1 Answers

বিদআত (আরবি ভাষায়: ﺑﺪﻋﺔ) একটি আরবি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ নতুনত্ব, নবতর উদ্ভাবন । আরবি ভাষায় এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভাষ্য অর্থে ব্যবহৃত হলেও ইতিবাচক ইঙ্গিত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ইসলামে বিদআত পরিভাষাটির দ্বারা ধর্মীয় বিষয়ে নতুন প্রথা উদ্ভাবনকে বুঝায় এবং এ বিষয়ে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর একটি বাণী সর্বাধিক আলোচিত যা হল, "তোমরা নতুন উদ্ভাবন পরিহার কর কারণ প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবন হল বিদআত আর প্রত্যেক বিদআত হল ত্রুটি।" পার্থিব বিষয়ে সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, পার্থিব জীবনযাপনের বিষয়ে উপকারী বিদআত বৈধ এবং অপকারী বিদআত নিষিদ্ধ । ধর্মীয় বিষয়ে ইবাদত ও ধর্মীয় নিয়মকানুন সংক্রান্ত বিষয়ে সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বিদআতের বিভিন্ন শ্রেণীর সংজ্ঞা প্রচলিত আছে, এগুলো হলঃ "এমন কোন কাজ করা যা আল্লাহ ও তার রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃ) কে অসন্তুষ্ট করে। (মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-তিরমিযী) ভাল এবং খারাপ উদ্ভাবন: একটি হল সে সকল বিদআত যেগুলো কোরআন, সুন্নাহ ও শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক, যা "বিদআত সায়িয়াহ" নামে পরিচিত, এবং তা হল নিষিদ্ধ ; আরেকটি প্রকার হল বিদআত হাসানা, যা হল এমন নব্য উদ্ভাবন যা ইসলামী শারিয়াহর (ইসলামিক আইন) বিরোধী নয়। (কাজী শাওখানি, ইমাম নববী, এবং হাফেয আস্কালানির মতানুসারে) বিদআত হাসানার একটি উদাহরণ হল হাদিস, ফিকহ, তাফসির শাস্ত্রের ক্রমোন্নতি যা ইসলামিক নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সময়ে ছিল না । "নতুন জিনিস, কোরআন ও সুন্নাহতে যার কোন ভিত্তি নেই।" (হাফিয ইবনে রাজ্জাব) বিদআত সর্বদাই খারাপ কিন্তু কোন নতুন জিনিসের মূল উৎস যদি কোরআন এবং সুন্নাহ হয় তবে তাকে বলা হবে "বিদআত লোগাভিয়া" (শাব্দিকভাবে উদ্ভাবন)। ( ইবনে তাইমিয়া) ধর্মগ্রন্থীয় ভিত্তি, কুরআনের “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম, এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম।” ( কুরআন 5:4 ) এই আয়াতটিকে কিছু মুসলিম বিদআতের বিরুদ্ধে কুরআনের উদ্ধৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন। নবী মুহাম্মাদ (সা) এর পাশাপাশি আলী, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস সহ বহু সাহাবী এবং সুফিয়ান আস-সাওরি সহ পরবর্তী বহু ইসলামী পণ্ডিত বিদআতের ব্যপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন, এছাড়াও সমসাময়িক সালাফি আলেমগণ "বিদআত হাসানা"র সংজ্ঞাকে নাকচ করে দিয়ে সকল ধর্মীয় বিদআতকে গুরুতরভাবে তিরস্কার করেছেন। তবে ধর্মীয় বিষয়ে কোন কিছুকে বিদআত হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য যে সকল মানদণ্ড গ্রহণ করা হয় সে বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এক্ষেত্রে সালাফি আলেমগণ অধিক কঠোরতা এবং অনেক আলেম বিশেষত সুফি আলেমগণ এক্ষেত্রে তুলনামূলক শিথিলতা ও সহনীয়তা প্রদর্শনের পক্ষে যুক্তি দেন। এছাড়া ঈদে মিলাদুন্নবী বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না সে বিষয়েও সুন্নি আলেমগণের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ।

3378 views

Related Questions