বাজারে একটি মজলিসে দেখলাম যে, একটি দল তাঁরা মজলিসে মানুষদের গোল করে বসিয়ে মাঝখানে একটি অস্ট্রধাতুর আংটি রাখে এবং সবাইকে বলে ঐ আংটির দিকে তাঁকাতে সবাই তাকালো তারপর তাঁদের দর্শকদের মধ্যে থেকে একজনের(যার তুলা রাশি) হাত আংটির দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং সে তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, এমনকি আংটি তার মাথায় রাখলে সে অচেতন ভাবে কাপতে কাপতে মাটিতে পড়ে যায়। এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এবং ইসলামী ব্যাখ্যা চায়।
2651 views

1 Answers

প্রথমেই বলে রাখি ইসলামে রাশিফল বলে কিছু নেই এগুলো হিন্দুদের কালচার বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে । আর আপনি যা দেখেছেন এগুলো কালো জাদুর মাধ্যমে করা হয় যা জাদু বিদ্যা নামে পরিচিতি ইসলামে জাদু বিদ্যা হারাম নিচে জাদু বিদ্যা সমন্ধে আরো বিস্তারিত অনেক কিছু আলোচনা করা হলো ইসলাম ধর্ম মতে যাদু-বিদ্যার ইতিহাস এবং এর ক্ষতিকর দিক । এ থেকে বাচার উপায় । যাদু বিদ্যার বাস্তবতা অনস্বীকার্য । মানুষের মেধা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বহির্ভূত এই বিদ্যার দ্বারা অনেক অসাধ্য সাধন করা যায় । মানুষের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধির বিলুপ্তি ঘটিয়ে তাদেরকে নানা অপকর্মে লিপ্ত করা, স্বাস্হ্য ও স্বাভাবিক জীবন-যাত্রার বিঘ্ন সৃষ্টি করা ও ধর্মীয় চেতনা বিলুপ্ত করে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাদুর অসাধারন প্রভাব রয়েছে । কুরআন-হাদিসে প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী দুনিয়ার মানুষ প্রথম যাদু-বিদ্যার সাথে পরিচিত লাভ করেছে হারুত-মারূত নামক দু'জন ফেরেশ্তার মাধ্যমে । বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর জামানায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের পাপ-পংকিলতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে ফেরেশ্তাগণ এই মর্মে আল্লাহর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করল যে, মাওলা ! তুমি দুনিয়া এ কেমন মাখলূক দ্বারা আবাদ করলে, যারা তোমার অবাধ্যতা এবং নানা অপকর্মের দ্বারা দুনিয়ার পরিবেশ একেবারে বিনষ্ট করে দিয়েছে ? আল্লাহ বললেন, মানুষের মধ্যে কাম ক্রোধ হিংসা বিদ্বেষ প্রভৃতি নানা অন্যায় প্রবণতাও দেওয়া হয়েছে । সেসব অনাচার থেকে আত্নরক্ষা করেই তো মানুষ মহাপুরস্কারের অধিকারী হবে । অপরপক্ষে, ফেরেশ্তাগণের মধ্যে আমি কোন মন্দ প্রবণতা দেইনি , তাই তারা কোন মন্দ কাজে লিপ্ত হয় না । অতপরঃ বাস্তবে তা দেখিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হারুত ও মারুত নামক দু'জন ফেরেশ্তাকে বাবেল নগরে প্রেরণ করা হয় । এই দুই ফেরেশ্তা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবহিত থাকার পরও অন্যায় প্রবণ মানব সমাজে বসবাস করে নানা মন্দকাজে জড়িয়ে পড়েন । তাদের কাছ থেকেই স্ত্রী লোকদের বশীভুত করা, স্বামী-স্ত্রীতে ঝগড়া লাগানো প্রভৃতি অপকর্মে ব্যবহৃত নানা তুকতাক মানূষ শিক্ষা লাভ করে । পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হযরত মূসা (আঃ) এর জমানাতেও যাদু-বিদ্যার ব্যাপক প্রচলন ছিল । যাদুকররা তখন শাসক শ্রেণীর মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলো । হযরত মূসা (আঃ) যখন ফেরআউনের দরবারে হাজির হয়ে আল্লাহ প্রদ্ত্ত বিশেষ মুজিজা প্রদর্শন করেন, তখন ফেরআউন তার দেশের বড় বড় সব যাদুকরদের ডেকে হযরত মূসা (আঃ) কে মোকাবেলা করার নির্দেশ দিয়েছিলো । কিন্তু আল্লাহর নবীর মুজিজার সামনে যাদুকরদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় । যাদুর ব্যাপক প্রসার ঘটেছিলো হযরত সুলায়মান আ. এর শাসনামলে । এ সময় জ্বিন ও মানুষের মধ্যে ব্যাপক মেলামেশা হত । হযরত সুলায়মান (আঃ) জ্বিনদের দ্বারও কাজ নিতেন । এই সুযোগে মানুষেরা দুষ্ট জ্বিনদের (কুরআনের ভাষায় শয়তান ) কাছ থেকে যাদুবিদ্যা আয়ত্ত করেছিলো । তখন থেকেই ইহুদীরা যাদুবিদ্যাকে তাদের ধর্মীয় উত্তরাধিকার রুপে গ্রহণ করে । ওদের রাব্বি বা ধর্মযাজকেরা সেনেগগ বা ধর্মমন্দিরগুলিকে যাদুবিদ্যার এক একটি অনুশীলন কেন্দ্রে পরিণত করেছিলো । ওরা এ মর্মে প্রচারণা চালাতো যে, হযরত সুলায়মান (আঃ) মানব-দানব নির্বিশেষে সকলকে যাদুর সাহয্যেই বশীভূত করে রেখেছিলেন । পবিত্র কুরআন ওদের দাবী প্রত্যাখান করে বলেছে যে, যাদু একটি কুফরি বিদ্যা । আল্লাহর নবী সুলায়মান (আঃ) এই কুফরিতে জড়িত হন নি । শয়তানরাই অর্থাৎ দুষ্ট জ্বিনরাই এই বিদ্যা চর্চ্চায় লিপ্ত ছিলো । সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ইহুদীরাই জ্বিন সাধন করে যাদুবিদ্যা আয়ত্ব করে এবং দুষ্ট জ্বিনদের সাহায্যে নিয়েই যাদু প্রয়োগ করে থাকে । পবিত্র কুরআনের শেষ দুটি সূরায় যাদুর প্রসঙ্গ এসেছে । সূরা ফালাকে গিরো লাগানোর ক্ষতি থেকে আল্লাহর পানাহ চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যা সরাসরি যাদু । হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, লবীদ ইবনুল আসাম নামীয় এক ইহুদী যাদুকর এবং তার দু্ই কন্যায় মিলে যাদু করলে হযরত নবী করিম (সাঃ) অসুস্হ হয়ে পড়েন । দীর্ঘ ছয়মাস তার এই অসুস্হতা অব্যাহত থাকে । অতঃপর হযরত জীবরাঈল (আঃ) এর আগমন হলো । তিনি বলে দিলেন যে, অমুক কূপের মধ্যে আপনার মাথার কয়েকগাছি কেশ দ্বারা ভাঙ্গা চিরূণীর মধ্যে গিরো লাগিয়ে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে । কাউকে পাঠিয়ে সেটি উঠিয়ে আনুন । হযরত নবী করীম (সাঃ) লোক পাঠিয়ে গিরো লাগানো চিরুণীটি উদ্ধার করে আনলেন । গিরোগুলি খুলে দেওয়া হলো এবং যাদুর সকল ক্রিয়া বিনষ্ট হয়ে গেলো । কুরআনের শেষ সূরা নাসে খান্নাসের কু-মন্ত্রণা থেকে আল্লাহ পানাহ চাইতে বলা হয়েছে । সেই খান্নাস কারা ? যারা মানুষের মনের মধ্যে নানা কু-মন্ত্রণা প্রবেশ করিয়ে দেয় । আর এরা জ্বিন এবং মানুষ উভয় প্রকারের মধ্যেই রয়েছে । উল্লেখ্য যে, শয়তান জ্বিন প্রজাতির মধ্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে । সূরা তওবার ৫০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, সেছিল জ্বিন প্রজাতির । অতঃপর আল্লাহতায়ালার নাফরমানি করেছে । মোটকথা, যাদু একটি শয়তানি বিদ্যা । এর প্রয়োগ দ্বারা নানা প্রকার অসাধ্য সাধন করা হয় । যুগ পরষ্পর ইহুদীর নিকট থেকে যাদুর চর্চ্চা বিশ্বময় বিস্তার লাভ করেছে । বৈজ্ঞানিক উন্নতির এই যুগেও যাদুর প্রয়োগ এবং অনিষ্টকরিতা থেমে নেই । এই ক্ষতিকর বিদ্যাটি আয়ত্ব এবং অন্যের উপর প্রয়োগ করতে গিয়ে এমনসব জঘণ্য ধরনের নোংরা কিছু অপকর্ম করতে হয় যা বর্ণনা করার মত নয় । তারপরও নিতান্ত শয়তান প্রকৃতির কিছু লোক যাদুবিদ্যা আয়ত্ব করে ও প্রয়োগ করে থাকে । যাদুর অনিষ্টকারিতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরআনের কিছু সংখ্যক আয়াত এবং হাদিস শরীফে দোয়া রয়েছে । মুমিন-মুসলমানগণ পক্ষে সেগুলি আয়ত্ব করে আত্নরক্ষা করার পথ খোলা রয়েছে । সূরা নেসার একখানা আয়াতে জ্বিবত ও তাগুতের উপর আস্হা বা বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে । হযরত ওমর (রাঃ) এই আয়াতের তফসীরে জ্বিবত অর্থ যাদু এবং তাগুত অর্থ শয়তান বলেছেন । হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর বর্ণনা , রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মানুষের সকল নেক আমল ধ্বংস করে দেয় সাতটি অপকর্ম, তন্মেধ্যে একটি হচ্ছে যাদু করা । বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে যে, বাজালা ইবনে আবদুহু বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট প্রেরীত এক ফরমানে হযরত ওমর (রাঃ) লিখেছিলেন- যারা মানুষকে যাদু করে ওদেরকে মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত কর । হযরত ওমর (রাঃ) এর এ ফরমান পেয়ে আমি নিজ হাতে দু্ই যাদুকরকে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেছি জাদুকর্ম, জ্যোতিষ ও দৈবকর্ম এবং এতদসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ইসলামের বিধান অনুবাদকের কথা জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহ্র নির্দেশ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করে চলার মধ্যেই দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কল্যাণ নিহিত। এ ছাড়া আর সকল মতের ও সকল পথের অনুসরণের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অমঙ্গল ও অশান্তির বীজ। জাদুকর্ম, দৈবকর্ম ও জ্যেতিষকর্ম চর্চা করা - যার মাধ্যমে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানতে পারার দাবি করা হয় এবং বিপদাপদ ও রোগ ব্যাধি দূর করা যায় বলে ধারণা করা হয় - এ সবই ইসলামী শরী‘আতে সুস্পষ্ট ভাবে হারাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের বিরোধী। অথচ এসব কাজ চর্চার মাধ্যমে এক-শ্রেণির মানুষ জনসাধারণকে রোগের চিকিৎসা, বিপদাপদ দূর করা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করছে। ফলে সংশ্লিষ্ট লোকজনের ঈমান, আমল ও আকীদা যেমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে, তেমনি এসব কর্ম-চর্চাকারীরা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার জাল বিস্তার করে সমাজকে অসুস্থ করে তুলছে। এরকম পরিস্থিতিতে অত্র বিষয়ের উপর অতি সংক্ষেপে প্রাঞ্জল ভাষায় লিখা শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহেমাহুল্লাহর লিখা ছোট্ট পুস্তিকাটি আমি অনুবাদ করি। আমার বিশ্বাস যারা আল্লাহ্কে ভয় করে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তারা অত্র বিষয়ের উপর পুস্তিকাটিতে প্রয়োজনীয় আদর্শ ও হেদায়াতের পথ খুঁজে পাবে। আল্লাহ গ্রন্থকার ও অনুবাদকের এ শ্রমটুকু কবুল করুন। আমীন॥ বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং দরুদ ও সালাম সেই মহান ব্যক্তির উপর বর্ষিত হোক যার পরে আর কোন নবী নেই। সাম্প্রতিক কালে জাদু ও দৈবকর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাধির চিকিৎসা করতে সক্ষম— এমন দাবিদার লোকদের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজের অশিক্ষিত শ্রেণির মূর্খতা আর নির্বুদ্ধিতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন দেশে তারা তাদের এ পেশাকে সম্প্রসারিত করে চলেছে। আমি তাই আল্লাহ্র দেয়া নির্দেশ পালন এবং বান্দাদের সঠিক পথে চলার উপদেশ পালনের লক্ষ্যে এতদুভয়ের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিম জনতার উপর যে গুরুতর বিপদ রয়েছে, সে সম্পর্কে আলোকপাত করতে চাই। কেননা এ উভয় কর্মে রয়েছে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য সত্ত্বার সাথে (নির্ভরতামূলক) সম্পর্কস্থাপন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশ লঙ্ঘন। তাই আমি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বলছি— সকল মুসলিম মনীষীদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ। আর যে কোন মুসলিম ব্যক্তিরই অধিকার রয়েছে যে, সে আভ্যন্তরীণ রোগের ডাক্তার কিংবা শৈল চিকিৎসক অথবা মানসিক রোগের ডাক্তার কিংবা অনুরূপ যে কারও কাছে যেতে পারে, যাতে তিনি তার রোগ-ব্যাধি চিহ্নিত করে চিকিৎসা শাস্ত্রে তার জ্ঞান অনুযায়ী শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত পথ্য দ্বারা তার চিকিৎসা করেন। কেননা এটা সাধারণ বৈধ পন্থাসমূহ অবলম্বনেরই অন্তর্গত। উপরন্তু এ ধরনের পন্থাবলম্বন আল্লাহর উপর নির্ভরতার পরিপন্থী নয়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা রোগ দিয়েছেন এবং সে রোগ নিরাময়ের ঔষধও বাতলে দিয়েছেন। যার জানার সে তা জেনেছে এবং যে জানে নি, এ পথ্য তার অজ্ঞাতই থেকে গেছে। অবশ্য আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দার উপর হারাম করেছেন এমন কোন বস্তুকে তার রোগ নিরাময়ের উপায় নির্ধারণ করেননি। সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সেই সব গণক, জ্যোতিষী ও দৈবজ্ঞদের কাছে যাওয়া বৈধ নয়, যারা দাবি করে যে, তাদের কাছে অসুস্থ ব্যক্তির রোগ চিহ্নিত করার গায়েবী জ্ঞান রয়েছে। তদ্রূপ অসুস্থ ব্যক্তির জন্যও এসব গণক ও দৈবজ্ঞদের দেয়া তথ্য ও সংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা বৈধ নয়। কেননা তারা গায়েবী বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করেই এসব বলে থাকে কিংবা তারা তাদের ঈপ্সিত বিষয়ে সাহায্য নেয়ার জন্য জিনদের হাযির করে থাকে। এদের ব্যাপারে শর‘য়ী হুকুম হল— এরা কুফুরী ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত যদি তারা গায়েবী জ্ঞান আছে বলে দাবি করে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ﻣﻦ ﺃﺗﻰ ﻋﺮﺍﻓﺎ ﻓﺴﺄﻟﻪ ﻋﻦ ﺷﻲﺀ ﻟﻢ ﺗﻘﺒﻞ ﻟﻪ ﺻﻼﺓ ﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﻟﻴﻠﺔ অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞের কাছে এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না’’। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " ﻣﻦ ﺃﺗﻰ ﻛﺎﻫﻨﺎ ﻓﺼﺪﻗﻪ ﺑﻤﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ ﺑﻤﺎ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যের প্রতি কুফুরী করল।’’ এ হাদিসটি আবু দাউদ ও সুনানের চারটি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর হাকেম হাদিসটিকে সহিহ বলে অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন। " ﻣﻦ ﺃﺗﻰ ﻋﺮﺍﻓﺎ ﺃﻭ ﻛﺎﻫﻨﺎ ﻓﺼﺪﻗﻪ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ ﺑﻤﺎ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ " অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে আসে এবং তার বক্তব্যকে সত্য বলে মেনে নেয়, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল।’’ ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " ﻟﻴﺲ ﻣﻨﺎ ﻣﻦ ﺗﻄﻴﺮ ﺃﻭ ﺗﻄﻴﺮ ﻟﻪ، ﺃﻭ ﺗﻜﻬﻦ ﺃﻭ ﺗﻜﻬﻦ ﻟﻪ، ﺃﻭ ﺳﺤﺮ ﺃﻭ ﺳﺤﺮ ﻟﻪ ﻭﻣﻦ ﺃﺗﻰ ﻛﺎﻫﻨﺎ ﻓﺼﺪﻗﻪ ﺑﻤﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ ﺑﻤﺎ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ " অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছুর ভিত্তিতে কোন কিছু অশুভ বলে ঘোষণা দেয় কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] অশুভ বলে ঘোষণা দেয়া হয়; যে ব্যক্তি গণনা করে কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] গণনা করা হয়; যে ব্যক্তি জাদু করে কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] জাদু করা হয়— তাদের কেউই আমাদের অন্তর্গত নয়। আর যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে এসে তার বক্তব্যকে সত্য মনে করে, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল’’। হাদিসটি বায্যার উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। উপরে বর্ণিত হাদিসসমূহে দৈব জ্ঞানের দাবিদার, গণক, জাদুকর ও তদনুরূপ লোকদের কাছে আসতে এবং তাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে ও তাদের বক্তব্য সত্য বলে বিশ্বাস করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ভয় প্রদর্শন ও করা হয়েছে। সুতরাং শাসকবর্গ ও মানুষকে সৎ কাজের আদেশদানের এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ— যাদের হাতে ক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই উচিত গণক, দৈব জ্ঞানের দাবিদার ও অনুরূপ পেশাজীবীদের কাছে আসতে লোকদের নিষেধ করা, হাটে-বাজারে ও অন্যত্র যে কোন ধরনের দৈবজ্ঞান আদান প্রদান নিষিদ্ধ করা, দৈবজ্ঞ ও তাদের কাছে যারা আসে সবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। তাদের কথা কোন কোন ব্যাপারে সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ার ফলে এবং এক শ্রেণির লোক তাদের কাছে বেশি আনাগোনা করার ফলে তাদের দ্বারা কারো প্রতারিত হওয়া ঠিক নয়। কারণ ঐ শ্রেণির লোকেরা মূলত মূর্খ। তাই তাদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া অনুচিত। কেননা এতে গুরুতর পাপ, মহাবিপদ ও খারাপ পরিণতি থাকায় এবং যারা এসব কাজে লিপ্ত তারা মিথ্যাবাদী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক হওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসতে, প্রশ্ন করতে এবং তাদেরকে সত্যবাদী হিসাবে প্রতিপন্ন করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে আলোচ্য হাদিসসমূহে এও প্রমাণিত হয় যে, গণক ও জাদুকররা কাফির। কেননা তারা অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার দাবি করছে, যা কিনা কুফুরী। তদুপরি তারা আল্লাহ্কে ছেড়ে জিনের সেবা ও ইবাদাত-এর মাধ্যমেই তাদের উদ্দেশ্য সাধন করছে। অথচ এ কাজও কুফুরী এবং আল্লাহর সাথে শরীক করারই নামান্তর। যে ব্যক্তি তাদের অদৃশ্য জ্ঞানের দাবিকে সত্য প্রতিপন্ন করে সে ও তাদেরই অনুরূপ। আর যে সব ব্যক্তি এ বিষয়গুলো এমন লোকদের কাছ থেকে গ্রহণ করে, যারা তা পরস্পর আদান-প্রদান করে থাকে, সে সব ব্যক্তির সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সম্পর্ক নেই। এসব লোক যাকে চিকিৎসা বলে ধারণা করে থাকে, তাকে মেনে নেয়া ও গ্রহণ করা কোন মুসলিমের জন্য জায়েয নেই। যেমন বিড়-বিড় করে মন্ত্রোচ্চারণ কিংবা পানিতে ইস্পাত চুবানো ইত্যাদি আরও অনেক কুসংস্কার যা তারা করে থাকে-কোনটাই জায়েয নয়। কেননা তা দৈবকর্ম চর্চা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করারই নামান্তর। এসব ব্যাপারগুলোকে যারা মেনে নেয়, তারা মূলত এ লোকদেরকে তাদের বাতিল ও কুফুরী কাজে সহযোগিতা করলো। অনুরূপভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য জ্যোতিষী ও দৈব জ্ঞানের দাবিদারদের কাছে গিয়ে একথা জিজ্ঞেস করা জায়েয নেই যে, তার ছেলে কিংবা তার কোন আত্মীয় কাকে বিয়ে করবে? কিংবা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের উভয়ের পরিবারে ভালবাসা ও মিল-মহব্বত হবে নাকি শত্রুতা ও দূরত্বের সৃষ্টি হবে ইত্যাদি। কেননা এসব সে গায়েবী ও অদৃশ্য জ্ঞানেরই অন্তর্গত যা শুধু মহান আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া আর কেউ জানে না। জাদু বিদ্যা হারাম ও কুফুরী যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা সূরা আল-বাকারায় হারুত- মারুত নামক দুই ফেরেশতার ব্যাপারে বলেছেন : ﴿ ﻭَﻣَﺎ ﻳُﻌَﻠِّﻤَﺎﻥِ ﻣِﻦْ ﺃَﺣَﺪٍ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮﻻ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﺤْﻦُ ﻓِﺘْﻨَﺔٌ ﻓَﻼ ﺗَﻜْﻔُﺮْ ﻓَﻴَﺘَﻌَﻠَّﻤُﻮﻥَ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣَﺎ ﻳُﻔَﺮِّﻗُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤَﺮْﺀِ ﻭَﺯَﻭْﺟِﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻫُﻢْ ﺑِﻀَﺎﺭِّﻳﻦَ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﺃَﺣَﺪٍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻳَﺘَﻌَﻠَّﻤُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﻳَﻀُﺮُّﻫُﻢْ ﻭَﻻ ﻳَﻨْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻋَﻠِﻤُﻮﺍ ﻟَﻤَﻦِ ﺍﺷْﺘَﺮَﺍﻩُ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦْ ﺧَﻼﻕٍ ﻭَﻟَﺒِﺌْﺲَ ﻣَﺎ ﺷَﺮَﻭْﺍ ﺑِﻪِ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﴾ অর্থ : ‘‘তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা নিছক একটি পরীক্ষা মাত্র; কাজেই তুমি কুফুরী করো না। তা সত্ত্বেও তারা ফেরেশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়। অথচ তারা আল্লাহ্র আদেশ ছাড়া তদ্বারা কারো অনিষ্ট করতে পারত না। এতদ্সত্ত্বেও তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসতো না। তারা ভালভাবে জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত! [সূরা আল-বাকারাহ্: ১০২] এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, জাদু বিদ্যা কুফুরী এবং জাদুকররা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে। আয়াতটি দ্বারা আরও প্রমাণিত যে, যে জাদু ভাল-মন্দের আসল কার্যকারণ নয়, বরং আল্লাহ্র পূর্বনির্ধারিত জাগতিক নিয়ম ও নির্দেশেই মূলত তা প্রভাব বিস্তার করে থাকে। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল ও মন্দ সৃষ্টি করেন। এসমস্ত মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী ব্যক্তিগণ যারা মুশরিকদের থেকে এ ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছে এবং এর মাধ্যমে দুর্বল-চিত্তের লোকদের উপর বিভ্রান্তির প্রহেলিকা সৃষ্টি করেছে— তাদের দ্বারা সাধিত ক্ষতি ইতিমধ্যেই বিশাল আকার ধারণ করেছে। অথচ স্মরণ রাখা দরকার আমরা তো আল্লাহ্রই জন্য এবং আল্লাহ্র দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। তিনিই তো আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম তত্ত্বাবধায়ক। অনুরূপভাবে আয়াতে কারীমাতে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, যারা জাদু শিখে তারা মূলত এমন বিদ্যাই শিখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোন উপকারে আসে না, আর আল্লাহ্র কাছে তাদের কিছুই পাওয়ার নেই। এটা অত্যন্ত বড় সতর্কবাণী, যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার ইঙ্গিতই বহন করছে আর এও বুঝা যাচ্ছে যে, তারা অত্যন্ত নগণ্য মূল্যে নিজেদেরকে বিকিয়ে দিয়েছে তাই আল্লাহ্ তা‘আলা এ- ব্যাপারে তাদের নিন্দা করেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন : ﴿ ﻭَﻟَﺒِﺌْﺲَ ﻣَﺎ ﺷَﺮَﻭْﺍ ﺑِﻪِ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﴾ অর্থ : ‘‘যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত!” [সূরা আল- বাকারাহ্ : ১০২] জাদুকর, গণক এবং সকল প্রকার ভোজবাজীকর ও ভেল্কিবাজদের অমঙ্গল থেকে আমরা আল্লাহ্র কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। আমরা তাঁর কাছে এও কামনা করি যে, তিনি যেন এসব লোকের ক্ষতি থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করেন এবং এসব লোক সম্পর্কে সতর্ক করা ও তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্র হুকুম কার্যকর করার জন্য মুসলিম শাসকদের তাওফিক দান করেন। যাতে তাদের ক্ষতি ও নিকৃষ্ট কাজ হতে আল্লাহ্র বান্দাগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি দানশীল মহান। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি স্বীয় রহমাত ও অনুগ্রহস্বরূপ এবং তাঁর নিয়ামতের পূর্ণতা সাধনকল্পে তাদের জন্য এমন সব ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যদ্বারা জাদুকর্ম সংঘটিত হওয়ার পূর্বে এর অমঙ্গল থেকে তারা রক্ষা পেতে পারে এবং এমন পদ্ধতি ও তাদের জন্য বর্ণনা করে দিয়েছেন যাতে জাদুকর্ম সংঘটিত হওয়ার পর তারা এর চিকিৎসা করতে পারে। • যা দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পূর্বে এর বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং শরী‘আতে বৈধ এমন যে সব বস্তু দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পর এর চিকিৎসা করা যায়-সে সব কিছু নিচে বর্ণনা করা হলো। যে সব বস্তু দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই জাদুর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী হল শরী‘আত সম্মত যিক্র-আযকার এবং হাদিসে বর্ণিত যাবতীয় দো‘আসমূহ। আর এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক ফরয নামাযের সালাম ফিরিয়ে শরী‘আত অনুমোদিত যিক্র-আযকার পাঠের পর এবং নিদ্রা যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়া। আয়াতুল কুরসী কুরআন কারীমের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত। আয়াতটি নীচে দেয়া হলো: ﴿ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻲُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻻ ﺗَﺄْﺧُﺬُﻩُ ﺳِﻨَﺔٌ ﻭَﻻ ﻧَﻮْﻡٌ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣَﻦْ ﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺸْﻔَﻊُ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻬُﻢْ ﻭَﻻ ﻳُﺤِﻴﻄُﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﻣِﻦْ ﻋِﻠْﻤِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﺮْﺳِﻴُّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻭَﻻ ﻳَﺆُﻭﺩُﻩُ ﺣِﻔْﻈُﻬُﻤَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﻠِﻲُّ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ ﴾ অর্থ : ‘‘আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন হক মাবুদ নেই, তিনি জীবিত, সবার তত্ত্বাবধায়ক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া ? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু রয়েছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞাত বিষয় হতে কোন কিছুকেই তারা আয়ত্তাধীন করতে পারে না। কিন্তু কোন বিষয় যদি তিনি নিজেই জানাতে চান, তবে অন্য কথা। তাঁর কুরসী সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য কষ্ট সাধ্য নয়। তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহান।” [সূরা আল-বাকারা : ২৫৫] এসব যিক্র ও দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ও ﻗﻞ ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻔﻠﻖ এবং ﻗﻞ ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ পড়া। এই সূরাগুলো ফজরের পর দিবসের প্রথম ভাগে ও মাগরিবের পর রাত্রির শুরুতে এবং ঘুমের সময় তিনবার করে পড়া। এছাড়া রাত্রির প্রথমভাগে সূরা আল-বাকারার নিম্নলিখিত শেষ দুই আয়াত পড়া। আয়াতদ্বয় হলো : ﴿ ﺁﻣَﻦَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻛُﻞٌّ ﺁﻣَﻦَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﻼﺋِﻜَﺘِﻪِ ﻭَﻛُﺘُﺒِﻪِ ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِ ﻻ ﻧُﻔَﺮِّﻕُ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺭُﺳُﻠِﻪِ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﻭَﺃَﻃَﻌْﻨَﺎ ﻏُﻔْﺮَﺍﻧَﻚَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺼِﻴﺮُ * ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻧَﻔْﺴﺎً ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳْﻌَﻬَﺎ ﻟَﻬَﺎ ﻣَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺍﻛْﺘَﺴَﺒَﺖْ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻻ ﺗُﺆَﺍﺧِﺬْﻧَﺎ ﺇِﻥْ ﻧَﺴِﻴﻨَﺎ ﺃَﻭْ ﺃَﺧْﻄَﺄْﻧَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻻ ﺗَﺤْﻤِﻞْ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺇِﺻْﺮﺍً ﻛَﻤَﺎ ﺣَﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻨَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻻ ﺗُﺤَﻤِّﻠْﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻻ ﻃَﺎﻗَﺔَ ﻟَﻨَﺎ ﺑِﻪِ ﻭَﺍﻋْﻒُ ﻋَﻨَّﺎ ﻭَﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨَﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﻣَﻮْﻻﻧَﺎ ﻓَﺎﻧْﺼُﺮْﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ ﴾ অর্থ: ‘‘রাসূল ঈমান এনেছেন সে সব বিষয়ের প্রতি যা তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মু’মিনগণও। সকলেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে তারতম্য করি না। আর এও বলে : আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! তোমার ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ্ কাউকে তাঁর সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। যে পুণ্য সে অর্জন করে এর প্রতিফল তার জন্য এবং সে যে মন্দ কাজ করে সে কাজের প্রতিফল ও তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের পালনকর্তা ! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! আর আমাদের উপর এমন ভারী বোঝা অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছো। হে আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপর এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। [আল-বাকারাহ্ : ২৮৫-২৮৬] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ-সূত্রে বর্ণিত : ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺁﻳﺔ ﺍﻟﻜﺮﺳﻲ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﺎﻓﻆ ﻭﻻ ﻳﻘﺮﺑﻪ ﺷﻴﻄﺎﻥ ﺣﺘﻰ ﻳﺼﺒﺢ অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, ভোর হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তার উপর একজন হেফাযতকারী নিয়োজিত থাকে এবং শয়তান তার নিকটবর্তী হয় না।’’ সহিহ সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এও বর্ণিত যে, তিনি বলেন: ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺍﻵﻳﺘﻴﻦ ﻣﻦ ﺁﺧﺮ ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻛﻔﺘﺎﻩ অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষের দু’টি আয়াত পাঠ করবে, ওটাই তার জন্য যথেষ্ট।’’ হাদিসটির মর্মার্থ হলো : ‘‘সকল অনিষ্ট হতে তার রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট’’। • জাদুর ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়ার দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে: রাতদিন এবং কোন বসতবাড়ি কিংবা মরুভূমিতে অথবা জলে কিংবা অন্তরীক্ষে অবস্থানের সময় নীচের দো‘আটি বেশি বেশি পাঠ করবে: ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺎﺕِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ অর্থ : ‘‘আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাণী দ্বারা তাঁর নিকট আমি সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ﻣﻦ ﻧﺰﻝ ﻣﻨﺰﻻ ﻓﻘﺎﻝ : ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺎﺕِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﻟﻢ ﻳﻀﺮﻩ ﺷﻲﺀ ﺣﺘﻰ ﻳﺮﺗﺤﻞ ﻣﻦ ﻣﻨﺰﻟﻪ ﺫﻟﻚ অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করার পর বলে: ‘আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাণী দ্বারা তাঁর নিকট আমি সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’— সে ঐ স্থান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত কোন কিছুই তার ক্ষতি কারতে পারবে না’’। এসব দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে দিবসের প্রথম ভাগে ও রজনীর শুরুতে নীচের দো‘আটি তিনবার পাঠ করা : ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّ ﻣَﻊَ ﺍﺳْﻤِﻪِ ﺷَﻲْﺀٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﻟَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ অর্থ : ‘‘আমি সেই আল্লাহ্র নামে আরম্ভ করছি, যার নামে শুরু করলে আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই কোনরূপ অনিষ্ট সাধন করতে পারেনা। বস্তুত তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা’’। কেননা সহিহ সূত্রানুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং এটাই প্রত্যেক মন্দ হতে নিরাপদ থাকার কারণ। এ সকল যিক্র ও দো‘আ জাদু ও অনুরূপ অপকর্মের অমঙ্গল থেকে পরিত্রাণ পাবার সর্বোত্তম পন্থা তাদের জন্য যারা সততা, ঈমান, আল্লাহ্র প্রতি আস্থা ও নির্ভরতা সহকারে এবং এসব দো‘আর অর্থের প্রতি আন্তরিকতা রেখে এগুলো চর্চা করে। এ একই দো‘আ সমূহ জাদু সংঘটিত হবার পরও জাদুর ক্রিয়া দূর করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। অবশ্য পাশাপাশি আল্লাহ্র কাছে বেশি বেশি বিনয় প্রকাশ এবং বিপদ ও ক্ষতি দূর করার জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আর জাদু ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বিশুদ্ধ দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে নীচের দো‘আটি তিনবার পাঠ করা। এটি দ্বারা তিনি তাঁর সাহাবিদেরকে ঝাড়ফুঁক করতেন। দো‘আটি হল: ﺍﻟﻠّٰﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﺫْﻫِﺐِ ﺍﻟﺒَﺄﺱَ ﻭَﺍﺷْﻒِ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻲ، ﻻَ ﺷِﻔَﺎﺀَ ﺇِﻟَّﺎ ﺷِﻔَﺎﺅُﻙَ، ﺷِﻔَﺎﺀً ﻻَ ﻳُﻐَﺎﺩِﺭُ ﺳَﻘَﻤًﺎ অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ্! যিনি মানুষের পালন কর্তা ! বিপদ দূর করে দাও এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই আরোগ্য-দাতা। তোমার আরোগ্য দান ছাড়া কোন আরোগ্য লাভই সম্ভব নয়। এমন আরোগ্য দাও যার পরে আর কোন রোগ-ব্যাধি থাকবে না’’। এছাড়া জিবরাইল আলাইহিস্ সালাম যে দো‘আ পাঠ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঝেড়েছিলেন, তা হল: ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺭْﻗِﻴﻚَ، ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻳُﺆْﺫِﻳﻚَ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻛُﻞِّ ﻧَﻔْﺲٍ ﺃَﻭْ ﻋَﻴْﻦٍ ﺣَﺎﺳِﺪٍ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺸْﻔِﻴﻚَ، ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺭْﻗِﻴﻚَ অর্থ : ‘‘আল্লাহ্র নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি, এমন সকল বস্তু হতে যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আর প্রত্যেক প্রাণীর অমঙ্গল হতে ও ঈর্ষাকারীর বদ নজর হতে আল্লাহ্ আপনাকে শিফা দান করুন। আল্লাহ্র নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি’’। এ দো‘আটিও তিনবার পাঠ করতে হবে। জাদু-ক্রিয়া সংঘটিত হবার পর জাদুর কারণে স্ত্রী সহবাস হতে বাধাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য খুবই উপকারী চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সাতটি সবুজ বরই পাতা নিয়ে পাথর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে তা ঘষে কোন পাত্রে রাখা এবং গোসলের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পানি এতে ঢেলে তাতে আয়াতুল কুরসী, সূরা আল- কাফিরূন, সূরা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, সূরা কুল আ‘উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব এবং সূরা ক্বুল আ‘উযু বিরাব্বিন নাস পড়বে। এর সাথে সূরা আল- আ‘রাফের জাদুর আয়াতগুলোও পাঠ করবে। সে আয়াতগুলো হল: ﴿ ﻭَﺃَﻭْﺣَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺃَﻥْ ﺃَﻟْﻖِ ﻋَﺼَﺎﻙَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫِﻲَ ﺗَﻠْﻘَﻒُ ﻣَﺎ ﻳَﺄْﻓِﻜُﻮﻥَ ‏( 117 ‏) ﻓَﻮَﻗَﻊَ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻭَﺑَﻄَﻞَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ‏( 118 ‏) ﻓَﻐُﻠِﺒُﻮﺍ ﻫُﻨَﺎﻟِﻚَ ﻭَﺍﻧْﻘَﻠَﺒُﻮﺍ ﺻَﺎﻏِﺮِﻳﻦَ ‏( 119 ) ﴾ অর্থ : ‘‘আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম, ‘‘এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা’’। সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল যা তারা বনিয়েছিল জাদু বলে। ফলে সত্য প্রমাণিত হলো এবং বাতিল হয়ে গেল তারা যা কিছু করছিল। সুতরাং তারা সেখানে পরাভূত হলো ও লাঞ্ছিত হয়ে ফিরল’’। [সূরা আল-আ’রাফ : ১১৭-১১৯] অনুরূপভাবে সূরা ইউনুসের নিম্নলিখিত আয়াতগুলোও পড়বে : ﴿ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻓِﺮْﻋَﻮْﻥُ ﺍﺋْﺘُﻮﻧِﻲ ﺑِﻜُﻞِّ ﺳَﺎﺣِﺮٍ ﻋَﻠِﻴﻢٍ ‏( 79 ‏) ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﺎﺀَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢْ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺃَﻟْﻘُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻣُﻠْﻘُﻮﻥَ ‏( 80 ‏) ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺃَﻟْﻘَﻮْﺍ ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻣَﺎ ﺟِﺌْﺘُﻢْ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺴِّﺤْﺮُ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺳَﻴُﺒْﻄِﻠُﻪُ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﺼْﻠِﺢُ ﻋَﻤَﻞَ ﺍﻟْﻤُﻔْﺴِﺪِﻳﻦَ ‏( 81 ‏) ﻭَﻳُﺤِﻖُّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﺤَﻖَّ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺮِﻩَ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣُﻮﻥَ ‏( 82 ) ﴾ অর্থ : ‘‘আর ফের‘আউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ জাদুকরদেরকে। তারপর যখন জাদুকররা এলো, মূসা তাদেরকে বলল: তোমাদের যা কিছু নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল: যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই জাদু — নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এসব ভণ্ডুল করে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকে সংশোধন করেন না। আল্লাহ্ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন, যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়’’। [সূরা ইউনুস: ৭৯-৮২] পরিশেষে সূরা ত্বাহার নিম্নের আয়াতগুলো পড়বে: ﴿ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺇِﻣَّﺎ ﺃَﻥْ ﺗُﻠْﻘِﻲَ ﻭَﺇِﻣَّﺎ ﺃَﻥْ ﻧَﻜُﻮﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﻟْﻘَﻰ ‏( 65 ‏) ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻞْ ﺃَﻟْﻘُﻮﺍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣِﺒَﺎﻟُﻬُﻢْ ﻭَﻋِﺼِﻴُّﻬُﻢْ ﻳُﺨَﻴَّﻞُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣِﻦْ ﺳِﺤْﺮِﻫِﻢْ ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﺗَﺴْﻌَﻰ ‏( 66 ‏) ﻓَﺄَﻭْﺟَﺲَ ﻓِﻲ ﻧَﻔْﺴِﻪِ ﺧِﻴﻔَﺔً ﻣُﻮﺳَﻰ ‏( 67 ‏) ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻻ ﺗَﺨَﻒْ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﻰ ‏( 68 ‏) ﻭَﺃَﻟْﻖِ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﻤِﻴﻨِﻚَ ﺗَﻠْﻘَﻒْ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌُﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺻَﻨَﻌُﻮﺍ ﻛَﻴْﺪُ ﺳَﺎﺣِﺮٍ ﻭَﻻ ﻳُﻔْﻠِﺢُ ﺍﻟﺴَّﺎﺣِﺮُ ﺣَﻴْﺚُ ﺃَﺗَﻰ ﴾ অর্থ: ‘‘তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বলল: বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের জাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। এতে মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললাম, ভয় পেয়ো না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তা তুমি নিক্ষেপ কর। তারা যা কিছু করেছে এটা তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তাতো কেবল জাদুকরের কলাকৌশল। জাদুকর যেখানেই আসুক সফল হবে না’’। [সূরা ত্বাহা : ৬৫-৬৯] উপরোক্ত আয়াতসমূহ পানিতে পাঠ করার পর তা হতে তিন কোষ পরিমাণ পান করবে এবং অবশিষ্টাংশ দিয়ে গোসল করবে। আল্লাহ চাহে- তো এর দ্বারা রোগ দূর হবে। প্রয়োজনে রোগের উপসম হওয়া পর্যন্ত দুই বা ততোধিকবার এ চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে। জাদুর সর্বোত্তম চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ভূমি, পাহাড় কিংবা অন্য কোথাও জাদুর স্থান সম্পর্কে অবগত হওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা। তা জানতে পারলে এবং বের করে নষ্ট করে ফেললে জাদু নিষ্ফল হয়ে যাবে। জাদু হতে রক্ষা পাওয়ার এবং এর চিকিৎসার এই বিষয়গুলো এখানে বর্ণনা করা হলো। আল্লাহ্ তাওফিক ও সামর্থ্য দেয়ার মালিক। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, জাদু-ক্রিয়ার মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা যা কিনা যবেহ কিংবা তদনুরূপ কোন ইবাদাতের মাধ্যমে জিনের নৈকট্য হাসিলেরই নামান্তর— তা কোনক্রমেই জায়েয নয়। কেননা তা হচ্ছে মূলত শয়তানের কাজ। বরং তা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্গত। অতএব এমন কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। অনুরূপভাবে গণক, দৈব জ্ঞানের দাবিদার ও বাজীকরদেরকে প্রশ্ন করে তাদের বাতিয়ে দেয়া পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা গ্রহণও জায়েজ নাই। কেননা তারা গায়েবী জ্ঞানের দাবি করে এবং মানুষের কাছে তা হেঁয়ালিপূর্ণ করে তুলে ধরে। শুরুতেই বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসতে, তাদের কাছে কোন কিছু চাইতে ও তাদেরকে সত্য বলে মানতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত— তাঁকে ‘‘নাশরা’’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটা শয়তানের কাজ। ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ উত্তম সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ‘নাশরা’ হচ্ছে জাদুকৃত ব্যক্তি থেকে জাদুর ক্রিয়া দূর করা। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একথার অর্থ হল জাহেলি যুগের সে ‘নাশরা’ যা লোকজনের মধ্যে প্রচলিত ছিল। আর তা হল— জাদুকরকে জাদু দূর করার জন্য অনুরোধ করা কিংবা অন্য জাদুকরের কাছে গিয়ে অনুরূপ জাদু দিয়ে জাদুর ক্রিয়া নষ্ট করা। আর শর‘য়ী যিক্র ও দো‘আ এবং মুবাহ ঔষধ-পত্র দ্বারা জাদু দূর করায় কোন অসুবিধা নেই। সে আলোচনা ইতিপূর্বেই করা হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রাহেমাহুল্লাহ ও ‘ফাতহুল মাজীদ’ গ্রন্থে শেখ আবদুর রহমান ইবন হাসান রাহেমাহুল্লাহ এবং আরও অনেক আলেম এ ধরনের কথাই বলেছেন। পরিশেষে আল্লাহ্র কছে প্রার্থনা জানাই মুসলিমদেরকে যেন প্রত্যেক মন্দ ও খারাপি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দেন এবং তাদের দ্বীনকে হেফাজত করেন, তাদেরকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন এবং শরী‘আত বিরোধী প্রত্যেক বস্তু থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। ওয়া সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামা ‘আলা ‘আবদিহী ওয়া রাসূলিহী মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়াসাল্লাম॥ সংকলন: শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায (রহ.) অনুবাদ: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

2651 views

Related Questions