1 Answers
২০০৯ খ্রিস্টাব্দে মালালা বিবিসির জন্য ছদ্মনামে একটি ব্লগ লেখেন, যেখানে তিনি তালিবান শাসনের অধীনে তাঁর জীবন ও সোয়াত উপত্যকায় মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন।
২. বিস্তারিত উত্তর
মালালা ইউসুফজাই, ৩রা জানুয়ারি ২০০৯ বিবিসি ব্লগ
২০০৮ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে বিবিসি উর্দু ওয়েবসাইটের তরফ থেকে আমের আহমেদ খান ও তাঁর সহকর্মীরা সোয়াত অঞ্চলে তালিবানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্বন্ধে জানার জন্য সেখানকার স্থানীয় কোন মেয়েকে তাঁর জীবন সম্বন্ধে ব্লগ লেখার অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় তেহরীক-ই-নফাজ-ই-শরিয়ত-ই-মোহম্মদি নামক স্থানীয় তালিবান সংগঠনের নেতা মৌলানা ফজলুল্লাহর নেতৃত্বে তালিবানরা সোয়াত উপত্যকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করে টেলিভিশন, সঙ্গীত, মেয়েদের শিক্ষা[২৪] ও মহিলাদের কেনাকাটার[২৫] ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পুলিসদের মস্তকচ্যূত দেহ শহরে প্রকাশ্যে ঝোলানো থাকত।[২৪] পেশাওয়ার শহরে আব্দুল হাই ককর নামক তাঁদের স্থানীয় সংবাদদাতার সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষক জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাইয়ের যোগাযোগ ছিল, কিন্তু তাঁরা এই কাজের জন্য কোন ছাত্রীকে খুঁজে পাননি, কারণ পরিবারের নিকট এই কাজ ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। অবশেষে জিয়াউদ্দিন তাঁর নিজের মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ১১ বছরের মালালাকেই এই কাজের জন্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিলে,[২৬][২৭] বিবিসি সম্পাদকরা সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন করেন।[২৪]
মালালার নিরাপত্তার জন্য বিবিসির সম্পাদকরা তাঁকে ব্লগে ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বললে,[২৪] মালালা পাশতুন রূপকথার একটি চরিত্রের নাম অনুসারে[২৮][২৯] গুল মকাই ছদ্মনামে লেখেন।[৩০] ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩রা জানুয়ারি বিবিসি উর্দু ব্লগে মালালার লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়। হাতে লেখা এই সমস্ত রচনাগুলি তিনি একজন সাংবাদিককে দিতে, যিনি সেগুলিকে স্ক্যান করে বিবিসিকে ই-মেইল করে দিতেন।[২৪] এই রচনাগুলিতে প্রথম সোয়াত যুদ্ধের সময় সামরিক অভিযানের কারণে বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়া ও বিদ্যালয়গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর চিন্তা-ভাবনা লিখিত হয়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারির পরে কোন ছাত্রী বিদ্যালয়ে যেতে পারবে না এই মর্মে তালিবানরা ফতোয়া জারি করে মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট শতাধিক স্কুল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নষ্ট করে দেয়।[২৪] ১৫ তারিখ ব্লগের লেখাটির কিয়দংশ নিয়ে একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।[১৭]
নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর তালিবানরা আরো বহু বিদ্যালয় ধ্বংস করে দেয়।[৩১] এই সময় মালালা তাঁর বার্ষিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।[৩১] ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়েদের বিদ্যালয়গুলি বন্ধ ছিল। ছেলেদের বিদ্যালয়গুলিও এই ঘটনার প্রতিবাদে ৯ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়।[৩১] ৯ তারিখের পরে তালিবানরা মেয়েদের প্রাথমিক সহ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়, কিন্তু শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়গুলি বন্ধ থাকে।[৩১] ১৫ই ফেব্রুয়ারি, সরকারের সঙ্গে তালিবানদের শান্তি চুক্তি হয় ও ১৮ তারিখ মালালা ক্যাপিটেল টক নামক একটি জাতীয় সম্প্রচার অনুষ্ঠানে তালিবানদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।[৩২] তিন দিন পরে মৌলানা ফজলুল্লাহ নারিশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন এবং ১৭ই মার্চ পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের বোর্খা পরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।[৩১] ১২ই মার্চ মালালা বিবিসির জন্য শেষ বারের মত ব্লগ লেখেন।[৩৩]
https://bn.wikipedia.org
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy