1 Answers
দুধের অন্যতম উপাদান হল ক্যাসিন (Casein) । দুধের সাথে যখন কোন অ্যাসিডিক পদার্থ মেশানো হয়, যেমন লেবু, আনারস, বা টক জাতীয় অন্য কোন ফল বা খাবার, তখন তা দুধকে ভেঙ্গে ক্যাসিন আলাদা করে ফেলে এবং দুধ পরিণত হয় ছানায়।
এমনকি মানবদেহে পাকস্থলীর মাঝেও এক বিশেষ প্রকার গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড থাকে যা হজমে সহায়তা করে। দুধ পান করলে পাকস্থলীতে পৌঁছানোমাত্রই সেটি ক্যাসিন আলাদা করে দুধকে ছানায় পরিণত করে। এটি একটি স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া, যা ছোটবড় সকলেরই হয়ে থাকেস্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং আনারস ছাড়া অন্য যেকোনো টক জাতীয় খাবারের জন্যও প্রযোজ্য। কিন্তু এর কারণে এমন কোন বিষক্রিয়া তৈরি হয় না, যাতে মানুষ মারা যেতে পারে। এরকম ‘অপ্রক্রিয়াজাত’ ছানা এবং ‘আনারস মিশিয়ে’ বানানো ছানার মধ্যে গঠনগত কোন পার্থক্য নেই। তাই এমন ‘কাঁচা’ ছানা খেলে যেসব শারীরিক সমস্যা হতে পারে (বিশেষত গ্যাস্ট্রিকজনিত কোন সমস্যা থাকলে), আনারস ও দুধ একসাথে খেলেও ঠিক সেই রকমই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া বিশেষ কোন সমস্যা বা বিষক্রিয়া হবে না।
তবে এখানে বলে রাখা দরকার, আনারস কিংবা দুধে কারো কারো এলার্জী থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আনারস গ্রহণে কিংবা দুধ পানে বিরূপ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই জন্যই আলসার বা গ্যাস্ট্রিক বা ‘ল্যাক্টোজেন টলারেন্স’ কম এমন রোগীদেরকে দুধ পান করতে কিংবা বেশি পরিমাণে টক জাতীয় ফল খেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। এই ধরণের পূর্ব শারীরিক অবস্থা না থাকলে, দুধ ও আনারস একসাথে খেলে আলাদা করে কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। উল্লেখ্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আনারস ও দুধের তৈরি জনপ্রিয় বিভিন্ন পানীয় রয়েছে, যার মধ্যে ভাইফালা, বাবল টি পাইন্যাপল স্মুদিস, ওটাই, মিল্কশেক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব পানীয়তেও কোন বিষক্রিয়া হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।