আমি আমার খালাতো বোনের সাথে অনেক গভীর প্রেম করছিলাম। হঠাৎ ২ বছর ৭ মাসের মাথায় এসে সবাই জেনে যাই। তাও নানু বাড়ি থেকে। আজ ৪ দিন হচ্ছে সবাই জেনে গেছে। এখন দুই জন দুই জনকে ছাড়া বাঁচব না। মরে যাব। এখন ব্যাপারটা কেউ মেনে নিচ্ছে না। সবাই প্রচুর বোঝাচ্ছে। এই সম্পর্ক কক্ষনো মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। 


কি করব কেউ কি বলতে পারেন। আবার আমার বয়স ১৯ আর আমার খালাতো বোনের বয়স ১৬ । 

আমরা কি পালিয়ে যাব না মরব। সবাই কে অনেক বোঝাচ্ছি। কাজ হচ্ছে না।


আবার আমি ফ্রিলান্সিং করি। পেশা হিসেবে ওয়েব ডিজাইনার।  upwork এ কাজ করি। আবার envato themeforest a product sell করি। পালিয়ে গিলে সমস্যা হবে না। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে প্রচুর বিশ্বাস  করে। আর আমাদের দুই পরিবার একি স্টাটাসের/লেভেলের। কিন্তু কেউ মেনে নিচ্ছে না। একটাই কথা এটা কখন সম্ভব না। এই পথ থেকে ফিরে আসতে হবে। 


আর ওর আমার দুজনেরই লাইফের প্রথম প্রেম। তাই কেউ কাওকে ছাড়তে পারছি না। এমন অবস্থা হয় মরতে হবে। না হয় পালাতে হবে। 


এই প্রথম আমরা সবার বিশ্বাস  হারিয়ে ফেলেছি। সবাই আমাদের খুব বিশ্বাস  করত।


এখন বড় বিপদে আছি। কষ্টে আছি। কেউ আমাদের বাপার টা বুজছে না। 

কি করব এখন?????

2884 views

1 Answers

প্রেম-ভালোবাসা এমন একটি ব্যাপার যা কখনোই কেউ ভালো চোখে দেখে না। সে আপনি যতোই ভালো কারো সাথে জড়িয়ে যান না কেন। পারিবারিক ভাবে বা সমাজের মানুষ সবসমই এইটাকে খারাপ চোখে দেখে। সবার আগে যে বিষয়টা আসে তা হলো আপনারা দুই জনেই কিন্তু যথেষ্ট বয়ষ্কপ্রাপ্ত নয়। আপনার কথা মেনে নেয়ার বা পরিবারের সদস্যরা আপনার কথা শোনার মতো অবস্থানে আপনি এখনো যাননি। আপনি নিজেকে অনেক বড় মনে করলেও আপনি কিন্তু এখনো বয়সন্ধি কালই পেরোতে পারেননি। আর এই সময়ে সাধারনত আবেগটা বেশি থাকে আর মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত বেশি নেয় । সুতরাং আপনার ফ্যামিলী মেম্বার যে আপনার কথায় কোন কান দেবেনা এইটাই স্বাভাবিক। আরেকটা বিষয় হলো যে, আত্মীয়ের মধ্যে অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে সাধারনত কোন পরিবারই চায়না বিয়ে দিতে কারণ সাংসারিক জীবনে ভবিষ্যতে কোন প্রকারের সমস্যা হলে দাম্পত সম্পর্কের আসান্তির সাথে সাথে দুই পরিবারের সম্পর্কটাও একেবারে নষ্ট হয়ে যায়।

নিজ অভিজ্ঞতাঃ আমি নিজেও আমার খালাতো বোনকেই বিয়ে করেছি এবং সেইটা প্রেম করে, তাকে ভালোবেসে এবং সেইটা ৮ বছর প্রেম করার পরে। আমি যখন ভার্সিটিতে প্রথম বর্ষে পড়ি তখন পরিবার থেকে তা জানতে পারে এবং আমার পড়াশুনার খরচ বন্ধ করে দেয়। আমি টিউশনি করে চললাম। পরে আবার টাকা দেবার বিষয়টা ঠিক হয়ে গেছে কিন্তু সম্পর্ক মেনে নেননি। সেখানে আপনি তো ফ্রি ল্যান্সিং করেন। এই সময়ে আমার ছোট মামা আমাকে যা বলেছিলো আমি আমি আপনাকে তাই বলবোঃ ধরুন আপনার পরিবারে আপনারা দুই ভাই আর এক বোন। আপনার বয়সে ছোট ভাই ভালো একটা জব করে, অনেক সেলারি পান তিনি আর আপনি ইন্টারে ফেল করে আর পরাশুনা করেন নি, বাপের হোটেলে খান, ঘুমান আর ঘুরে বেড়ান। বাসায় আপনার ছোট বোনের বিয়ের কথা চলছে। দুইটা ছেলে পছন্দ হয়েছে এখন আপনার বাবা আপনাদের দুই ভাইয়ের কাছে পরামর্শ চাইছেন কোন ছেলেকে বাছাই করা যায়। আপনারা দুই জনেই আপনাদের মতামত দিলেন। বলুন তো আপনাদের দুই জনের মাঝে কার মতামতকে প্রাধান্য দিবেন আপনার বাবা। অবশ্যই আপনার ছোট ভাইয়ের কথা কে প্রাধান্য দিবে এইটা মানেনতো নাকি। কেনো প্রাধান্য দিবে, কারণ পরিবারে সে সেই জায়গাটা তৈরী করে নিতে পেরেছে। সে যদি একটা মেয়েকে নিয়ে এসে বলে বাবা আমি একে বিয়ে করবো মেয়ে দেখতে বিছ্রী হলেও আপনার পরিবার মেনে নিবে আর আপনি একটা হুরপরী আনলেও বলবে এটা হবে না। আমি যা বলতে চাইছি তা হলো, পরিবারে আগে আপনার নিজের অবস্থান আগে পোক্ত করতে হবে। আমি প্রেম করেই গেছি আর পড়াশুনাটা ও সমান তালে করে গেছি, পরে আমার একটা ভালো জব হবার পরে বলেছি আমি অকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না, তখন পরিবার বলেছে, ছেলে পছন্দ করেছে কি আর করা। আমার বিয়ে পরে পারিবারিক ভাবেই হয়েছে, পরিবারই সব কিছু ঠিক করেছে এবং ধুমধাম করেই হয়েছে।

আপনার খালু আপনার হাতে যে মেয়ে তুলে দেবেন তা কি দেখে দেবেন । আপনি কি প্রতিষ্ঠিত ? না, আপনি তা নন। আপনি তার অবস্থানে নিজেকে ভাবুন তাহলেই একটু বুঝতে পারবেন পুরোটা বাবা না হলে কখোনই বুঝবেন না। এখন আপনি যা করতে পারেন এই নিয়ে আর জল ঘোলা না করে চুপ হয়ে যান দুজনেই। বিষয়টি থেমে যাক। আপনার প্রেমিকাকে ঠিক থাকতে বলুন তার অবস্থানে। কারণ এর পরে আপনার খালুর পরিবার তাকে বিয়ে দিতে চাইবেন। কিন্তু সে যেন এসব এড়িয়ে যায় যে কোনো বাহানায়। আর আপনি আপনার ক্যারিয়ারটা গড়ুন আরো শক্তভাবে। আপনার বয়সের ভারত্ত আরো বাড়ুক , তাহলে আপনি নিজেই তখন বুঝবেন কি করা উচিত আর কি করা উচিত না।

পালিয়ে বিয়ে করার কথা কখনোই ভাববেন না, ভুলেও ভাববেন না। একটা কথা মনে রাখবেন বাবা-মা কে কষ্ট দিয়ে জীবনে কখনোই সুখী হতে পারবেন না। বরং আপনার প্রতি তাদের বিশ্বাস যেটুকু বাকী আছে তাও শেষ হয়ে যাবে। নিজের অবস্থানটা আরো একটু পোক্ত করে বাসায় ভালো করে বুঝিয়ে বলবেন। ইনশাআল্লাহ্‌ ঠিক হয়ে যাবে। আর মরা মরি চিন্তাও বাদ্দ দেন, আবেগ দিয়ে কোন কিছু হয় না। ঠান্ডা মাথা নিজেও ভাবুন। একটা কথা মনে রাখবেন জন্ম , মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনটি আল্লাহর হাতে। আপনার কপালে আল্লাহ্‌ যদি তাকে রাখেন তবে অবশ্যই আপনি তাকে পাবেন আর যদি না পান তবে আপনার জন্য সে ছিলো না। আপনি কি আল্লাহর বিরুদ্ধে যেতে পারবেন বলেন। সর্বোপরি আপনি চেষ্টা করতে পারেন কিন্তু আপনার সব কিছুর নির্ধারক কিন্তু পরম আল্লাহ্‌ নিজেই। আর একটা কথাঃ দুনিয়াতে সেই আসল প্রেমিক যে তার বা-মা কে ভালোবাসে। আর বাবা-মা ই হলো সবচেয়ে আপনজন। তাদের কষ্ট দিয়ে নিজের সুখ কখনোই দেখবেন না।




2884 views

Related Questions