কৃমিনাশক?
2 Answers
আপনার পেটে যদি কৃমি হয় তাহলে আপনি নিজেই কিছু লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন। যেমন: অন্ত্রে বেশি কেঁচো কৃমি থাকলে অস্বস্তিভাব, পেটফাপা, পেট ফুলে ওঠা, বদহজম, ক্ষুধামন্দা বা অরুচি, বমি বমি ভাব, ওজন কমে যাওয়া, পাতলা পায়খানা, আমমিশ্রিত মল, শুকনো কাশি, শ্বাসপ্রশ্বাসে দুর্গন্ধ, যকৃত প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে৷ এছাড়া দুর্ভাগ্য বশত ৩% ক্ষেত্রে মারাত্মক যে সমস্যা হতে পারে:- খুব বেশি কৃমি আক্রান্ত হলে দু একটি কৃমি মুখ বা পায়খানা দিয়ে বাহির হয়ে আসতে দেখা যায়। যে কোন সময় পিত্তনালীতে গিয়ে নালী বন্ধ করে দিতে পারে। অগ্ন্যাশয় নালীতে গিয়ে নালী বন্ধ করে জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এপেন্ডিসে গিয়ে আটকে যেয়ে এপেন্ডিসাইটিস এর সৃষ্টি করতে পারে৷ কৃমির কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কম শোষিত হয়, ফলে ভিটামিন ‘এ’র অভাবজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন ত্বক, অন্ত্রের অ্যাপিথেলিয়াম ও চোখের ক্ষতি হয়। এরপরও যদি ভালভাবে নিশ্চিত না হতে পারেন তা হলে আপনার নিচের পরীক্ষা করে নিতে পারেন: - পায়খানা , প্রস্রাব এবং রক্ত পরীক্ষা করে কৃমির ডিমের উপস্থিতি সনাক্ত করে নিশ্চিত হতে পারেন। চিকিৎসা : ------ চিকিৎসকরা যে সকল ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন : - মেবেন্ডাজল ( mebendazole ) – ১ টা করে দিনে দুই বার তিন দিন — অথবা লিভামিজল ( levamisole ) – অথবা পাইপেরাজিন ( piperazine ) গ্রুপের ঔষধ। এই ঔষধ টি এক ধরণের পাউডার জাতীয় বিধায় পানি বা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হয় অথবা ট্যাবলেট হিসাবে চার গ্রাম একটি বড়ি খেতে হয় । সবচেয়ে ভাল স্কয়ার কোম্পানির Almex 400 mg ট্যাবলেট । প্রথম ডোজ হলো ১ পিস, রাতে খাওয়ার পর কিংবা সকালে খালি পেটে চুষে খেতে হবে। এর ১ সপ্তাহ পর আর একটা, এর ৩ মাস পর রেগুলার একটা করে খেতে পারেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কম পাওয়ারের ঔষধ দিতে হয়। প্রতিকার------ ১) মল নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে। ২) খাবার তৈরি, পরিবেশন এবং খাওয়ার পূর্বে সাবান দিয়ে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। ৩) ফল মুল বা কাঁচা সবজি ভাল ভাবে ধুইয়ে তারপর খেতে হবে। ৪) মল ত্যাগের পর সাবান বা ছাই দিয়ে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। ৫) নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার জামা-কাপড় পড়া এবং নখ বড় হবার আগেই অবশ্যই কেটে ফেলা। কারণ বড় নখের ভেতর কৃমির ডিম ঢুকে থাকে। ৬) প্রতি চার মাস পর পর পরিবারের সকলকে বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার কৃমির ঔষধ খাওয়ানো উচিৎ। ৭) বাড়ির একজনের কৃমি থাকলে সকলেরই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়ির সবাইকে কৃমির ঔষধ খেতে হবে, বাড়ির কাজের মানুষটিও যেন বাদ না পরে।