প্রেগনেন্সির ছয় সপ্তাহে হটাত সাদা স্রাবের সাথে রক্তের ছোপ দেখতে পাই। তার পর গাইনি বিশেসঙ্গের সাথে কথা বললে উনি জেস্টন ও জেড এন এফ ট্যাবলেট খেতে বলেন ও বেড রেস্ট এ থাকতে বলেন। কিন্তু এর তিন চার দিন পর এটা বন্ধ হয় এবং কালো রংয়ের সুতার মত বের হচ্ছে। সাত সপ্তাহে আল্ট্রা সনো গ্রাম করলে দেখা যায় যে বাচ্চার হার্ট মুভমেন্ট ঠিক আছে কিন্তু কালো স্রাব বের হতেই আছে। এমতাবস্থায় কি বাচ্চার কোনো ক্ষতি হবে? এটা বন্ধ করার উপায় কি???
3272 views

2 Answers

গর্ভাবস্থায় একটু আধটু ব্লিডিং এ ভয় পাওয়ার কিছু নাই। এক্ষেত্রে আয়রন ও হরমোন জাতীয় ঔষধ খেতে হয় যেটা আপনাকে সাজেষ্ট করেছেন ডাক্তার অলরেডী। আর রেষ্ট তো বাধ্যতামুলক। তবে যখন অতিরিক্ত ধারায় ব্লিডিং হতেই থাকবে তখন এটা নিয়ে বসে থাকলে ভূল করবেন। আমি এখান থেকে আপনাকে ঔষধ লিখতে পারতাম। তবে সেটা ঝুকিপূর্ন। তাই আপনি পুনরায় ডাক্তারকে ইনফর্ম করুন। উনি আপনার স্বাস্থগত এবং গর্ভের অবস্থান নীরিক্ষনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিবেন। এটা নিয়ে বসে থাকবেন না প্লিজ। ধন্যবাদ।

3272 views

Nayeem Ahmeed✌


গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ যে কোন গর্ভবতী মায়ের জন্য বেশ ভয়ের ব্যাপার। মাসিক বন্ধ হওয়ার পর একজন “মা” ভাবেন তিনি গর্ভবতী হয়েছেন এবং তার আর রক্ত যাবে না- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নানা কারণে গর্ভাবস্থায় মাসিকের রাস্তায় রক্তক্ষরণ হতে পারে। পুরো গর্ভাবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করলে- প্রথম তিন মাস, মাঝের তিন মাস ও শেষের তিন মাসের যে কোন সময় রক্তক্ষরণ হতে পারে।


প্রথম তিন মাসের রক্তক্ষরণের কারণঃ


নানা কারনে গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে রক্তক্ষরণ হতে পারে। শতকরা ২০-৩০ ভাগ গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এর মধ্যে অর্ধেকের বাচ্চার কোন সমস্যা হয় না, পুরো গর্ভাবস্থা কাটিয়ে পূর্ণ সন্তান প্রসব করা হয়।  বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রথম তিন মাসে রক্তক্ষরণের প্রধান কারণ। অনেক সময় অল্প অল্প রক্তক্ষরণ হয় কি‘ ঠিকমত চিকিৎসা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী থাকলে শেষ পর্যন্ত সন্তান প্রসব সম্ভব।


একটোপিক প্রেগনেন্সিঃ- জরাযু ছাড়া পেটের ভিতরে অন্য কোন যায়গায় (যেমন টিউব, ডিাঁশয়) যদি ভ্রম্নন স্থাপিত হয় তবে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলে। মাসিক বন্ধ হওয়ার পর পেটে ব্যাথার সাথে সাথে হালকা রক্তপাত এর প্রধান লক্ষণ। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে একটোপিক প্রেগনেন্সি কিনা তা জানা যায়।


ইমপ্লেনটেশনের রক্তপাতঃ- বাচ্চা নষ্ট হবার সম্ভাবনা ছাড়াই কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে জরায়ুতে ভ্রুন স্থাপিত বা ইমপ্লেনটেশনের সময় রক্তপাত হতে পারে। সাধারণত কনসেপশনের ছয় থেকে বার দিন পর এরকম হতে পারে। অনেকে এটাকে মাসিক মনে করতে পারেন কি‘ পরবর্তীতে কিছু দিন পর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে কনসেপশন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।


আর কিছু কারনে প্রথম তিন মাসে মাসিকের রাস্তায় রক্তক্ষরণ হতে পারে। তা হলো- মোলার প্রেগনেন্সি যেখানে জরায়ুতে ভ্রুনের পরিবর্তে টিউমার জাতীয় সমস্যা হয় এবং এ অবস্থায় রক্তক্ষরণের সাথে সাথে আঙ্গুরের থোকার মত বের হয়।


তবে একটা ব্যাপার জেনে রাখা ভালো যে, যে সব ভ্রুনের জন্মগত কোন ত্রুটি থাকে সাধারণত সে সব বাচ্চাই নষ্ট বা এবরশন হয়ে যায়।


গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে রক্তক্ষরণের কারণঃ


এ সময়ে রক্তক্ষরণের প্রধান দুটি কারনের একটি হলো- গর্ভফুল নিচে জরায়ুর মুখের কাছাকাছি থাকা। যাকে বলা হয় পস্নাসেন্টা প্রিভিয়া। যাদের আগে জরায়ুতে কোন ধরনের অপারেশন যেমনঃ ডিএনসি, সিজারিয়ান অপারেশন বা যাদের জমজ বাচ্চা হয়, এটা তাদের হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। অন্যটি হলো গর্ভফুল জরায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা থেকে একটু আলগা হয়ে যাওয়া। বিভিন্ন কারণে এ রকম সমস্যা হতে পারে। যেমন-প্রেসার বেশি থাকা বা পেটে কোন কারণে আঘাত পেলেও এরকম হয়।  এছাড়াও, নির্ধারিত সময়ের আগেই ডেলিভারির ব্যাথা উঠলে শেষের দিকে রক্তপাত হতে পারে। অনেক সময় জরায়ুর মুখের কোন সমস্যার জন্যও গর্ভাবস্থায় রক্ত যেতে পারে ।


এ সময়ে করণীয়ঃ প্রথম দিকে অল্পরক্ত গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিলে ভ্রুনের অনেক সময় কোন ক্ষতি হয় না । আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্ত যাবার সাথে বেশি পেট ব্যাথা থাকলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে।


রক্ত বেশি গেলে সাথে সাথে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এ অবস্থায় যে কোন সময় রোগীর রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য গর্ভবতী মাকে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকতে হবে এবং তাকে রক্ত দিতে পারে এমন একজন রক্তদাতার ঠিকানা ও ফোন নম্বর কাছে রাখতে হবে।


গর্ভাবস্থায় রক্তপাত মারাত্মক ঝুকি বলে বিবেচিত হয়। এ সময়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং ভারী কাজ করা, ভ্রমন ও সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। সেইসঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

3272 views

Related Questions