথের মেয়েটি মেস এ ব্যাক করল আর সুইস রাস্তা পার হয়ে একটা অটোতে উঠলো। আমি তো অনেক পিছে। সে বহুবার আমার চোখের সামনে থেকে হাওয়া হয়ে গেছে, তাই দোউর শুরু করে দিলাম, রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রাস্তা পার হলাম হয়েই একটা অটোটে উঠে গেলাম। অটোর স্পীড কম মনে হল তাই ওরে ৫ টাকা দিয়ে ১ টা চার্জার রিক্সায় উঠে বললাম, “মামা যা স্পীড আছে লাগাও” মামায় বলে, ”মামা চার্জ একটু কম আছে তাই এর বেশি যাবে না” নিজেরে একটু অসহায় মনে হল। কি আর করা ওই স্পিডেই পার্কের মোড় গিয়ে নেমে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি আর বিল দিচ্ছি। আমার পিছন থেকে সুইস হেটে হেটে আমাকে অভারটেক করে গেল।
সে ভার্সিটে গিয়ে মাঠের সাথে রাস্তার পাশে দাঁড়াল। আমিও গেলাম। সেও একা আমিও একা। ফ্রেন্ড রে ফোন দিলাম, দাঁত কিড়মিড় করে, ”রিক্সাওয়ালারা কি সব মরে গেছে, আসতে এতো সময় লাগে ক্যান” সে বলছে, আসছি আসছি গেটে তোমার পিছনেই। সে আসল। আমি বললাম, সুইস একাই আজ কথা বলবই তুমি সাইডে থাকিও। আমি একটু এগিয়ে গেলাম, নিজের হার্টবিট নিজেই অনুভব করছি, হ্যাঁ অনেকটাই পজিটিভ। যা আছে চালানো যাবে মুখ নড়াচ্ছি। হ্যাঁ সে নড়ছে তার মানে কথা বের হবে।
আমি একটু আগালেই সে দেখি দিক বিদিক স্পীডে হেটে হেটে ছুটে। আমি ব্রেক দেই, সেও ব্রেক দেয়। মহা ঝামেলা। সে আজ একা থাকা সত্ত্বেও কথা বলার চান্স দিবে কিনা বুঝতে পারতেছিলাম না। পুরো মাঠে অনেক স্টুডেন্ট। সে যদি আবার চিৎকার দেয় তাহলে তো কাল থেকে তারই ভার্সিটি আসতে লজ্জা লাগবে। নাহ! ওর কথা আর ভাবলে চলবে না, ভাবতে ভাবতেই ৯ বছর পার হয়ে গেছে। সমস্যা কমাতে একটু দূর থেকে সালাম দিয়ে কথা শুরু করলাম।
তার সাথে প্রথমে ২ মিনিট তারপর একঘণ্টা ব্রেক। সুইস এই ঘটনার ইতি টানতে চেয়েছিল তাই আবারো ৫ মিনিটের মত কথোপকথন হয়। কথোপকথনের চুড়ান্ত ফলাফল হচ্ছে, সুইস আমাকে একেবারেই অপছন্দ করে তাই আমার সাথে কোন কথা বলবে না, সে আর দশটা মেয়ের মত নয়। আমি যেন তাকে আর কোন গিফট দেয়ার চেষ্টা না করি। জীবন অনেক জালাইছি আর যেন না জ্বালাতন করি। নেক্সট টাইম জ্বালাতন করার চেস্টা করলে কিছু একটা করবে।
একটু ভিন্নভাবে গল্পটি আমাকে শেষ করতে হল। আমি তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারি না তাই দুঃখিত।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy